কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর ২০২৪, ১১:২২ এএম
অনলাইন সংস্করণ

ভুতুড়ে গ্রামে ছেলের জন্য এখনও অপেক্ষা করেন মা

মা পাতিমাত সাইদোভা। ছবি : সংগৃহীত
মা পাতিমাত সাইদোভা। ছবি : সংগৃহীত

মায়ের মন সন্তানের জন্য কোনো বাধ মানে না। আর তাই ৩০ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া ছেলের পথ চেয়ে এখনও বসে আছেন তার বৃদ্ধা মা।

ছেলে একদিন আসবে, এই আশাই বাঁচিয়ে রেখেছে তাকে। এমনকি পুরো গ্রাম অন্যত্র চলে যাওয়ার পরও, পরিত্যক্ত গ্রামে একাই থাকেন তিনি। এই আশায়, যদি কোনো দিন ছেলে ফেরে!

ছেলে আর ফিরবেন কি না জানেন না বৃদ্ধা মা। কিন্তু যদি ছেলে ফেরে, তাহলে তো তাকে এখানেই খুঁজতে আসবেন। আর তাই ছেলের অপেক্ষায় একাই পাহাড়ি গ্রাম আমুশিতে দিন কাটাচ্ছেন ৯২ বছর বয়সী পাতিমাত সাইদোভা। তিনি রাশিয়ার রাশিয়ার দাগেস্তানের বাসিন্দা। গ্রাম ছেড়ে সবাই চলে গেলেও একা থাকতে একটু কষ্ট হয় না সাইদোভার।

১৯৭০-র দশকে আমুশা ছেড়ে নতুন গ্রামে স্থানান্তর করে সেখানকার বাসিন্দারা। কিন্তু নিজের আবাসভূমি ছেড়ে যেতে রাজি হয়নি সাইদোভা। ১৯৯২ সালে সাইদোভার স্বামী মারা যান। এরপর থেকেই পুরো গ্রামে একা থাকছেন এই বৃদ্ধা। সাইদোভার বড় মেয়ে নাপিসাত জানান, তিনি বারবার তার মাকে আত্মীয়দের সঙ্গে থাকার তাগাদা দিয়েছেন। তবে রাজি হননি তার মা।

নাপিসাত বলেন, আমার এক ভাই নিখোঁজ হয়েছেন। মার বিশ্বাস সে ফিরে আসবে। যদি সে কখনও ফিরে আসে, তখন এখানে আসবে।

তার মায়ের বয়স ৯২ বছর। এই বয়সেও তার মা নিজেই ঘরের কাজ করেন। এমনকি রান্নাও তিনিই করেন। কিছুদিন আগেও তিনি মুরগি লালন-পালন করতেন বলেও জানান নাপিসাত। ২০২৩ সালে নাপিসাত যখন তার মায়ের ব্যাপারে এসব কথা বলছিলেন, তখনও বেশ সুস্বাস্থ্যের অধিকারী মনে হয়েছে সাইভোদাকে।

নাপিসাত বলেন, মা কখনও ডাক্তারের কাছে যান না। কেবল ওষুধ খান। এত বয়সেও সারাজীবনে মাত্র দুই বা তিনটি ইনজেকশন নিয়েছেন।

ছয় সন্তান ও ডজনের বেশি নাতিপুতি রয়েছে সাইদোভার। তারা প্রায়ই সাইদোভাকে দেখতে আসেন। কিন্তু বড় শহরে যেতে কখনও সাইদোভাকে রাজি করাতে পারেনি তারা। দিন গড়িয়ে রাত হয়, কাটে দিন, মাস, বছর। তবুও ছেলে আসে না। কিন্তু রোজা ও নামাজ পড়ে ছেলের জন্য দোয়া করা সাইদোভার বিশ্বাস, একদিন ঠিকই ঘরের কড়া নাড়বে তার হারিয়ে যাওয়া ছেলে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমি বাবার মতো কাজ করতে চাই: রবিন

সন্ত্রাস-মাদকমুক্ত নিরাপদ দেশ গড়তে তরুণদেরই অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে : হাবিব

ছাত্রদলে যোগ দিল বৈষম্যবিরোধী-জাতীয় ছাত্রশক্তির শতাধিক নেতাকর্মী

বগুড়া-১ আসন / বিএনপির মূল প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থীর আপিল! ব্যবস্থা নেবে হাইকমান্ড 

এনসিপির নির্বাচন পর্যবেক্ষক টিমের নেতৃত্বে হুমায়রা-তুহিন

চবিতে জামায়াতপন্থি উপ-উপাচার্যের মেয়েকে প্রভাষক নিয়োগ, যা বলছেন মির্জা গালিব

মিচেলের অপরাজিত শতকে ভারতকে হারাল নিউজিল্যান্ড

সাবেক মন্ত্রী মোমেন যেভাবে টানা ৮ মাস আত্মগোপনে ছিলেন

যে কোনো সময় ইরানে হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র, যে বার্তা দিল সৌদি

ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার : দুলু

১০

বাংলাদেশিদের ভিসা দেওয়া স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র

১১

ঢাকায় আসছে কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দল

১২

ডিসির সঙ্গে একযোগে দেখা করলেন জামায়াতের ৭ প্রার্থী

১৩

বিএনপি কত আসন পেয়ে বিজয়ী হবে, বললেন ফজলুর রহমান

১৪

৩০ লাখ টাকার ফেলোশিপ পাচ্ছে যবিপ্রবির ৫৬ শিক্ষার্থী

১৫

শেখ হাসিনাসহ ১৭০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

১৬

ট্রাকের ধাক্কায় ২ মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

১৭

ইরান-ইসরায়েলের সেনাবাহিনীতে ‘হাই অ্যালার্ট’

১৮

গানম্যান পেলেন ববি হাজ্জাজ

১৯

৭৫ দেশের জন্য সব ধরনের ভিসা স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র

২০
X