

প্রবল বাতাসের কারণে গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুক-এ ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা জানিয়েছে, ট্রান্সমিশন লাইনে ত্রুটির কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড ঘিরে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক উত্তেজনার পর এমন ঘটনা দ্বীপটির পরিস্থিতিকে আরও আলোচনায় এনেছে। খবর আলজাজিরার।
স্থানীয় সময় শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে হঠাৎ করেই বিদ্যুৎ চলে যায়। একই সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্ল্যাকআউটের খবর ছড়িয়ে পড়ে বলে জানায় গ্রিনল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম সারমিৎসিয়াক। বিদ্যুৎ সংস্থাটি ফেসবুকে জানায়, বুকসেফিয়র্ড জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র এলাকায় ঝোড়ো হাওয়ার কারণে ট্রান্সমিশন লাইনে ত্রুটি দেখা দেয়। জরুরি বিকল্প কেন্দ্র ব্যবহার করে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা শুরু হয়।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রভাব পড়ে পানির সরবরাহ ও ইন্টারনেট সংযোগেও। কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং ইন্টারনেট সংযোগ দুর্বল হয়ে পড়ে।
রোববার ভোর সাড়ে ৩টার দিকে বিদ্যুৎ সংস্থা জানায়, নুক শহরের প্রায় ৭৫ শতাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। শহরটির জনসংখ্যা প্রায় ২০ হাজার। তবে পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার আগ পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারে সংযমী হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
এই বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ঠিক আগেই গ্রিনল্যান্ড সরকার দুর্যোগ প্রস্তুতি নিয়ে একটি নির্দেশিকা প্রকাশ করে। সেখানে নাগরিকদের অন্তত পাঁচ দিনের জন্য পর্যাপ্ত পানীয় জল, খাবার, ওষুধ, গরম কাপড় এবং বিকল্প যোগাযোগের ব্যবস্থা মজুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অবকাঠামোগত ঝুঁকির মুখে গ্রিনল্যান্ডের প্রস্তুতি ও সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
মন্তব্য করুন