পুলিশের বিরুদ্ধে আইনের ধারার মারপ্যাঁচের অভিযোগ নতুন নয়। বেশ আগে থেকেই পুলিশের বিরুদ্ধে দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। তবে এবার সমানে এসেছে বিচিত্র ঘটনা। পুলিশকে আইনের বই খুলে পড়িয়েছেন বিচারক। বুধবার (৩১ জানুয়ারি) ভারতের সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খুনের অভিযোগের মামলায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে খুনের ধারাই দেয়নি পুলিশ। আর এ ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের কলকাতায়। সেখানকার আমহার্স্ট স্ট্রিট থানায় এক গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশকে ভর্ৎসনা করেছেন কলকাতা হাইকোর্ট। এছাড়া মামলাটি পুলিশের কাছ থেকে সরিয়ে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
গত বছরের ২৪ নভেম্বর আমহার্স্ট স্ট্রিট থানা এলাকায় শালিনী মিত্র নামের এক গৃহবধূ শ্বশুরবাড়িতে অগ্নিদগ্ধ হন। এরপর ৫ ডিসেম্বর হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। গৃহবধূর পরিবারের অভিযোগ, তার স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজনই শালিনীকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করেছেন। এমনকি গায়ে আগুন লাগিয়ে দিয়ে সেই দৃশ্য ভিডিও কলে পরিবারকে দেখানো হয়েছে। এরপর কালিঘাট থেকে তার বড়বোন গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
অভিযোগ উঠেছে, এ ঘটনার তদন্তে পুলিশ গ্রেপ্তারের পরিবর্তে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করেছে। এমনকি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে খুনের ধারাও যুক্ত করেনি। বুধবার বিচারপতি জয় সেনগুপ্তের আদালতে এ মামলার শুনানি হয়। এ সময় বিচারক মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে এজলাসে বই খুলে আইনের পাঠ পড়ান। শুধু তাই নয়, ভর্ৎসনার সুরে বিচারপতি বলেন, ‘তদন্ত আইনের পথে হবে না কি অভিযুক্তর দেখানো পথে?’
গৃহবধূর পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ তাদের কর্তব্যে গাফিলতি করেছে। শালিনীকে যৌতুকের জন্য খুন করা হয়েছে।
গৃহবধূর আইনজীবী জানান, শালিনী ও তার বাবার নামে কেনা ফ্লাট লিখে নিতে চাপ দিতেন স্বামী। কিন্তু পুলিশ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। মামলায় দীর্ঘ শুনানির পর আদালত এতে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ এবং ২০১ ধারা যোগ করার নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া পুলিশের থেকে মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন