কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ০৬ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৯:৫০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ফেসবুকে যেভাবে খুঁজে পেলেন নিজের আসল বাবাকে

তমুনা এবং তার আসল বাবা গারজেন। ছবি : সংগৃহীত
তমুনা এবং তার আসল বাবা গারজেন। ছবি : সংগৃহীত

স্বপ্নে দেখলেন তাকে দত্তক নেওয়া হয়েছে। ঘুম ভাঙার পরপরই তিনি গভীর নিঃশ্বাস ফেলেন। এরপর হাতের কাছে থাকা ফোন থেকে কল দিলেন তার মাকে, যাকে তিনি তার জন্মদাত্রী মা বলেই জানতেন। কিন্তু তমুনা নামের এই নারী সাংবাদিক তখনও জানতেন না, রূপকথার মতো কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে তার জীবনে।

জর্জিয়ার নারী তমুনা মুসেরিদজে। ছোটবেলা থেকেই তার সন্দেহ ছিল তিনি দত্তক কন্যা। আর এই সন্দেহ থেকেই ২০১৬ সালে নিজের প্রকৃত বাবা-মার সন্ধান শুরু করেন তিনি। মাকে ফোন দিয়ে তিনি তার দত্তক নেওয়ার বিষয়ে জানতে চান। তার বাবার নাম-পরিচয়ও জানতে চান, যা কেবল তাকে দত্তক নেওয়া মা-ই জানাতে পারেন। কিন্তু তাতে মেলেনি কোনো সদুত্তর।

সেই মায়ের মৃত্যুর পর, ঘরবাড়ি পরিষ্কার করতে গিয়ে নিজের নামে একটি জন্মনিবন্ধনপত্র খুঁজে পান তমুনা। যাতে জন্ম তারিখ ভুল লেখা ছিল। এতে তমুনার মনে সন্দেহ বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে নিশ্চিত হন, আসলেই তাকে দত্তক নেওয়া হয়েছিল। এরপর নিজের জন্মদাতা বাবা-মাকে খুঁজে বের করতে ফেসবুকে একটি অনুসন্ধান গ্রুপ খোলেন তমুনা।

পেশায় সাংবাদিক এই নারী পরবর্তীতে অনুসন্ধান শুরু করেন, যেখানে তিনি জর্জিয়ার একটি শিশু পাচার কেলেঙ্কারি উন্মোচন করেছিলেন। সেখানে তিনি দেখতে পান, অনেক বছর ধরেই বাবা-মার কাছে মিথ্যা বলে নবজাতকদের বিক্রি করে দিচ্ছে একটি চক্র। বাবা-মাকে বলা হতো, তাদের নবজাতক মারা গেছে। তমুনা নিজেও ভাবতেন, ছোটবেলায় হয়তো তিনিও চুরি হয়ে গিয়েছিলেন প্রসূতি মায়ের কোল থেকে।

তমুনার অনুসন্ধানে কিছুটা অগ্রগতি হয় গত গ্রীষ্মকালে। হঠাৎ তিনি তার ফেসবুক গ্রুপে একটি ক্ষুদেবার্তা পান জর্জিয়ার এক বাসিন্দার কাছ থেকে। তিনি জানান, তারা এমন একজন নারীকে চিনতেন, যিনি তার গর্ভাবস্থার কথা লুকিয়ে ১৯৮৪ সালের সেপ্টেম্বরে সন্তানের জন্ম দেন। আশ্চর্যজনকভাবে তিনি যে তারিখটির কথা বলেছিলেন, সেটি তমুনার জন্মতারিখের সঙ্গে মিলে যায়। তখন তার বিশ্বাস জন্মে যে, হয়তো ওই নারীই তমুনার আসল মা।

