কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ২৪ নভেম্বর ২০২৪, ০৬:৫৯ পিএম
আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২৪, ০৭:০৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

পড়তে ভুলে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থীরা?

ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

কলেজ শিক্ষার্থীরা যে সবসময় তাদের পাঠ্যসূচির সব বই পড়ে শেষ করতেন, এমনটা না। কিন্তু এখন সেই না পড়ার ধরন সম্পূর্ণ বদলে গেছে। ১৯৯৮ সাল থেকে অ্যামেরিকার কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে লিটারেচার হিউম্যানিটিজ পড়াচ্ছেন নিকোলাস ডেমস। ডেমসের শিক্ষার্থীরা এখন মনে করেন, এক সেমিস্টারে কয়েকটি বই পড়ে শেষ করা কার্যত অসম্ভব। একই সমস্যা লক্ষ করেছেন ডেমসের সহকর্মীরাও। বহু শিক্ষার্থী বই পড়ার অভ্যাস ও প্রস্তুতি নিয়ে কলেজে আসে না। অত্যন্ত নামিদামি মার্কিন এলিট কলেজেও এমনটা দেখা গেছে। বিষয়টি নিয়ে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছে মার্কিন সাময়িকী দ্য আটলান্টিক।

২০২২ সালের ফল সেমিস্টারে এক শিক্ষার্থীর কথা শুনে ডেমসের কাছে বিষয়টি কিছুটা পরিষ্কার হয়। ওই শিক্ষার্থী তার অফিসে এসে জানান, স্কুলে তাকে কখনো পুরো একটি বই পড়তে দেওয়া হয়নি। তাকে শুধু বইয়ের নির্দিষ্ট কিছু অংশ, কবিতা ও সংবাদ নিবন্ধ পড়তে দেওয়া হতো—কিন্তু গোটা একটি বই কখনো পড়তে বলা হয়নি।

এই ঘটনাই শিক্ষক নিকোলাস ডেমসকে তার শিক্ষার্থীদের আচরণে পরিবর্তনের কারণ জানিয়ে দেয়। শিক্ষার্থীদের পড়ার ইচ্ছা নেই, এমন নয়। আসলে কীভাবে পড়তে হবে, তা-ই জানে না তারা। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীদের বই পড়তে দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। উপন্যাসের ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করা ডেমস অবশ্য স্বীকার করেন, এই সমস্যা নতুন নয়। তবু তিনি মনে করেন, আমরা এমন একটি পরিবর্তন দেখছি, যা উপেক্ষা করা উচিত নয়।

দুই দশক আগে ডেমসের ক্লাসের শিক্ষার্থীরা অনায়াসে এক সপ্তাহে ‘প্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস’, পরের সপ্তাহে ‘ক্রাইম অ্যান্ড পানিশমেন্ট’ নিয়ে গভীর আলোচনা করতে পারতেন। এখন শিক্ষার্থীরা প্রথমেই বলে দেন, এত বিশাল বিশাল বই পড়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এই প্রতিবেদনের লেখক যে ৩৩ জন অধ্যাপকের সঙ্গে কথা বলেছেন, তাদের বেশিরভাগ একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।

এই প্রবণতার কারণ হতে পারে স্মার্টফোনের প্রভাব। টিনেজাররা সারাক্ষণই ডিভাইসে মশগুল থাকে। এই অভ্যাসের প্রভাব পড়ে তাদের কলেজ জীবনে। কলেজে গিয়ে পড়তে গেলে বারবার তাদের মনোযোগ ছুটে যায়। মনোবিজ্ঞানী ড্যানিয়েল উইলিংহ্যাম বলেন, কোন বিষয় মনোযোগ পাওয়ার যোগ্য, সে সম্পর্কে মানুষের ধারণা বদলে দিয়েছে এটি। আনন্দের জন্য বই পড়াও টিকটক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউবের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় কুলিয়ে উঠতে পারছে না।

আর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলে শ্রেণিকক্ষেও শিক্ষার্থীদের বই পড়া ক্রমেই কমছে। বেসরকারি স্কুলগুলোতে—যেগুলো থেকে অভিজাত কলেজে বেশি শিক্ষার্থী সুযোগ পায়—গোটা বই পড়ানোর চর্চা একটু ধীরগতিতে কমছে। তবে এই স্কুলগুলোও ধীরে ধীরে গোটা বই পড়ানো বাদ দিচ্ছে। এই প্রতিবেদনের লেখক নিজে যে প্রিপারেটরি স্কুলে পড়েছেন, সেখানে শেষ বর্ষে তিনি জেন অস্টেনের ওপর একটি কোর্স নিয়েছিলেন। ওই কোর্সে তিনি জেন অস্টেনের শুধু একটি উপন্যাসই পড়েছিলেন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

এলপিজি নিয়ে সুখবর দিল সরকার

পরিত্যক্ত ভবনে ৬ মরদেহ, সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ল সিরিয়াল কিলার

সিরিয়া সরকার ও এসডিএফের যুদ্ধবিরতি চুক্তি

পাকিস্তান পয়েন্টে চা খেয়ে ফেরা হলো না ২ ভাইয়ের 

দেশের উন্নয়নে তরুণদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ : নুরুদ্দিন অপু

জেআইসিতে গুম-নির্যাতন / শেখ হাসিনা ও ১২ সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু আজ

উচ্চ রক্তচাপে লবণ একেবারে বাদ? শরীরে হতে পারে যে সমস্যাগুলো

বিচ্ছেদের পর সুখবর দিলেন তাহসান খান

বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকার সুযোগ হারাল আর্সেনাল

ঢাকায় শীত নিয়ে আবহাওয়া অফিসের বার্তা

১০

সকাল থেকে টানা ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়

১১

পরিত্যক্ত ভবনে রহস্যজনক মৃত্যু, ঝলসানো ২ মরদেহ উদ্ধার

১২

সাইকেল চালানো শিখিয়েই আয় করলেন ৪৭ লাখ টাকা

১৩

চোখ ভালো আছে তো? যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন

১৪

‘নাটকীয়’ ফাইনালে মরক্কোর স্বপ্ন ভেঙে আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন সেনেগাল

১৫

ট্রাম্পের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করল ইউরোপের ৮ দেশ

১৬

দিল্লি-লাহোরের বায়ুদূষণ ভয়াবহ, ঢাকার খবর কী

১৭

গণভোট জনগণের উপরই ছেড়ে দেওয়া উচিত : নুরুদ্দিন অপু

১৮

স্পেনে দুটি হাই-স্পিড ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত ২১, আহত অনেকে

১৯

রাজধানীতে আজ কোথায় কী

২০
X