কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ২৩ মার্চ ২০২৫, ০৯:১৬ এএম
আপডেট : ২৩ মার্চ ২০২৫, ১০:৩৪ এএম
অনলাইন সংস্করণ
ভেস্তে যাচ্ছে যুদ্ধবিরতি

লেবাননে ভয়াবহ বিমান হামলা

গত নভেম্বরের যুদ্ধবিরতির পর সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা বলে মনে করা হচ্ছে। ছবি : সংগৃহীত
গত নভেম্বরের যুদ্ধবিরতির পর সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা বলে মনে করা হচ্ছে। ছবি : সংগৃহীত

লেবাননে একাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। গত নভেম্বরের যুদ্ধবিরতির পর সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষ বলে মনে করা হচ্ছে। লেবানন থেকে ইসরায়েলের দিকে বেশ কয়েকটি রকেট হামলার পর এই আক্রমণ চালানো হয়। খবর বিবিসির।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর রকেট লঞ্চার ও একটি কমান্ড সেন্টারে হামলা চালিয়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৭ জন নিহত হয়েছে, যার মধ্যে একজন শিশু রয়েছে এবং আহত হয়েছে ৪০ জন।

লেবাননে একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠী সক্রিয়, যার মধ্যে হিজবুল্লাহ ও বিভিন্ন ফিলিস্তিনি সংগঠন রয়েছে। তবে শনিবারের হামলার দায় এখনো কেউ স্বীকার করেনি।

প্রথম দফার হামলার কয়েক ঘণ্টা পর ইসরায়েল দ্বিতীয় দফায় রাতের বেলায় আরও হামলা চালায়। এতে লক্ষ্যবস্তু ছিল হিজবুল্লাহর কমান্ড সেন্টার, সামরিক স্থাপনা ও অস্ত্রগুদাম।

লেবানন থেকে রকেট হামলার কয়েকদিন আগেই ইসরায়েল গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করে। ইসরায়েল জানিয়েছে, শনিবারের হামলায় তিনটি রকেট প্রতিহত করা হয়েছে এবং এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তারা এ রকেট হামলার সঙ্গে জড়িত নয় এবং যুদ্ধবিরতি মেনে চলবে। লেবাননের সামরিক বাহিনী দক্ষিণ লেবাননে তিনটি রকেট লঞ্চার নিষ্ক্রিয় করেছে বলে জানায়। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির ওপর এই সংঘর্ষ নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, লেবাননের সামরিক বাহিনী দক্ষিণাঞ্চলে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করবে, যাতে কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসরায়েলের ওপর হামলা চালাতে না পারে। তবে ইসরায়েল জানিয়েছে, লেবাননের সেনাবাহিনী এখনো পুরোপুরি মোতায়েন হয়নি এবং নিরাপত্তার স্বার্থে তারা সীমান্ত এলাকায় অবস্থান অব্যাহত রাখবে।

হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে ইসরায়েল প্রায় প্রতিদিনই বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। লেবাননের সরকার বলছে, ইসরায়েলের সেনারা এখনো দক্ষিণ লেবাননের পাঁচটি অঞ্চলে অবস্থান করছে, যা দেশটির সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন এবং যুদ্ধবিরতির চুক্তির বিপরীত।

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটতে পারে এবং উভয়পক্ষকে যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি রক্ষার আহ্বান জানিয়েছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ওপর ইসরায়েলি হামলার পরের দিন থেকেই হিজবুল্লাহ সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। এরপর ইসরায়েল লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা ও স্থল অভিযান চালায়। এতে ৪ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয় এবং ১২ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জামায়াতের সঙ্গে বৈঠককে স্বাভাবিক কূটনৈতিক যোগাযোগ বলছে ভারত

হ্যান্সি ফ্লিকের শিষ্যদের থামানোর কেউ নেই!

গরম ভাতে ঘি খান, মস্তিষ্কে কেমন প্রভাব পড়ে জানলে অবাক হবেন

রাস্তার পাশ থেকে অচেতন অবস্থায় এমপি প্রার্থী উদ্ধার

খালেদা জিয়ার চিকিৎসাজনিত অবহেলার তদন্ত হওয়া প্রয়োজন : চিকিৎসকদলের প্রধান

খালেদা জিয়ার নাগরিক শোকসভায় যা বললেন শফিক রেহমান

‘এক নেত্রীর ঠাঁই মানুষের হৃদয়ে, অন্যজনের দেশের বাইরে’ 

এনসিপির সেই নেত্রীর ফেসবুক স্ট্যাটাস

ম্যাচসেরা হয়েই ‘মানবিক’ সেই উদ্যোগের কথা জানালেন শরিফুল

মির্জা ফখরুলকে দেখেই দাঁড়িয়ে সম্মান জানালেন তারেক রহমান

১০

সিরিয়া থেকে শতাধিক ছাগল চুরি করল ইসরায়েলি সেনারা

১১

নির্বাচনের প্রার্থী স্বামী-স্ত্রী

১২

চবি ভর্তি পরীক্ষায় তৃতীয়, রাবিতে জালিয়াতি করতে গিয়ে ধরা

১৩

মোবাইল চুরিকে কেন্দ্র করে ২ খুন

১৪

ভারতে বাংলাদেশি সন্দেহে শ্রমিক হত্যা

১৫

ইসলামী আন্দোলন নিয়ে জামায়াতের বিবৃতি 

১৬

রাঙ্গুনিয়ায় আগুনে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে বেতাগী মানবিক ফাউন্ডেশন

১৭

শবেমেরাজের ঘটনা থেকে গুরুত্বপূর্ণ ১২ শিক্ষা

১৮

‘হ্যাঁ’ ভোটে জনগণের আশার প্রতিফলন ঘটবে : অর্থ উপদেষ্টা

১৯

খালেদা জিয়া মানুষ ও দেশের নেত্রী হয়ে উঠেছিলেন : নূরুল কবীর

২০
X