তমুনা সঙ্গে সঙ্গেই সেই নারীর সাথে যোগাযোগ করেন। তিনি জানান, পেটে সন্তান আসার কথা গোপন করেছিলেন, এমন একজন নারীকে তিনি চেনেন, যিনি সম্পর্কে তার চাচি। তমুনা ফেসবুকে দেখতে পান, যে নারীটি তাকে মেসেজ করেছিলেন, এমনকি তার পরিবারের বেশ কিছু সদস্য তার ফেসবুকে রয়েছেন। তারা আসলে তমুনার রক্তের সম্পর্কের।

তমুনা আর দেরি না করে আসল মাকে ফোন করেন। কিন্তু ওই নারী সবকিছু অস্বীকার করে বসেন। এতে ঘাবড়ে না গিয়ে ডিএনএ টেস্টের সিদ্ধান্ত নেন তমুনা। যে মেয়ে তাকে ফোন দিয়ে খবরটি দিয়েছিল, তার কাছ থেকেই সংগ্রহ করা হয় টেস্টের নমুনা। ডিএনএ টেস্টের ফলাফলে দেখা যায়, ওই মেয়েটি আসলে তারই চাচাতো বোন।

এই প্রমাণ দিয়েই পরবর্তীতে মাকে সত্য বলতে বাধ্য করেন তমুনা। তার কাছ থেকে জন্মদাতা বাবার নাম জানতেও সক্ষম হন তিনি। জানা যায়, তার বাবার নাম গুরগেন খোরাভা নামের এক ব্যক্তি। ছিল না প্রেম-ভালোবাসার সম্পর্ক। তাই সেই শারীরিক সম্পর্ক অনেকটা দুর্ঘটনার মতো। পরে তমুনা তার জন্মদাতা বাবা ও অন্যান্য পরিজনের সাথেও দেখা করেন। সেই ভিডিও ও ছবি দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

এবারও ভোট নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে : তারেক রহমান

জবি সিন্ডিকেটের সদস্য হলেন অধ্যাপক ড. মঞ্জুর মুর্শেদ

বিদ্যার দেবী সরস্বতী পূজা আজ

রাজউক অধ্যাদেশ জারি, বোর্ড সদস্য হবেন ৭ জন

নির্বাচনের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ব্যালট বাক্স ছিনতাই সম্ভব নয় : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

সিজিএসের সংলাপ / ‘মিন্টো রোডে সচিবদের ফ্ল্যাট বিলাসবহুল হোটেলকেও ছাড়িয়ে গেছে’

ঢাবিতে ধানের শীষের পক্ষে ছাত্রদল নেতার শুভেচ্ছা মিছিল 

জবি শিক্ষার্থীদের বিশেষ বৃত্তির তালিকা প্রকাশ

এক্সপ্রেসওয়েতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে টোল দিতে হবে না ঢাবি শিক্ষার্থীদের

ভাসানীর কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় গণভোটকে ‘হ্যাঁ’ বলুন

১০

জামায়াত প্রার্থীর নির্বাচনী সমাবেশে অস্ত্রসহ আটক ২

১১

ম্যানইউকে বিদায় বলছেন ক্যাসেমিরো

১২

একটি দল প্রবাসীদের ব্যালট পেপার দখল করে নিয়েছে : তারেক রহমান

১৩

বিপিএল ফাইনালকে ঘিরে বিসিবির বর্ণিল আয়োজন

১৪

রাষ্ট্রের গুণগত পরিবর্তনে ধানের শীষই ভরসা : রবিউল

১৫

বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল এমপি প্রার্থীর

১৬

ঝিনাইদহ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী জনসভায় জনতার ঢল

১৭

প্রবাসীদের নিয়ে জামায়াত আমিরের স্ট্যাটাস

১৮

নির্বাচনে এমএফএসের অপব্যবহার রোধে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন-বিকাশের সমন্বয় কর্মশালা

১৯

আন্দোলনে এনসিপি নেতাদের কী অবদান, প্রমাণ চেয়ে জিএম কাদেরের চ্যালেঞ্জ 

২০
X