কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ৩১ জানুয়ারি ২০২৫, ১০:৩৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব ছিল ক্রীতদাসের সন্তানদের জন্য : ট্রাম্প

মার্কিন পতাকা হাতে এক শিশু। ছবি : সংগৃহীত
মার্কিন পতাকা হাতে এক শিশু। ছবি : সংগৃহীত

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব ছিল ক্রীতদাসের সন্তানদের জন্য। এটি সারা বিশ্ব থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের জড়ো করার জন্য নয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ট্রাম্প ক্ষমতায় এসেই যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের বিষয়ে নির্বাহী আদেশ জারি করেন। কিন্তু পরের দিন এটিকে স্থগিত করে দেয় ফেডারেল আদালত।

তার শপথ গ্রহণের প্রথম দিনেই, ট্রাম্প জন্মগত নাগরিকত্বের বিরুদ্ধে একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন, যা পরের দিন সিয়াটলের একটি ফেডারেল আদালত বাতিল করে দেয়। ট্রাম্প জানান, তিনি আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করবেন। আদালত তার পক্ষে রায় দেবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, যখন এ আদেশ পাস এবং প্রণয়ন করা হয়েছিল, তখন যদি আপনি পিছনে ফিরে তাকান, তাহলে দেখা যাবে যে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব ক্রীতদাসের সন্তানদের জন্য ছিল। এটি সমগ্র বিশ্ব থেকে অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে স্তূপীকৃত করার জন্য ছিল না।

ট্রাম্প বলেন, সবাই আসছে, অযোগ্যরা এবং অযোগ্য শিশুরাও জড়ো হচ্ছে। এটি সম্ভবত তাদের জন্য করা হয়নি। আমি শতভাগ এই সিদ্ধান্তের পক্ষে। কিন্তু পুরো বিশ্ব থেকে এসে যুক্তরাষ্ট্র দখল করার জন্য এটি করা হয়নি।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, কোনো শিশু যদি যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্মগ্রহণ করে, তবে সে মার্কিন নাগরিকত্ব পায়। তার বাবা-মা কীভাবে দেশে এসেছেন, সেটি মুখ্য নয়।

কিন্তু ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, যদি অভিবাসী বা পর্যটক ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী কোনো অবৈধ অভিবাসী সন্তান জন্ম দেন, তবে সে আর মার্কিন নাগরিক হিসেবে স্বীকৃত হবে না।

এই পদক্ষেপের ফলে মূলত নিম্ন আয়ের ও অভিবাসী শ্রেণির মানুষরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। বিশেষ করে, যেসব পরিবার একাধিক প্রজন্ম ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছে, কিন্তু এখনো তাদের অভিবাসী স্ট্যাটাস হয়নি, তাদের সন্তানরা নাগরিকত্বের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে। অনেক ক্ষেত্রেই, অবৈধ অভিবাসী মা-বাবার সন্তানরা জন্মের সঙ্গে সঙ্গে নানা সরকারি সুবিধা যেমন- স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও ভবিষ্যতে নাগরিকত্বের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে।

এ ছাড়া, অভিবাসী শিশুদের নাগরিকত্ব প্রক্রিয়ায় বিশাল পরিবর্তন আসছে। নতুন নীতি অনুযায়ী, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া যেসব শিশুর বাবা-মায়ের মধ্যে কোনো একজন যদি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বা গ্রিন কার্ডধারী না হন, তাদের মার্কিন পাসপোর্ট বা ভিসা প্রদান করা হবে না। দীর্ঘমেয়াদে এ সিদ্ধান্ত অভিবাসী সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলবে। এ ব্যবস্থা অবৈধ অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্য এক ধরনের শাস্তি হিসেবে কাজ করবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দুই গ্রামের বাসিন্দাদের সংঘর্ষে নিহত ১

ট্রাম্পের হুমকিতে সুইজারল্যান্ডে আলোচনা স্থগিত, কঠোর বার্তা ইরানের

আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক শুরু

রাস্তা ভেঙে নদীর সঙ্গে একাকার

কাতারের বৃহৎ এলএনজি উৎপাদন ও রপ্তানি কেন্দ্রে বিস্ফোরণ

খোলা ম্যানহোলে পড়ে নারীর মৃত্যু

লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে না ইসরায়েল : নেতানিয়াহু

পুত্রাজায়ায় তারেক রহমানকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর উষ্ণ অভ্যর্থনা

ঢাকাসহ দেশের ৯ জেলায় দুপুরের মধ্যে ঝড়বৃষ্টির আশঙ্কা

২০ বছরের হাফ ভাড়ার প্রতিদানে শিক্ষার্থীরা কী দিল?

১০

ছুরিকাঘাতে শিবির নেতাকে হত্যা, যুবদলের মুকুল বহিষ্কার

১১

দেশের নারী উদ্যোক্তা আন্দোলনের অগ্রদূত সেলিমা আহমাদ

১২

ভোর চারটায় উঠে কারখানায় যাওয়া সেই শ্রমিকই বিশ্বকাপের নকআউটে তুললেন জার্মানিকে

১৩

অফসাইডে বাতিল হলো ইরানের গোল

১৪

মেসিকে ছাড়িয়ে রেকর্ড বইয়ে ইয়ামাল

১৫

পেলের ৬৮ বছরের রেকর্ডে ভাগ বসালেন ইয়ামাল

১৬

বাংলাদেশকে ১ হাজার ফুটবল উপহার দিল পাকিস্তান

১৭

বিস্ফোরণের সূত্র ধরে কবরস্থানে অভিযান, এক বালতি ককটেল উদ্ধার

১৮

সৌদির জালে ৪ গোল দিয়ে বুঝিয়ে দিল স্পেন আছে স্পেনেই

১৯

স্বামী পরিত্যাক্তা নারীকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা, বৃদ্ধ গ্রেপ্তার

২০
X