পুরান ঢাকার পাটুয়াটুলী এলাকার সুমনা হাসপাতাল। দুটি ছয়তলা ভবনে চলে বেসরকারি এই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম। প্রায় সব ধরনের রোগী ভর্তির পাশাপাশি রয়েছে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের চেম্বার। নব্বইয়ের দশকে গড়ে ওঠা এ হাসপাতালটি এলাকার মানুষের কাছে ‘পুরান ঢাকার বামরুনগ্রাদ’ হিসেবে পরিচিত। কিন্তু ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকায় আছে এ হাসপাতালের নাম। গতকাল বুধবার সরেজমিন ঘুরে পাওয়া গেছে তার প্রমাণ।
শুধু সুমনা হাসপাতাল নয়, অগ্নিঝুঁকির তালিকায় দেশের একমাত্র চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতালের একাধিক ভবন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল থেকে শুরু করে সরকারি-বেসরকারি নামিদামি অনেক হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ভবন রয়েছে ফায়ার সার্ভিসের নেতিবাচক তালিকায়।
হাসপাতাল ও ক্লিনিক পরিদর্শনের তালিকা দেখতে ক্লিক করুন
এ বিষয়ে মন্তব্য চাওয়া হলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন কালবেলাকে বলেন, ‘হাসপাতাল বা কোনো চিকিৎসা কেন্দ্রে আগুনের ঝুঁকি মানা যায় না। হাসপাতালগুলোতে অবশ্যই শতভাগ অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকতে হবে। ফায়ার সার্ভিস ঝুঁকিপূর্ণ হাসপাতালের তালিকা আমাদের কাছে দিলে আমরা অবশ্যই তালিকা ধরে ব্যবস্থা নেব।’
হাসপাতাল ও ক্লিনিক পরিদর্শনের তালিকা দেখতে ক্লিক করুন
জানা গেছে, ২০১৭ সালে ঢাকার চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শনের পর ঝুঁকিপূর্ণ তালিকা তৈরি শুরু করে ফায়ার সার্ভিস। গত বছর পর্যন্ত রাজধানীতে ৩৪৫টি হাসপাতাল পরিদর্শন করে ৩৩৮টিকেই অগ্নিঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এর মধ্যে উচ্চ অগ্নিঝুঁকির তালিকাভুক্ত ১২০টি হাসপাতাল। অনেক হাসপাতালের ফায়ার লাইসেন্স বাতিলের পাশাপাশি হাসপাতালগুলোকে চিঠি দিয়ে অগ্নিঝুঁকির বিষয়টি জানিয়ে নিরাপত্তা বাড়াতে বলা হয়।
ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের ঢাকা বিভাগের তৎকালীন উপপরিচালক দিনমনি শর্মার নেতৃত্বে অগ্নিঝুঁকিতে থাকা হাসপাতালগুলোর তালিকা করা হয়েছিল। এই কর্মকর্তা বর্তমানে চট্টগ্রামে উপপরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি কালবেলাকে বলেন, ‘পরিদর্শন করার পর অগ্নিঝুঁকি পাওয়া প্রতিটি হাসপাতালে চিঠি দিয়ে অবগত করে অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছিল। কারণ হাসপাতালে অবস্থান করে বেশিরভাগ রোগী। আগুন লাগলে তারা নিরাপদে যেতে পারবেন না, সামান্য আগুনেও তাদের বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। কিন্তু পরিস্থিতির খুব একটা উন্নত হয়নি।’
ফায়ার সার্ভিসের তালিকা ধরে গত কয়েকদিনে সরকারি-বেসরকারি অন্তত ১০টি হাসপাতালে সরেজমিন গিয়ে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থায় ঢিলেঢালা অবস্থা দেখা যায়। অগ্নিঝুঁকির তালিকায় থাকা হাসপাতালগুলোর বেশিরভাগই বহুতল ভবনে অবস্থিত হলেও একটিমাত্র সিঁড়ি দিয়েও রোগী ও স্বজনদের ওঠানামার দৃশ্য দেখা যায়। হাসপাতালগুলোতে লিফট থাকলেও তা আবাসিক ভবনের লিফটের মতোই অপ্রশস্ত। প্রায় কোনো হাসপাতালেই অগ্নিদুর্ঘটনা বা অন্য কোনো দুর্ঘটনায় রোগী বা স্বজনদের জরুরিভাবে বের হওয়ার মতো সিঁড়ি বা লিফট নেই। নেই পথ নির্দেশিকাও। বেশিরভাগ হাসপাতালে অগ্নিনির্বাপণের প্রাথমিক যন্ত্রও নেই। কোনো কোনোটিতে এমন যন্ত্র দেখা গেলেও তা মেয়াদোত্তীর্ণ। অনেক হাসপাতালে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বৈদ্যুতিক তার ঝুলে থাকতেও দেখা যায়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা কালবেলাকে বলেন, ‘দেশের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে অগ্নিঝুঁকি নিরসনে করণীয় বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে সবসময় নির্দেশনা দেওয়া হয়। নির্দেশনা মেনে চলার বিষয়ে তদারকিও করা হয়। এর পরও ফায়ার সার্ভিসের পরিদর্শন প্রতিবেদনে ঝুঁকিপূর্ণ হাসপাতালের তালিকায় যাদের নাম উঠে এসেছে, তালিকা ধরে ধরে তাদের বিষয় অবশ্যই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
