ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের চলমান হামলা নিয়ে বিভক্ত হয়ে পড়েছে ইসরায়েলি নাগরিকরা। দেশটির উপকূলীয় শহর সিজারিয়াতে সরকারবিরোধী এক বিক্ষোভ থেকে নেতানিয়াহু সরকারের যুদ্ধনীতির সমালোচনা করেন বিক্ষোভকারীরা। তারা দাবি করেন, ফিলিস্তিনিদের ওপর সামরিক হামলা কেবল আরও যুদ্ধ ডেকে আনবে।
হামাসের হাতে আটক বন্দিদের পরিবার ইসরায়েলি সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে জিম্মিদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানান, জিম্মিদের মুক্ত করার অংশ হিসেবেই গাজাতে সামরিক অভিযান পরিচালনা করছে সেনাবাহিনী।
তেল আবিবে বিক্ষোভকারীরা গান গেয়ে প্রতিবাদ করেন এবং নিখোঁজদের ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড ধারণ করেন। অপহৃত হওয়া নাগরিকদের ফিরিয়ে আনতে তারা ‘এখনই তাদের বাড়িতে নিয়ে আসুন’ স্লোগান দেন।
এ ছাড়া, হাজার হাজার ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভকারী শনিবার নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের রাস্তায় প্রতিবাদ করেন। গাজায় হামাসের সাথে ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের বিরোধিতা করেন।
নিউইয়র্কে ১৬ থেকে ২০ লাখ ইহুদি এবং কয়েক লাখ মুসলমানের বসবাস। গত তিন সপ্তাহ ধরে ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি উভয়পক্ষের সমর্থনে বিক্ষোভ, সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এদিকে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েলি বোমা হামলায় ৪৭টি মসজিদ এবং সাতটি গির্জা ধ্বংস হয়েছে। এ ছাড়া গত তিন সপ্তাহে গাজায় ২০৩টি স্কুল ও ৮০টি সরকারি অফিস ধ্বংস হয়েছে। সোমবার (৩০ অক্টোবর) গাজার জনসংযোগ দপ্তরের বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানিয়েছে আলজাজিরা।
হামাস শাসিত গাজার জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক সালামা মারুফ আলজাজিরা আরবি বিভাগকে বলেছেন, ইসরায়েলের ব্যাপক বোমা হামলায় গাজায় দুই লাখ ২০ হাজার আবাসন ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া ৩২ হাজার ভবন সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে।
এর আগে গাজার জনসংযোগ দপ্তর জানিয়েছিল, একটি অর্থোডক্স সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং একটি স্কুলে বোমা হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী। স্কুলটিতে দেড় হাজারের বেশি বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি আশ্রয় নিয়েছেন।
মন্তব্য করুন