বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর ২০২৩, ০৩:৫৭ এএম
আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০২৩, ০৯:১২ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

রাজনৈতিক কারণে মার্কিন শ্রমনীতির টার্গেট হতে পারে বাংলাদেশ

বাণিজ্য সচিবকে চিঠি ওয়াশিংটন দূতাবাসের
কারখানায় কাজ করছেন শ্রমিকরা। ছবি: সংগৃহীত
কারখানায় কাজ করছেন শ্রমিকরা। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বব্যাপী কর্মীদের ক্ষমতায়ন, অধিকার এবং হাই লেবার স্ট্যান্ডার্ড উন্নয়ন ইস্যুতে গত ১৬ নভেম্বর একটি প্রেসিডেন্সিয়াল মেমোরেন্ডাম বা নতুন শ্রমনীতি ঘোষণা করেন মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের সেক্রেটারি অ্যান্টনি জে ব্লিঙ্কেন। ঘোষিত সর্বশেষ এ নীতিটি বিশ্বের সব দেশের জন্য প্রযোজ্য হলেও সেটি রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহার করা হতে পারে। এর ফলে শ্রম অধিকার ও রাজনৈতিক ইস্যু—এ দুই ক্ষেত্রেই যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে বাংলাদেশ। এ নিয়ে বাংলাদেশের যথেষ্ট উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ রয়েছে উল্লেখ করে সময় থাকতেই সংশ্লিষ্টদের সেগুলোকে অগ্রাধিকারের সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়া উচিত বলে জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমনীতি ইস্যুতে ওয়াশিংটনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ এর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এমন বার্তা দেওয়া হয়েছে। গত ২০ নভেম্বর দূতাবাসের মন্ত্রী (বাণিজ্য) মো. সেলিম রেজা স্বাক্ষরিত এই ২২ নভেম্বর বাণিজ্য সচিবের কাছে পৌঁছেছে। দায়িত্বশীল বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, রাজনৈতিক কারণে বাংলাদেশকে টার্গেট করেই যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম অধিকার-সংক্রান্ত স্মারকলিপি প্রকাশ বা শ্রমনীতি ঘোষণা করা হয়ে থাকতে পারে—এটিই হলো ওই চিঠির মূল বার্তা। যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রকাশিত এই মেমোরেন্ডামটি সব দেশের জন্য প্রযোজ্য একটি বৈশ্বিক নীতি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তবুও বাংলাদেশ যে তাদের করা টার্গেটগুলোর মধ্যে একটি হতে পারে—এটি মনে হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘মেমোরেন্ডামের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের শ্রমবিষয়ক ইস্যুগুলো বিশেষভাবে উদ্ধৃত করেছেন সেক্রেটারি অব স্টেট এবং অ্যাক্টিং সেক্রেটারি অব লেবার’। ওই অনুষ্ঠানে অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেন, যারা ইউনিয়ন নেতা, শ্রমিক অধিকার রক্ষাকারী ও শ্রমিক সংগঠনকে আক্রমণ করে, হুমকি দেয়, ভয় দেখায় তাদের জবাবদিহি করতে হবে। যারা এ ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা, বাণিজ্যবিষয়ক জরিমানা এবং ভিসা নিষেধাজ্ঞার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে আমাদের নিজস্ব বাণিজ্য চুক্তি, সাপ্লাই চেইন শ্রমিকদের সুরক্ষা ও জোরপূর্বক শ্রম দিয়ে তৈরি পণ্য আমদানি করছি না তা নিশ্চিত করতে যথাযথ সতর্কতা ও প্রয়োগ জোরদার করব।’ অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেন, ‘আমরা কল্পনা আক্তারের মতো বাংলাদেশি গার্মেন্টস কর্মী ও অ্যাক্টিভিস্টের পাশে থাকতে চাই। যিনি বলেছেন, মার্কিন দূতাবাস তার পাশে থাকায় তিনি আজ বেঁচে আছেন।’

চিঠিতে বলা হয়, মেমোরেন্ডাম অনুসারে, মার্কিন ফরেইন মিশন সরাসরি শ্রমবিষয়ক ইস্যু নিয়ে কাজ করবে। এ নীতিটি আগ্রহী মার্কিন কূটনীতিক বা মিশন অনেক অভ্যন্তরীণ-বাহ্যিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে উৎসাহিত করতে পারে।’ আরও বলা হয়, ‘ধারণা করা হচ্ছে, এ নীতি কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে প্রয়োগ করার সুযোগ আছে, যদি তারা মনে করে সেখানে শ্রম অধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে।’