হাসপাতালে আগুন লাগলে যে কতটা মানবিক বিপর্যয় হয়, তা ২০১৯ সালে ফেব্রুয়ারিতে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভয়াবহ আগুনে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিল। ওই সময়ে আতঙ্কে হাসপাতালে ভর্তি রোগীরাও প্রাণ বাঁচাতে দৌড়াদৌড়ি শুরু করেন। অথচ অসুস্থ হয়ে সুস্থতার জন্য তারা চিকিৎসা নিচ্ছিলেন হাসপাতালটিতে। ওই আগুনে হাসপাতালটিতে ভর্তি থাকা ১ হাজার ১৭২ রোগীর সবাই হাসপাতাল ছেড়েছিলেন আতঙ্কে। আগুন লাগার রাতে রোগীরা হাসপাতালের মাঠে আশ্রয় নিয়েছিলেন। পরে তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
গত ৮ মে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগ অংশের তৃতীয় তলায় ৩১০ নম্বর ওয়ার্ডে নার্স কক্ষে আগুন লাগে। এর আগে ওই বছরের বছরের ফেব্রুয়ারিতে হাসপাতালের নতুন ভবনের চারতলায় আগুন লাগে। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে হাসপাতালটির জরুরি বিভাগে অগ্নিকাণ্ডে আতঙ্ক ছড়ায়। তবে ওই বছরের মার্চে হাসপাতালে কভিড-১৯ রোগীদের জন্য নির্ধারিত একটি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড হয়। তখন রোগীদের সরিয়ে নেওয়ার সময় তিনজনের মৃত্যু হয়।
জাতীয় স্বাস্থ্য আন্দোলনের সভাপতি ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রশিদ ই মাহাবুব কালবেলাকে বলেন, ‘কোনো দুর্ঘটনার পরই বেরিয়ে আসে অসংগতির চিত্র। অথচ এসব স্থাপনা যখন গড়ে ওঠে, তখন যদি কঠোর নির্দেশনার মাধ্যমে ঝুঁকি মোকাবিলায় করণীয় ঠিক করা যেত, তাহলে কিন্তু রাজধানীর শত শত হাসপাতাল অগ্নিঝুঁকিতে আছে শুনতে হতো না। বিষয়টি নিয়ে কিছুদিন আলোচনা হবে, এরপর আবারও সবার অগোচরে হারিয়ে যাবে।’
বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সাবেক এই সভাপতির পরামর্শ, ‘এখন ঝুঁকিপূর্ণ হাসপাতালের তালিকা ধরে বন্ধ করা কোনো সমাধান হবে না। তাহলে রোগীরা বিপাকে পড়বেন। সমাধানের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সময় বেঁধে দিতে হবে। তারপরও পরিবর্তন না করলে কঠোর অবস্থানে যেতে হবে। একটি সমন্বিত উদ্যোগ নিয়ে অগ্নিঝুঁকিমুক্ত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সবার আগে সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে।’
এদিকে ফায়ার সার্ভিসের তালিকায় থাকা চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পুরান ঢাকার সুমনা হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ছয়তলা দুটি ভবনের মধ্যে একটিতে প্রবেশের পুরো সিঁড়িই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে! সিঁড়িঘরে স্থাপন করা হয়েছে ব্যবস্থাপকের অফিস। উত্তর পাশের ভবনের সিঁড়ি দিয়ে ঢুকতে হয় ওই ভবনে। সেখানে গিয়ে কুঠুরির মতো মনে হয়। কোনো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে রোগী বা স্বজনদের পথ খুঁজে বের করাই কষ্টকর হবে। হাসপাতালটিতে একটি লিফট থাকলেও অগ্নিকাণ্ডের সময়ে ব্যবহার করার মতো লিফট নেই। হাসপাতালটির ফায়ার লাইসেন্সও নেই। তবে সেখানে অগ্নিনির্বাপণের জন্য এক্সটিংগুইশার দেখা গেছে।
জানতে চাইলে সুমনা হাসপাতালের পরিচালক (প্রশাসন ও এইচআর) ইমাদ উদ্দিন আহমেদ কালবেলাকে বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিস পরিদর্শন করে তাদের ফায়ার লাইসেন্স স্থগিত করেছে। এরপর তারা অগ্নিনিরাপত্তার জন্য কিছু সরঞ্জাম স্থাপন করেছেন। এরপর ফায়ার লাইসেন্সের আবেদন করা হলেও জরুরি বহির্গমনের সিঁড়ি না থাকায় তা পাননি। ভাড়া ভবন হওয়ায় এখনো ওই সিঁড়ি স্থাপন করা যায়নি। তারা লোহার স্ট্রাকচারে সিঁড়ি বসানোর চেষ্টা করছেন।’
