কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ০৩ মার্চ ২০২৫, ০৩:১২ পিএম
আপডেট : ০৩ মার্চ ২০২৫, ০৩:২১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

পানি চুক্তি পর্যালোচনায় ভারতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তি পর্যালোচনা করতে পশ্চিমবঙ্গে গেছেন ইন্দো-বাংলাদেশ জয়েন্ট রিভার কমিশনের বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল। কলকাতা ও ফারাক্কায় ৩ থেকে ৮ মার্চ হতে যাওয়া ৮৬তম জেআরসি বৈঠকে অংশ নেবেন তারা। সোমবার ১১ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল কলকাতা পৌঁছেছেন বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার।

খবরে বলা হয়, বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল কলকাতা পৌছেছেন। এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হল গঙ্গা-পদ্মা পানিবণ্টন চুক্তি পর্যালোচনা এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা। তাদের সঙ্গে নয়াদিল্লি থেকে আসা কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের প্রতিনিধিরা বৈঠক করবেন।

সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলটি সোমবার ফারাক্কা ব্যারেজ পরিদর্শনে যাবেন। সেখানে তারা গঙ্গা থেকে পদ্মায় প্রবাহিত পানির পরিমাণ ও অবস্থা খতিয়ে দেখবেন। ফারাক্কা ব্যারেজ ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে নদীর পানিবণ্টনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গঙ্গা থেকে নির্ধারিত পরিমাণ পানি কীভাবে পদ্মায় প্রবাহিত হচ্ছে, তা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করবেন দুই দেশের বিশেষজ্ঞরা।

ফারাক্কায় যৌথ পর্যবেক্ষণ শেষে প্রতিনিধিদলটি কলকাতায় ফিরে আসবেন। সেখানে তারা ভারত-বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশনের তত্ত্বাবধানে ৬-৭ মার্চ দুই দিনের বৈঠকে যোগ দেবেন। বৈঠকে গঙ্গার পানিবণ্টন ছাড়াও তিস্তা এবং অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোর বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।

১৯৯৬ সালে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গা-পদ্মা পানিবণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এর ফলে দুই দেশ গঙ্গার পানি ভাগ করে নেওয়ার একটি নির্দিষ্ট কাঠামো তৈরি করে। চুক্তির মেয়াদ ছিল ৩০ বছর, অর্থাৎ ২০২৬ সালে এটি শেষ হবে। আগামী বছর চুক্তির ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে নতুন করে কিছু পর্যালোচনা ও সংশোধন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চুক্তি অনুযায়ী, উভয় দেশ গঙ্গার প্রবাহ ও বণ্টন নিয়ে নিয়মিত বৈঠকে বসে। তবে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ অভিযোগ তুলেছে, শুষ্ক মৌসুমে ফারাক্কা ব্যারেজ থেকে বাংলাদেশ পর্যাপ্ত পানি পায় না। ভারত এসময় প্রবাহ সীমিত করে দিয়ে বেশিরভাগ পানি নিজেরা ব্যবহার করে। অন্যদিকে ভারতের দাবি, পানিপ্রবাহের স্বাভাবিক ওঠানামার কারণে কিছু সময় পানির পরিমাণ কমবেশি হয়। এই সফর ও বৈঠক সেই বিষয়গুলো খতিয়ে দেখারই একটি অংশ।

গত বছরের আগস্টে বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি হয়েছে বলেই মনে করেন ওয়াকিবহাল মহল। তাই এই বৈঠকের মাধ্যমে উভয় দেশ নিজেদের মতামত বিনিময় করবে এবং ভবিষ্যতে কীভাবে পানিবণ্টন আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করে সম্পর্ক মেরামতের চেষ্টা করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফারাক্কা পরিদর্শন এবং ৭ মার্চের আলোচনা আগামী বছরের জন্য পানিবণ্টন নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের এই সফর তাই শুধু দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের দিক থেকেই নয়, বরং ভবিষ্যতের পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ভুল জায়গায় স্বাক্ষরে জামায়াত প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল

সবাইকে শাহবাগ আসার আহ্বান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের

সেন্ট ফিলিপস্ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের প্ল্যাটিনাম জুবিলী উদযাপন

বাংলাদেশের কি বিশ্বকাপ শ্রীলঙ্কায় খেলার আবেদন করা উচিত?

সারা দেশে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

জিবি না দেওয়ায় অটোচালককে মেরে নাক ফাটাল যুবক

মানিকগঞ্জ জেলার ওনার্স গ্রুপের সভাপতি লিটন ও সম্পাদক বাবুল

মাচাদোকে ক্ষমতায় বসাতে চান ট্রাম্প

এবারের নির্বাচন হবে বিশ্বের কাছে স্বীকৃত ও প্রশংসিত : সালাহউদ্দিন আহমদ

কান উৎসবের লক্ষ্যে আলি জুলফিকার জাহেদীর ‘রক্তছায়া’

১০

ঢাকা-১৮ আসনে মান্নার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা

১১

৭০০ কৃষকের নামে মামলা, প্রতিবাদে মশাল মিছিল

১২

সেই নেতাকে গ্রেপ্তারের প্রতিক্রিয়া জানাল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন

১৩

সুন্দরবনে রিসোর্ট মালিকসহ দুই পর্যটককে অপহরণ

১৪

ঐক্য ও উন্নয়নই আমাদের লক্ষ্য : ফরিদুল ইসলাম

১৫

মাদুরোকে কোথায় নেওয়া হবে জানালেন ট্রাম্প

১৬

‘ভুল ভুলাইয়া ৩’-এর পর আবারও বলিউডে প্রান্তিকা

১৭

শীত নিয়ে আবার দুঃসংবাদ দিল আবহাওয়া অফিস

১৮

তথ্য পাচারের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন, অভিযুক্ত ডিনকে ছুটি

১৯

দেশের জনসংখ্যা বিবেচনায় স্কুলের সংখ্যা আরও বাড়াতে হবে : সালাহউদ্দিন

২০
X