ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের হামলায় একপ্রকার নাস্তনাবুদ হয়ে গেছে ইসরায়েল। তাই সংগঠনটিকে নির্মূল করতে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ ঘোষণা করেছে তেলআবিব। তার সঙ্গে সমর্থন ও সহযোগিতা দিয়ে যুক্ত হয়েছে গোটা পশ্চিমা বিশ্ব। সেই সমর্থনের অংশ হিসেবে এবার হামাসকে ধ্বংসে নতুন পরামর্শ দিয়েছে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ।
হামাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তেলআবিবের প্রতি সমর্থনের অংশ হিসেবে বাইডেন ও সুনাকের পর ইসরায়েল সফরে যান ফরাসি প্রেসিডেন্ট। সেখানে যুদ্ধ পরিস্থিতি ও সহায়তা নিয়ে আলোচনা করেন ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। তিনি হামাসকে ধ্বংস করতে আন্তর্জাতিক বাহিনী গঠন করে লড়াইয়ের কথা জানান। বর্তমানে পশ্চিমা জোটের গঠিত এ ধরনের বাহিনী ইরাক ও সিরিয়াতে ইসলামিক স্টেটসের বিরুদ্ধে লড়াই করছে।
জেরুজালেমে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়ে মাখোঁ জানান, ফ্রান্স ও ইসরায়েল উভয় দেশের একক শত্রু সন্ত্রাসবাদ। এ সময় ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠনটির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক বাহিনী গঠনের প্রস্তাব দিলেও তার কোনো বিস্তারিত বর্ণনা দেননি মাখোঁ। এমনকি যেখানে ইসরায়েলে এ ধরনের জোটের সদস্যভুক্ত নয়। তবে ফরাসি প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টারা জানান, আন্তর্জাতিক বাহিনী সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেবে এমনটা নয়, বরং তারা ইসরায়েলের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য শেয়ার করে নিতে পারে।
মাখোঁ বলেন, হামাস একটি সন্ত্রাসী সংগঠন, যারা ইসরায়েলকে ধ্বংস করতে চায়। আমি ইসরায়েলকে বলতে চাই তারা একা নয়। ইরাক ও সিরিয়াতে দায়েশের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত আন্তর্জাতিক বাহিনী যদি হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে চায় তাহলে ফ্রান্স প্রস্তুত আছে। আমি আমাদের আন্তর্জাতিক অংশীদারদের বলতে চাই যে, আমরা চাইলে হামাসের বিরুদ্ধে লড়তে একটি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাহিনী গঠন করতে পারি।
হামাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কথা বললেও চলমান যুদ্ধ পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ার ব্যাপারে সতর্ক করেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। তিনি জানান, হামাসকে কোনা প্রকার সহানুভূতি দেখানো যাবে না। তবে যুদ্ধের নিয়ম-নীতিও মেনে চলতে হবে। মাখোঁর প্রস্তাবের জবাবে সরাসরি কিছু না বললেও নেতানিয়াহু জানান, এটি কেবল ইসরায়েলের একার যুদ্ধ নয়, বরং এটা আমাদের সবার যুদ্ধ।
এই সফরের ভারসাম্য প্রমাণে শুধু ইসরায়েলি নেতাদের সঙ্গে দেখা করেই সফর শেষ করেননি মাখোঁ। পাশপাশি ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গেও দেখা করেন তিনি।
মন্তব্য করুন