বশির হোসেন, খুলনা
প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০২৪, ০৩:৩০ এএম
আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২৪, ০৮:৩০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

প্রশাসনিক অচলাবস্থায় বিপর্যস্ত স্বাস্থ্যসেবা

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
প্রশাসনিক অচলাবস্থায় বিপর্যস্ত স্বাস্থ্যসেবা

৯ জুলাই থেকে পরিচালক অফিস করেননি। উপপরিচালক বদলি হয়েছেন গত সপ্তাহে। তত্ত্বাবধায়ক প্রথম থেকেই অফিসে অনিয়মিত। ফলে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে প্রশাসনিক অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে সময়মতো টেন্ডার কার্যক্রম শুরু না করায় এক মাস ধরে হাসপাতালে নেই তিন শতাধিক আউটসোর্সিং কর্মী। ফলে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হওয়া খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিপর্যস্ত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সাল থেকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আলাদা চারটি লটে ৩০৭ জন আউটসোর্সিং কর্মচারী কাজ করে আসছিলেন, যাদের মেয়াদ শেষ হয় এ বছরের ৩০ জুন।

নিয়ম অনুযায়ী হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে অন্তত তিন মাস আগে থেকে টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করার নিয়ম রয়েছে। তবে রহস্যজনকভাবে এ কার্যক্রম শুরু না করে গোপনে একই ঠিকাদারকে মেয়াদ বৃদ্ধি করার জন্য প্রয়োজনীয় চিঠি সরবরাহ করে হাসপাতাল প্রশাসন। সময়মতো মেয়াদ বৃদ্ধি বা টেন্ডার কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় বর্তমানে হাসপাতালে কোনো আউটসোর্সিং কর্মচারী নেই। ফলে তিন শতাধিক কর্মচারী শূন্যতায় হাসপাতালের চারিদিক ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।

সরেজমিন হাসপাতালের বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করে দেখা যায়, প্রতিটি ব্লকের মধ্যবর্তী জায়গা ডাস্টবিনে পরিণত হয়েছে। দুর্গন্ধে রোগীদের নাভিশ্বাস উঠেছে। এ ছাড়া বহির্বিভাগ অপারেশন থিয়েটারসহ বিভিন্ন স্থানে আউটসোর্সিং কর্মচারীরা ঠিকমতো না আসার কারণে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে বিপর্যস্ত অবস্থা।

হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আসলাম শেখ নামে এক রোগী কালবেলাকে বলেন, টাকা-পয়সা নেই, সেজন্য সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি; কিন্তু এখানে আসার পর আলট্রাসনোগ্রাম, এক্স-রে, প্যাথলজি পরীক্ষা ও ক্যাথেটার পরাতে হাজার টাকা শুধুমাত্র আউটসোর্সিং কর্মচারীদের দিতে হয়েছে। টাকা ছাড়া তারা কোনো কাজ করেন না। সার্জারি, গাইনি, নিউরো মেডিসিন বিভাগে একাধিক রোগীর সঙ্গে কথা বলে একই অভিযোগ পাওয়া গেছে।

হাসপাতালের আউটসোর্সিং ঠিকাদার হেমায়েত হোসেন ফারুক বলেন, হাসপাতালে বর্তমানে কোনো আউটসোর্সিং কর্মচারী নেই। যারা আগে করেছেন, তারাই এখন কাজ করছেন। যেহেতু হাসপাতালের সঙ্গে কোনো ধরনের চুক্তি এখনো হয়নি, তাই কোনো কর্মচারীকে কাজের জন্য বাধ্য করা যাচ্ছে না।

তবে গত মার্চে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মেয়াদ বৃদ্ধির চিঠি ইস্যু করায় নিয়মমাফিক তা মন্ত্রণালয় থেকে পাস হয়ে এসেছে। এখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চাইলে চুক্তিভিত্তিক ২০৬ জন কর্মচারীকে ফের কাজে লাগাতে পারবে। পরিচালক বা উপপরিচালক যিনিই ডিডিওশিপ কর্মকর্তা থাকুন, তিনিই চুক্তিসম্পন্ন করে ফের আউটসোর্সিংয়ের কর্মচারী নিয়োগ দিতে পারবেন। কিন্তু উপপরিচালক বদলির পর কোনো ডিডিওশিপ কর্মকর্তা না থাকায় নতুন করে ডিডিওশিপ কর্মকর্তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ৯ ডিসেম্বর হাসপাতালের বিভিন্ন বিষয়ের ওপর পরিচালক ও উপপরিচালকের বৈঠকের পর ১০ জুলাই ৭ দিনের ছুটি নিয়ে বাড়ি চলে যান পরিচালক ডা. গৌতম কুমার পাল; কিন্তু ছুটি শেষ হলেও তিনি আর হাসপাতালে আসেননি।

হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসক ও কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, বর্তমান পরিচালক ডা. গৌতম কুমার পাল খুলনায় চাকরি করতে চান না। তাই নিজের বদলি করাতে ঢাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

এদিকে উপপরিচালক ১৭ জুলাই ঝিনাইদহ মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুলে (ম্যাটস) অধ্যক্ষ হিসেবে বদলির পর তাড়াহুড়া করে পরের দিনই বিদায় নেন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে। ফলে প্রশাসনিক শূন্যতা তৈরি হয় দক্ষিণ বঙ্গের সর্ববৃহৎ এই হাসপাতালটিতে। বুধবার চূড়ান্তভাবে ছাড়পত্র নেওয়ার সময় হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ককে উপপরিচালকের দায়িত্বভার গ্রহণ করান তত্ত্বাবধায়ক ডা. আক্তারুজ্জামান। তবে ২ মাস আগে তত্ত্বাবধায়কের পদে যোগদান করলেও হাসপাতালে নিয়মিত হননি তিনি।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালককে ফোন দিলে জানা যায়, তিনি বর্তমানে অসুস্থ অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চাকরিতে যোগদানের ব্যাপারে কোনো উত্তর দেননি তিনি।

উপপরিচালক ডা. হুসাইন শাফায়াত কালবেলাকে বলেন, বেশ কিছুদিন এখানে চাকরি করলাম। সরকারি চাকরিতে বদলিটা নিয়মিত ব্যাপার। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল তো নিশ্চই ফাঁকা থাকবে না। সরকার যাকে যোগ্য মনে করবে, তাকে সেখানে দায়িত্ব দেবে। তিনি দায়িত্ব পালন করবেন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সেমিনারে বক্তারা / সুশাসন নিশ্চিত করতে হলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য

এএফসি টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন বিমান, রানার্সআপ ইউএস-বাংলা

সকাল ৯টার মধ্যে ঝড় হতে পারে যেসব অঞ্চলে

সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটে ফিরছে সরাসরি ফ্লাইট, রোববার প্রথম যাত্রা

জুলাই সনদের প্রতি পুনরায় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করলেন জামায়াত আমির

হরমুজ প্রণালি ইরানের জন্য পারমাণবিক অস্ত্রের মতোই গুরুত্বপূর্ণ 

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অংশীদারত্ব আরও গভীর করার আহ্বান ডা. শফিকুর রহমানের

ইসলামিক ব্যাংকিংয়ে সুশাসন, শরিয়াহ কমপ্লায়েন্স বাস্তবায়নে জোর

ফরিদপুর বিভাগ ও সিটি করপোরেশন হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পুরো ৯০ মিনিট খেলার জন্য প্রস্তুত নেইমার : আনচেলত্তি

১০

কুমিল্লা ও চাঁদপুরে আনসার-ভিডিপির কার্যক্রম পরিদর্শনে অতিরিক্ত মহাপরিচালক

১১

কমিউনিস্টবিরোধী বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের সূচনা করলেন ট্রাম্প

১২

সাগরে লঘুচাপ, ঝড়ো হাওয়ার আভাস

১৩

ফুটপাতে ঘুমন্ত নারীকে ধর্ষণ, বিএনপি কর্মী আটক

১৪

নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭ / বক্তৃতা প্রতিযোগিতায় মাতিন হাসানের প্রথম স্থান অর্জন

১৫

রিয়াদে পরিত্যক্ত কক্ষে প্রবাসী যুবকের মৃত্যু, লাশ দেশে আনতে স্বজনদের আকুতি

১৬

মুকসুদপুরে হ্যান্ডকাফ ও খেলনা পিস্তলসহ ভুয়া পুলিশ আটক

১৭

নদী বন্দর এলাকা পরিদর্শনে নৌ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান

১৮

বিশ্বকাপ জিতবে কারা, শেষ ষোলোর আগে ভবিষ্যদ্বাণী অপটার

১৯

সড়কে প্রাণ গেল ২ জনের

২০
X