কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ০৬ জুন ২০২৫, ০৬:১৫ পিএম
আপডেট : ০৬ জুন ২০২৫, ০৭:৪৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

উটও আছে, ভেড়াও আছে- গাজার হাটে নেই শুধু ক্রেতা

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় কোরবানির ঈদের বাজার। ছবি : সংগৃহীত
অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় কোরবানির ঈদের বাজার। ছবি : সংগৃহীত

ঈদের দিনের সকাল। গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় শহর আল মাওয়াসিতে বসেছে একটি কোরবানির পশুর হাট। হাট বলতে যা বোঝায়, বাস্তবে তার চেয়ে অনেক ফাঁকা ও নিঃস্তব্ধ কিছু। সেখানে দেখা গেল একটি উট, একটি গরু আর হাতে গোনা কয়েকটি ভেড়া ও ছাগল।

আশপাশে কিছু শিশু ও কৌতূহলী মানুষ ঘুরে বেড়াচ্ছে। কেউ দেখছে, কেউ ছবি তুলছে- কিন্তু কেউই এগিয়ে এসে বলছে না, ‘এইটা কত?’ কেননা, এখানে নেই কোনো ‘ক্রেতা’।

শুক্রবার (৬ জুন), মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের মতো অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকাতেও উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা।

কাগজে-কলমে ‘উদযাপন’ বলা হলেও বাস্তবে সেখানে নেই কোনো ঈদের আমেজ। যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ, খাদ্য সংকট, অর্থনৈতিক দুর্দশা ও মানবিক বিপর্যয়ের মাঝে ঈদ যেন কেবল একটি স্মৃতি।

ঈদুল আজহার প্রধান অনুষঙ্গ কোরবানি। মুসলিমরা এদিন পশু জবাই করে তার একাংশ বিলিয়ে দেন দরিদ্রদের মাঝে। কোরবানির এই ঐতিহ্য একসঙ্গে আনন্দ, সংহতি ও ত্যাগের বার্তা বহন করে। কিন্তু গাজাবাসীর পক্ষে কোরবানি দেওয়া তো দূরের কথা-তাদের অনেকের পক্ষে একটুকরো রুটিও জোগাড় করা দায়।

বার্তাসংস্থা এপি জানায়, তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে গাজায় প্রবেশ করেনি কোনো তাজা মাংস। ইসরায়েলের অবরোধের কারণে বাইরে থেকে খাবার বা পশু ঢোকার সুযোগ নেই। গাজার ভেতরে যেসব পশু লালন-পালন করা হচ্ছিল, তাদের অনেকেই ইতোমধ্যে মারা গেছে বিমান হামলায়, ক্ষুধায় কিংবা চিকিৎসার অভাবে।

বেঁচে থাকা যেসব পশু আছে, তাদের নিয়েই বসেছে আল মাওয়াসির হাট। সেখানে আব্দেল রহমান মাদি নামের এক মধ্যবয়স্ক বাবা এপিকে বলেন, আমার এমনকি রুটি কেনার সামর্থ্যও নেই। কোনো মাংস, কোনো সবজি কেনার সামর্থ নেই।

দূরের খান ইউনিস শহরে কিছু দোকানে দেখা গেছে খেলনা আর পুরোনো কাপড়। কিছু অভিভাবক ঈদের দিনে সন্তানদের মুখে একটুখানি হাসি ফেরাতে দরদাম করছেন। কিন্তু বেশিরভাগই দাম শুনেই চলে যাচ্ছেন চুপচাপ।

হালা আবু নাকিরা নামে এক নারী বলেন, আগে ঈদ ছিল আনন্দ আর নতুন জামার দিন। কিন্তু এখন ঈদ মানেই অনাহার আর নিরাশা। তার কণ্ঠে ভেসে আসে হাহাকার, আমরা এখন বাজারে যাই শুধুই আটা খুঁজতে। প্রতিদিন কমদামে আটা খুঁজে বেড়াই। কিন্তু যা পাই, তাও কিনতে হয় অবিশ্বাস্য দামে।

শিশুরা যদিও পশুগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে একটু আনন্দ পায়, কিন্তু সেগুলো যেন এক নিঃশব্দ প্রদর্শনী-যেখানে আনন্দ নেই, কেবল অভাব আর অবরোধের দীর্ঘ ছায়া।

গাজার ঈদ এখন আর উৎসব নয়। এখনকার ঈদ মানে- একটি উট, একটি গরু, কয়েকটি ভেড়া আর অসংখ্য শূন্য পকেট।

সূত্র : এপি

কালবেলা/এমএ
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ব্রাহ্মণপাড়ায় ৩২ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

নিট পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস বিষয়ে সংসদে আলোচনা হবে: ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী

চোর সন্দেহে প্রতিবন্ধী যুবককে পিটিয়ে হত্যা: সাভারে ৩ আসামির একদিনের রিমান্ড

আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সমর্থকের বিরোধের জেরে ধর্ষণ মামলা

বিশ্বকাপের সেরা একাদশ ঘোষণা করল ফিফা, জায়গা পেলেন যারা

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতির বোনের বাসায় চুরি, শ্রমিকদল নেতা গ্রেপ্তার

৪৯তম বিশেষ বিসিএস: দুই প্রার্থীর ফল ও সাময়িক নিয়োগ বাতিল

বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল অটোরিকশার ২ যাত্রীর

টানা বৃষ্টিতে মরিচের বাজারে আগুন

লোহিত সাগরে চলাচলকারী জাহাজে রেডিওতে সতর্কবার্তা দিচ্ছে হুতিরা

১০

আধুনিক মেশিনে বদলে যাচ্ছে রামেক হাসপাতালের ল্যাব সেবা

১১

হরমুজ প্রণালির লারাক দ্বীপে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

১২

ফেনীতে আ.লীগের কার্যালয় গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন

১৩

মেসিদের নিয়ে অপপ্রচার, কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে আর্জেন্টিনা

১৪

দেশে জ্বালানি তেলের সংকট নেই: পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতি

১৫

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার মধ্যেও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন করছে ইরান

১৬

স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় কারাগারে স্ত্রী

১৭

কালবেলায় সংবাদ প্রকাশ / কমলগঞ্জে সেই ১২০০ কমলা গাছ কাটার ঘটনায় উচ্চতর তদন্ত কমিটি গঠন

১৮

মৌরিতানিয়ার উপকূলে নৌকাডুবি, ১৪৪ অভিবাসী নিখোঁজ

১৯

বহিষ্কৃত গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে দলের অবস্থান জানালেন জামায়াত মুখপাত্র

২০
X