মেমোরেন্ডামটি বাংলাদেশের জন্য একটি সংকেত বলে উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, মেমোরেন্ডামে শ্রম অধিকার সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তার পেছনে রাজনীতি রয়েছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন উপায়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য তা ব্যবহারের চেষ্টা করবে। একইভাবে ‘শ্রম ইস্যুর অজুহাতে’ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এ নীতির অধীনে যে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে, যা বাংলাদেশের পোশাক খাতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত শ্রমনীতি বা প্রকাশিত মেমোরেন্ডাম প্রশ্নে সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘এটি তাদের (মার্কিন) অভ্যন্তরীণ বিষয়। তারা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে। তারা ধনী রাষ্ট্র। আমরা আমাদের বাস্তবতা অনুযায়ী আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করব। তবে বাংলাদেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে কোনো সমস্যা হবে না।

আর বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ জানিয়েছিলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত শ্রম অধিকার-সংক্রান্ত মেমোরেন্ডাম শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, পুরো বিশ্বের জন্য। এ নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। তা ছাড়া শ্রমিক অধিকারের উন্নতি একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং সরকার কয়েক বছর ধরে এটি নিয়ে কাজ করছে। এর পাশাপাশি শুল্ক হ্রাস বা শূন্য হারে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেওয়া অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা ধরে রাখতেও শ্রম অধিকার ইস্যুকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে আসছে। কিছু কাজ চলমান। সেগুলোকে সামনে আরও গুরুত্ব দেওয়া হবে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে বাংলাদেশ। তাই এ নিয়ে শঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আমরা তো উন্নয়নের মধ্যেই রয়েছি।

যদিও গত ১৪ নভেম্বর ঢাকায় ইইউ মিশনের কার্যালয়ের এক বৈঠকে বাংলাদেশের একদল শ্রমিক নেতা সফররত ইইউ প্রতিনিধিদলের কাছে অভিযোগ করেন, সংশোধিত শ্রম আইন শ্রমিকবান্ধব নয়।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

শাকসু নির্বাচন ঘিরে উত্তপ্ত শাবিপ্রবি, সিদ্ধান্তহীনতায় নির্বাচন কমিশন

প্রশাসন কোনো দলের দালালি করলে জনগণ কঠিন জবাব দেবে: ইশরাক

আড়াইঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে মাতারবাড়ী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের আগুন

আসিফ নজরুলের মন্তব্য নিয়ে এবার মুখ খুলল আইসিসি

আলোনসোকে বরখাস্ত করল রিয়াল, জানাল নতুন কোচের নাম

১৫ স্যাটেলাইট ও একটি কৃত্রিম উপগ্রহ নিয়ে ছিটকে পড়ল ভারতের রকেট

ঢাকায় এসে নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূতের উচ্ছ্বাস প্রকাশ

নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে উত্তাল শাবিপ্রবি

বিশ্বকাপ ইস্যুতে বিসিবিকে পাঠানো আইসিসির চিঠিতে কী বলা হয়েছে

মারা গেলেন ১৫ বছর বয়সে অভিষেক হওয়া সেই ক্রিকেটার

১০

তাহেরির স্ত্রীর কোনো স্বর্ণ নেই, নিজের আছে ৩১ ভরি

১১

‘দ্বিতীয় বিয়েতে আগের স্ত্রীর অনুমতি’: যেভাবে ছড়িয়ে পড়ে বিভ্রান্তি

১২

আ.লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার

১৩

মাতারবাড়ী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে আগুন

১৪

চট্টগ্রাম চেম্বার নির্বাচনে আইনি বাধা নেই

১৫

১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন স্থগিতের নির্দেশ

১৬

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১০

১৭

ঢাবির বিভাগীয় চেয়ারম্যান পদ থেকে গোলাম রাব্বানীকে অব্যাহতি

১৮

জামায়াত ঐক্যের নামে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে : মাওলানা আনোয়ারুল করিম

১৯

এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এনটিআরসিএর কড়া বার্তা

২০
X