দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় সেনাবাহিনীর সদস্যরা মাঠে আছেন। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের নির্ভয়ে পূজামণ্ডপে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। গতকাল শনিবার ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শনে এসে এই অভয় দেন তিনি। দুর্গাপূজা উপলক্ষে গ্রহণ করা নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখতে মন্দির পরিদর্শন করেন সেনাপ্রধান।
বিকেলে সেনাপ্রধান ঢাকেশ্বরী মন্দিরে পৌঁছালে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা স্বাগত জানান। পরে মতবিনিময় সভায় পূজার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সেনাপ্রধানকে অবহিত করা হয়।
সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সাংবাদিকদের জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে দেশব্যাপী জেলায় জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন থেকে পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে সদা তৎপর।
পূজামণ্ডপে নির্ভয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, আমরা শত শত বছর ধরে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান একসঙ্গে বসবাস করছি, শান্তিতে বসবাস করছি। এ দেশে সবার অধিকার আছে, সমঅধিকার আছে। যার যার ধর্ম সে সে পালন করবে। সেজন্য যা কিছু করতে হয়, তা আমরা করব। আমরা মাঠে আছি। আপনারা নির্ভয়ে পূজামণ্ডপে যাবেন, পূজা করবেন, সুন্দরভাবে উদযাপন করবেন। আপনাদের ভয় পাওয়ার কারণ নেই। সারা দেশের বিভিন্ন জায়গায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। আমি বিশেষভাবে বলে দিয়েছি। আমরা একটা সুন্দর পরিবেশ চাই। সেই পরিবেশে আপনারা পর্বটা উদযাপন করবেন। সেটাই আমাদের আশা।
সেনাবাহিনী প্রধানের মন্দির পরিদর্শনকে স্বাগত এবং কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর যে ঘটনাগুলো ঘটেছে, সেগুলো সম্পর্কে বলেছি। সেনাপ্রধান মনোযোগ দিয়ে সেসব শুনেছেন। উনি বলেছেন, এগুলোর যেন বিচার হয়, সে ব্যাপারে উদ্যোগ নেবেন। আমরা সনাতনী সম্প্রদায়ের প্রাণের আট দফা দাবি উপস্থাপন করেছি। উনি দাবিনামার কাগজ নিয়েছেন। বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন।
সন্তোষ শর্মা বলেন, সারা দেশে এ পর্যন্ত কত প্রতীমা ভাঙার ঘটনা ঘটেছে, সেগুলো জানিয়েছি। উনি নিজেই অবগত আছেন। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে যে উদ্যোগ চলছে, সেটার ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিন ওসিকে প্রত্যাহার হয়েছে, সেটাও জানানো হয়েছে। যেন পরবর্তী সময়ে আর কোনো ঘটনা না ঘটে, সে ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকার জন্য বলেছেন, আমরাও বলেছি।