

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আগামীতে তার দল দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে এককভাবে নয়; বরং জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ পরিচালনা করা হবে। বিভেদ নয়, বরং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়াই হবে জামায়াতের মূল লক্ষ্য। নতুন বাংলাদেশে কোনো ধরনের আধিপত্যবাদ, দুর্নীতি কিংবা চাঁদাবাজির স্থান হবে না। তিনি দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে ‘ইনসাফ কায়েম’ এবং আধিপত্যবাদমুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্যে আসন্ন নির্বাচনে ‘দাঁড়িপাল্লা’ মার্কায় ভোট দেওয়ার পাশাপাশি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
উত্তরাঞ্চল সফরের দ্বিতীয় দিনে গতকাল শনিবার রংপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া ও সিরাজগঞ্জে পৃথক জনসভা ও পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন সকালে তিনি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও তার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু করেন।
সেখানে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শহীদ আবু সাঈদ ও তার সঙ্গীরা জীবন দিয়ে আমাদের জন্য একটি ক্ষেত্র তৈরি করে গেছেন। আমাদের ঘাড়ে তারা দায়িত্ব ও আমানত রেখে গেছেন। আমরা তাদের মতো জীবন দিয়ে হলেও তাদের আমানত রক্ষার লড়াই করে যাব। তাদের আকাঙ্ক্ষা ছিল দুর্নীতি, সন্ত্রাস, ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদমুক্ত একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়া, যে বাংলাদেশের সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষ মিলেমিশে শান্তিতে বসবাস করবে এবং যার যার দক্ষতা অনুযায়ী জাতি গঠন উন্নয়নে অবদান রাখবে।’ যুবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যুবকদের কথা দিচ্ছি, আমরা সুযোগ পেলে তোমাদের প্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়ব। আমরা সমাজের চাবি ও নেতৃত্ব তোমাদের হাতে তুলে দিয়ে পেছন থেকে তোমাদের শক্তি ও সমর্থন দিয়ে যাব। তোমাদের ভোট নিয়ে যেন কেউ হেলাফেলা করতে না পারে এজন্য তোমাদের জুলাই যুদ্ধের মতো আরেকবার লড়তে হবে এবং জনতার বিজয় ছিনিয়ে আনতে হবে।
রংপুর থেকে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী এসএম পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেন জামায়াত আমির। সেখানে তিনি কোনো ধরনের আধিপত্যবাদের ছায়া বাংলাদেশে দেখতে চান না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘বিশ্বের সকল দেশের সঙ্গে আমরা বন্ধুত্বের সম্পর্ক চাই। আমরা প্রতিবেশী দেশকে প্রতিবেশী হিসেবেই দেখতে চাই, কারো খবরদারি বরদাশত করব না।’ তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট বাংলাদেশের আমূল পরিবর্তনের হাতছানি দিচ্ছে। এ সময় তিনি গাইবান্ধার পাঁচটি আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে দুর্নীতিমুক্ত ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দেন।
গাইবান্ধায় জনসভা শেষ করার পর সেখান থেকে বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে গিয়ে আরেকটি জনসভায় যোগ দেন জামায়াত আমির। সেখানে তিনি ঘোষণা করেন, জামায়াত ক্ষমতায় এলে কোনো রাজনৈতিক ধোঁকা নয়; বরং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে কাজ করবে। তিনি বলেন, ‘বগুড়াবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি শহীদ চাঁন্দু স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরিয়ে আনা হবে এবং বগুড়া সিটি করপোরেশন ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন করা হবে।’ এ সময় তিনি উত্তরাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত সহজ করতে গাইবান্ধায় দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান।
তিনি আরও বলেন, যারা জনগণের টাকা চুরি করে বিদেশে পাচার করেছে, তাদের কাছ থেকে সেই টাকা উদ্ধার করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত আনা হবে। বেকার যুবকদের হাতকে কারিগরের হাতে পরিণত করার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, নারীদের জন্য কর্মক্ষেত্রে শতভাগ নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে। এদিন তিনি শিবগঞ্জের মোকামতলা ও শেরপুরের মহিপুর খেলার মাঠে পৃথক পথসভায় বক্তব্য দেন এবং বগুড়ার সাতটি আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন।
পরে বিকেলে সিরাজগঞ্জ ইসলামিয়া কলেজ মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াত আমির। সিরাজগঞ্জের আঞ্চলিক সমস্যার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তাঁতশিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করা হবে এবং সিরাজগঞ্জের খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় এখানে অত্যাধুনিক গুড়ো দুধ প্রক্রিয়াজাতকরণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া দুর্নীতি ও নদীভাঙন রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলার অর্থ হলো আধিপত্যবাদের দালাল ও চাঁদাবাজদের লালকার্ড দেখানো। জনসভা শেষে তিনি সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানের পথসভায় অংশগ্রহণ করেন।
মন্তব্য করুন