কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ অক্টোবর ২০২৩, ০২:১২ পিএম
আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২৩, ০২:২২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

আনসারকে গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেওয়া আতঙ্কের বিষয় : ১২ দলীয় জোট

১২ দলীয় জোটের লোগো। গ্রাফিক্স : কালবেলা
১২ দলীয় জোটের লোগো। গ্রাফিক্স : কালবেলা

১২ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা এক বিবৃতিতে বলেছেন, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের পুলিশের মতো গ্রেপ্তার করার ক্ষমতা প্রদান করা হবে। পুলিশের মতো আনসারও যাকে খুশি গ্রেপ্তার করতে পারবে। এমন বিধান রেখে ‘আনসার ব্যাটালিয়ন বিল, ২০২৩’ জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। অথচ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তার জন্য আনসার বাহিনী তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু এই বিল পাস হলে পুলিশ যা করে, আনসার বাহিনীও তা করতে পারবে ফলে দেশে স্বৈরতন্ত্র পাকাপোক্ত করতে আওয়ামী সরকারের দমনপীড়ন ক্ষমতা দ্বিগুণ বেড়ে যাবে। সেই সঙ্গে অবৈধ শেখ হাসিনা সরকার বাংলাদেশকে উত্তর কোরিয়া বানানোর পথে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।

বুধবার (২৫ অক্টোবর) জোটের শীর্ষ নেতারা এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন। নেতারা অবিলম্বে অসদুদ্দেশ্যে প্রণীত এই ‘আনসার ব্যাটালিয়ন বিল’টি প্রত্যাহার করে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

নেতারা মনে করেন, পুলিশের মতো অপরাধ তদন্ত করার ক্ষমতা পেলে আনসার বাহিনীও ফৌজদারি মামলা তদন্ত করার ক্ষমতা পাবে যা বর্তমানে শুধু পুলিশের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়। তদন্ত করার জন্য পুলিশের মতো আরেকটি সমান্তরাল বাহিনী গঠন করা হলে তা পুলিশ বাহিনীর কাছেও অগ্রহণযোগ্য বিবেচিত হবে। এই বিলটি বাস্তবায়ন করা মোটেই উচিত হবে না। এটি হবে বিরোধী দল দমনে এবং গণতন্ত্রকে কবরস্থানে পাঠানোর আরেকটি ভয়ংকর পদক্ষেপ।

নেতারা বলেন, এই আওয়ামী লীগ সরকার ১৯৭২ সালে রাজনৈতিক দলের কার্যক্রমে বাধাদান করা এবং নিষ্ঠুরভাবে দমনপীড়নের উদ্দেশ্যে রক্ষী বাহিনী নামে একটি আধা সামরিক বাহিনী গঠন করেছিল। রক্ষী বাহিনী হাজার হাজার বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীকে আটক নির্যাতন ও গুম খুনের মতো ঘটনা ঘটিয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর খোলসে বিরোধীদলকে দমন করার পরিণতি অতীতে ভালো হয়নি ভবিষ্যতেও হবেনা।

তারা আরও বলেন, আমরা সরকারকে স্বাধীনতার চেতনা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সম্মান করে আনসার বাহিনীকে আরেকটি পুলিশ বাহিনী বানানোর দুরভিসন্ধিমূলক কার্যক্রম থেকে সরে আসার আহবান জানাচ্ছি। আনসার বাহিনীকে পুলিশের মতো ক্ষমতা দিলে তা গণতন্ত্র, বিরোধীদল এবং জনগণকে দমনপীড়ন করার আরেকটি নতুন কলঙ্কিত ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত হবে।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী ১২ দলীয় জোট প্রধান মোস্তফা জামাল হায়দার, জোটের মুখপাত্র ও কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল অব. সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক, বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান ১২দলীয় জোটের সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা, বাংলাদেশ এলডিপির মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মুফতি গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বি এম এল)-এর চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)-এর সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান, ন্যাপ ভাসানীর চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ফারুক রহমান, ইসলামিক ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুর রকিব, ইসলামিক পার্টির মহাসচিব আবুল কাশেম, বাংলাদেশ জাস্টিস পার্টির সভাপতি ড. সৈয়দ জাভেদ মোহাম্মদ সালেহউদ্দিন প্রমুখ।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জুলাই সনদ নিয়ে সংসদে সমাধান না হলে রাজপথে হবে: ডা. শফিকুর

বিএনপি নেতার ইয়াবা সেবনের ভিডিও ভাইরাল

সীমান্তে মায়ের আকুতি, ‘আমার সন্তানকে বাঁচান’

ঝুপড়ি ঘরে এসি-সিসি ক্যামেরা / বেদে পল্লীর সেই মাদকের আস্তানা গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় ফুটবলকে কেন ‘সকার’ বলা হয়?

স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে থেকে শুরু, সংসদে পরিকল্পনা জানালেন মির্জা ফখরুল

রুশ সেনাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে ভিনদেশিরা, অভিযোগ প্রত্যাখ্যান চীনের

রাতে ১৭২ ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত, মস্কো অঞ্চলে বড় হামলা

রেল যোগাযোগের আওতায় আসছে আরও ১০ জেলা

ডাচ্-বাংলা ব্যাংকে ২০২৫ সালের জন্য ৩০% ডিভিডেন্ড অনুমোদন

১০

পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের স্বাস্থ্যসেবা কার্ড দিল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন

১১

ইসরায়েলকে বলেছি হিজবুল্লাহর দায়িত্ব সিরিয়ার ওপর ছেড়ে দিতে : ট্রাম্প

১২

ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল জাপান

১৩

দুজন নিহতের ঘটনায় গ্রেপ্তার আতঙ্কে পুরুষশূন্য গ্রাম, থমথমে পরিস্থিতি

১৪

পুলিশের গাড়িবহরে হামলা, আহত ১০

১৫

জানালেন সেতুমন্ত্রী / পদ্মা রেলসেতুর পিলারের মাটি খুঁড়ে নেওয়া হয়েছে, ‘বিষয়টি এমন নয়’

১৬

শ্বশুরবাড়ি থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার, পরিবারের দাবি হত্যা

১৭

পুলিশের গুলিতে ছিনতাইকারী গুলিবিদ্ধ, আটক ৪

১৮

নদীবন্দরে সতর্কতা, বজ্রবৃষ্টি হতে পারে যেসব অঞ্চলে

১৯

বৃদ্ধের বিবস্ত্র মরদেহ পড়েছিল পাহাড়ের চূড়ায়

২০
X