বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩
কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ২৪ নভেম্বর ২০২৪, ০৬:৫৯ পিএম
আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২৪, ০৭:০৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

পড়তে ভুলে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থীরা?

ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

কলেজ শিক্ষার্থীরা যে সবসময় তাদের পাঠ্যসূচির সব বই পড়ে শেষ করতেন, এমনটা না। কিন্তু এখন সেই না পড়ার ধরন সম্পূর্ণ বদলে গেছে। ১৯৯৮ সাল থেকে অ্যামেরিকার কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে লিটারেচার হিউম্যানিটিজ পড়াচ্ছেন নিকোলাস ডেমস। ডেমসের শিক্ষার্থীরা এখন মনে করেন, এক সেমিস্টারে কয়েকটি বই পড়ে শেষ করা কার্যত অসম্ভব। একই সমস্যা লক্ষ করেছেন ডেমসের সহকর্মীরাও। বহু শিক্ষার্থী বই পড়ার অভ্যাস ও প্রস্তুতি নিয়ে কলেজে আসে না। অত্যন্ত নামিদামি মার্কিন এলিট কলেজেও এমনটা দেখা গেছে। বিষয়টি নিয়ে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছে মার্কিন সাময়িকী দ্য আটলান্টিক।

২০২২ সালের ফল সেমিস্টারে এক শিক্ষার্থীর কথা শুনে ডেমসের কাছে বিষয়টি কিছুটা পরিষ্কার হয়। ওই শিক্ষার্থী তার অফিসে এসে জানান, স্কুলে তাকে কখনো পুরো একটি বই পড়তে দেওয়া হয়নি। তাকে শুধু বইয়ের নির্দিষ্ট কিছু অংশ, কবিতা ও সংবাদ নিবন্ধ পড়তে দেওয়া হতো—কিন্তু গোটা একটি বই কখনো পড়তে বলা হয়নি।

এই ঘটনাই শিক্ষক নিকোলাস ডেমসকে তার শিক্ষার্থীদের আচরণে পরিবর্তনের কারণ জানিয়ে দেয়। শিক্ষার্থীদের পড়ার ইচ্ছা নেই, এমন নয়। আসলে কীভাবে পড়তে হবে, তা-ই জানে না তারা। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীদের বই পড়তে দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। উপন্যাসের ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করা ডেমস অবশ্য স্বীকার করেন, এই সমস্যা নতুন নয়। তবু তিনি মনে করেন, আমরা এমন একটি পরিবর্তন দেখছি, যা উপেক্ষা করা উচিত নয়।

দুই দশক আগে ডেমসের ক্লাসের শিক্ষার্থীরা অনায়াসে এক সপ্তাহে ‘প্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস’, পরের সপ্তাহে ‘ক্রাইম অ্যান্ড পানিশমেন্ট’ নিয়ে গভীর আলোচনা করতে পারতেন। এখন শিক্ষার্থীরা প্রথমেই বলে দেন, এত বিশাল বিশাল বই পড়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এই প্রতিবেদনের লেখক যে ৩৩ জন অধ্যাপকের সঙ্গে কথা বলেছেন, তাদের বেশিরভাগ একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।

এই প্রবণতার কারণ হতে পারে স্মার্টফোনের প্রভাব। টিনেজাররা সারাক্ষণই ডিভাইসে মশগুল থাকে। এই অভ্যাসের প্রভাব পড়ে তাদের কলেজ জীবনে। কলেজে গিয়ে পড়তে গেলে বারবার তাদের মনোযোগ ছুটে যায়। মনোবিজ্ঞানী ড্যানিয়েল উইলিংহ্যাম বলেন, কোন বিষয় মনোযোগ পাওয়ার যোগ্য, সে সম্পর্কে মানুষের ধারণা বদলে দিয়েছে এটি। আনন্দের জন্য বই পড়াও টিকটক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউবের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় কুলিয়ে উঠতে পারছে না।

আর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলে শ্রেণিকক্ষেও শিক্ষার্থীদের বই পড়া ক্রমেই কমছে। বেসরকারি স্কুলগুলোতে—যেগুলো থেকে অভিজাত কলেজে বেশি শিক্ষার্থী সুযোগ পায়—গোটা বই পড়ানোর চর্চা একটু ধীরগতিতে কমছে। তবে এই স্কুলগুলোও ধীরে ধীরে গোটা বই পড়ানো বাদ দিচ্ছে। এই প্রতিবেদনের লেখক নিজে যে প্রিপারেটরি স্কুলে পড়েছেন, সেখানে শেষ বর্ষে তিনি জেন অস্টেনের ওপর একটি কোর্স নিয়েছিলেন। ওই কোর্সে তিনি জেন অস্টেনের শুধু একটি উপন্যাসই পড়েছিলেন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

টেকনাফ সীমান্তে ভেসে আসছে বিস্ফোরণের শব্দ

৩য় দফায় পেছাল শিশু আসমা ধর্ষণ-হত্যার রায়

ছয় আর্জেন্টাইনের মধ্যে রইল বাকি চার

শ্রমিক দল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

সবুজায়নের অঙ্গীকারে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

পেলের রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় হ্যারি কেইন

ধর্ষণের ১৪ বছর পর রায়, দুই যুবকের ফাঁসির আদেশ

বিএসইসি’র প্রধান কার্যালয়ে শিল্প সচিবের সৌজন্য ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

রাজধানীতে সন্ত্রাসী হামলায় বিএনপি নেতা নিহত

সুফিয়া কামাল হলে ছাত্রদলের ফল উৎসব

১০

৩৩টি বিয়ে নিবন্ধনে স্বাক্ষরে অনিয়ম, কাজীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আদালতের নির্দেশ

১১

প্রতারণা মামলায় এসএমপির সহকারী কমিশনার কারাগারে

১২

শাসরুদ্ধকর ম্যাচে ইংল্যান্ডের জয়

১৩

শিবির নেতা হত্যার প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় বিক্ষোভ

১৪

আসছে টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

১৫

পুলিশকে ‘ইট দিয়ে আঘাত করে’ আসামি ছিনতাইয়ের অভিযোগ

১৬

ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট চাইলেন ব্যবসায়ীরা

১৭

'ভয়ে’ পেনাল্টি নিতে রাজি হননি জার্মানির ৪ ফুটবলার

১৮

টানলেই উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

১৯

শেখ হা‌সিনাকে ফেরানোর অগ্রগ‌তি নিয়ে যে তথ্য জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

২০
X