কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ১০ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৮:০৬ এএম
আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৮:৪৬ এএম
অনলাইন সংস্করণ

প্লাস্টিক বর্জ্যের নতুন সমাধান

প্লাস্টিক বর্জ্য। ছবি : সংগৃহীত
প্লাস্টিক বর্জ্য। ছবি : সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব অ্যাডিলেইডের ন্যানোটেকনোলজি বিভাগের প্রধান শিঝাং কিয়াও ও তার গবেষণা দল ঘোষণা দিয়েই ফেললেন যে, প্লাস্টিক দূষণ নামে বিষফোড়াটা অতীতের খাতায় নাম লেখাতে যাচ্ছে। তারা পলিইথিলিনকে রিসাইকেল করার এমন এক উপায় বের করেছেন, যা থেকে একই সঙ্গে তৈরি হবে ইথিলিন ও মূল্যবান রাসায়নিক। আর এ কাজে তারা ব্যবহার করেছেন আলোকশক্তিচালিত এক ধরনের আণুবীক্ষণিক ধাতব প্রভাবক।

গবেষণাটির বিস্তারিত প্রকাশ করেছে সায়েন্স অ্যাডভান্সেস জার্নাল।

গবেষকরা বিষয়টিকে ‘রিসাইকেল’ বলছেন না। কারণ এতে ফের ব্যবহারযোগ্য এবং আরও উন্নত বস্তু তৈরি হবে। যে কারণে একে বলা হচ্ছে পলিইথিলিন আপসাইকেল। এতে তৈরি হবে ইথিলিন ও প্রোপিওনিক অ্যাসিড। এ কাজটি করবে আণবিক পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়া একটি ধাতব প্রভাবক।

অধ্যাপক কিয়াও জানালেন, ‘সাধারণ তাপমাত্রায় অক্সিডেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে দুটি ভিন্ন অণুর পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমেই কাজটা করা হয়েছে। আপসাইকেলে নতুন করে পাওয়া বস্তুর মধ্যে ৯৯ ভাগই ছিল প্রোপিওনিক অ্যাসিড। এতে করে আগের প্রক্রিয়াগুলোর মতো এমন কোনো জটিল যৌগ তৈরি হয় যেগুলোকে আবার পৃথকীকরণ করার দরকার হয়। আর পুরো কাজে ব্যবহার করা হয়েছে সৌরশক্তি।’

কিয়াও আরও জানালেন, ‘পুরো প্রক্রিয়া চারটি জিনিস লেগেছে—প্লাস্টিক বর্জ্য, পানি, সূর্যের আলো ও নিরাপদ ফটোক্যাটালিস্ট উপকরণ। ওই ফটোক্যাটালিস্ট উপকরণটিই মূলত সূর্যের শক্তি বাগে এনে রাসায়নিক বিক্রিয়ার গতি বাড়িয়েছে।’

প্রতিদিনকার ফুড প্যাকেজিং থেকে শুরু করে বোতলের ঢাকনা মিলিয়ে প্রতিদিন কোটি কোটি টন প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হচ্ছে। বেশিরভাগ জমা হচ্ছে ময়লার স্তূপে।

এখন এ ধরনের বর্জ্য রিসাইকেল করা হয় ৪০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো উচ্চ তাপমাত্রায় এবং এতে অনেক জটিল যৌগও তৈরি হয়। কিন্তু কিয়াওদের গবেষণায় পাওয়া ইথিলিন একদিকে শিল্পকারখানার জ্বালানি হিসেবে কাজে লাগবে, অন্যদিকে প্রোপিওনিক অ্যাসিড থেকে তৈরি হবে অ্যান্টিসেপটিক ও অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল পণ্য তৈরিতে।

এই গবেষণা প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণে একটি টেকসই পদ্ধতি বাতলে দিলেও সমস্যা একটি রয়ে গেছে এখনো। এর মধ্যে একটি হলো পলিমারের সহজে ভাঙতে না চাওয়ার প্রবণতা। আবার এ কাজে যে কাঠামো তৈরির দরকার সেটিও জটিল ঘরানার এবং এতে যে প্রভাবক কণাগুলো ব্যবহার করা হবে সেগুলোরও রয়েছে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।

তবে এ গবেষণাটি নিঃসন্দেহে একটি সুস্থ ও পরিচ্ছন্ন বিশ্ব গড়তে আরও উচ্চ-সক্ষমতাসম্পন্ন ফটোক্যাটালিস্ট তৈরির গবেষণায় গতি বাড়াবে, এমনটিই আশা করছেন কিয়াও ও তার দল।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

স্কুলে তালা দেওয়ায় ১৬ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত

তাহসান-রোজার বিচ্ছেদ যে কারণে

২০২৬ সাল নিয়ে বাবা ভাঙ্গার ভয়ংকর ভবিষ্যদ্বাণী

ফের নতুন সম্পর্কে মাহি

ইউজিসির স্থগিত নিয়োগ পরীক্ষা ১৬ জানুয়ারি

এলপিজি আমদানিতে ঋণ সুবিধা নিয়ে নতুন নির্দেশনা

কাঁকড়া নদীতে ভাসছিল ২ যুবকের মরদেহ

ভারতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে যা বললেন মির্জা ফখরুল

‘মুজিব কোট তুলে রেখেছি, এবার ধানের শীষে ভোট দেব’

বাংলাদেশ থেকে উড়ে যাওয়া বেলুন নিয়ে ভারতে তুলকালাম

১০

আইপিএল প্রসঙ্গ টেনে বিপিএলে প্রশ্ন, বিরক্ত নবী

১১

ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বড় সুখবর

১২

অর্থ আত্মসাৎ মামলায় অব্যাহতি পেলেন মেহজাবীন

১৩

টেকনাফ সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে যুবকের পা বিচ্ছিন্ন

১৪

কিউবায় তেল সরবরাহ বন্ধের হুমকি ট্রাম্পের

১৫

৪০ বার হজ আদায়কারী ১৪২ বছরের হাজির মৃত্যু

১৬

বার্সার কাছে হার, তবু নিরাপদ জাবির চেয়ার

১৭

বেনাপোল কাস্টমসে রাজস্ব ঘাটতি ১ হাজার ১৩ কোটি টাকা

১৮

কিশোর বয়সে ইতিহাস গড়লেন ওয়েন কুপার

১৯

বড় ভাইয়ের পর এবার গ্রেপ্তার ছোট ভাই

২০
X