গ্রিন রোডের ২৫ নম্বর বাসায় ক্রিসেন্ট গ্যাস্ট্রোলিভার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালটিও আছে অগ্নিঝুঁকিতে। মূল সড়ক থেকে সরু রাস্তা ধরে এগিয়ে গেলে একটি পুরোনো আবাসিক ভবনে গড়ে তোলা হয়েছে এই হাসপাতাল। ভবনের বাইরে আছে একটি লিফট। তার পাশেই আগুন নেভানোর জন্য কয়েকটি বালতিতে বালু ভরে রাখা হয়েছে। লিফটের বাইরে একটি সরু সিঁড়ি বেয়ে রোগী ও স্বজনদের ওঠানামা করতে হয়। অগ্নিদুর্ঘটনা কিংবা কোনো অঘটন ঘটলে ওই ভবন থেকে দ্রুত বেরোনোর কোনো পথ খোলা নেই।
গতকাল ওই হাসপাতালে গিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলেও কেউ রাজি হননি। তবে হাসপাতালটির কয়েকজন কর্মী জানিয়েছেন, তারা কখনো অগ্নিনির্বাপণ কোনো মহড়া দেখেননি।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) প্রতিদিন কয়েক হাজার রোগী শুধু বহির্বিভাগে চিকিৎসার জন্য আসেন। শাহবাগের মূল সড়ক ঘেঁষা পাশাপাশি দুটি ভবনে চলে বহির্বিভাগ সেবা। দুই ভবনে সিঁড়ি, লিফট ও এক্সেলেটর লিফটের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে রোগীসহ বিপুলসংখ্যক মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক সিঁড়ি নেই। নেই জরুরি বহির্গমন সিঁড়িও। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এ, বি এবং সি ব্লক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে ফায়ান সার্ভিস।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান জানান, ‘ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের নিয়েই অগ্নিঝুঁকি বিষয়ক মহড়ার আয়োজন করা হয়। এরপরও যদি অগ্নিঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে কোনো ভবন চিহ্নিত হয়, তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিএসএমএমইউতে কেউ চিকিৎসা নিতে এসে অন্য কোনো ঝুঁকিতে পড়বে, এটা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাম্য নয়।’
অগ্নিঝুঁকির বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মো. নুরুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, ‘ঢামেক হাসপাতালের পুরোন ভবনটি এমনিতেই ঝুঁকিপূর্ণ। বহুদিনের পুরোনো ভবন। শুধু অগ্নিকাণ্ড নয়, অন্য যে কোনো দুর্যোগের ঝুঁকি কিছুটা হলেও থাকে। কিন্তু চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অগ্নিনির্বাপণ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় নিয়মিত। ফায়ার সার্ভিসের তত্ত্বাবধানে নিয়মিত মহড়ার আয়োজন করা হয়। পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র স্থাপন করা হয়েছে। এরপরও আমাদের ঝুঁকি নিরসনে সতর্ক থাকতে হবে।’
উচ্চঝুঁকিপূর্ণ ১২০ হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার:
বারিধারায় প্রত্যয় মেডিকেল ক্লিনিক, উপশম হেলথ পয়েন্ট, গুলশান মা ও শিশু ক্লিনিক, সাপোর্ট মাদকাসক্ত চিকিৎসা সহায়তা ও পুনর্বাসন ফাউন্ডেশন, ভাটারা ইউনিভার্সাল মেডিকেল হাসপাতাল, গুলশান সাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, আর এ হাসপাতাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট, ডা. আমানত খান হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার, অলৌকিক মাদকাসক্তি ও নিরাময় কেন্দ্র, সেতু মাদকাসক্ত পুনর্বাসন কেন্দ্র, রেসকিউ মাদকাসক্ত পুনর্বাসন কেন্দ্র, বাড্ডার মেডিলিংক হাসপাতাল, এশিয়ান জেনারেল ডেন্টাল হাসপাতাল, বাড্ডা জেনারেল হাসপাতাল, মিরপুর ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মিরপুর আধুনিক হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ওপিএসবি হাসপাতাল অ্যান্ড আইআরসিএইচ, সেলিনা জেনারেল হাসপাতাল, রায়সাহেব বাজারে মেডিনোভা মেডিকেল সার্ভিসেস, ইংলিশ রোডে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ফরাশগঞ্জের মাওলা বখশ সরদার দাতব্য হাসপাতাল, মিটফোর্ড এলাকায় আলফা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, সদরঘাট ইকুরিয়া জেনারেল হাসপাতাল, সদরঘাটের ওপারে কেরানীগঞ্জের পরিচর্যা হাসপাতাল, শুভ ক্লিনিক, আল বারাকা মডেল হাসপাতাল, সাজেদা হাসপাতাল, কেরানীগঞ্জ ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ডিজিটাল হাসপাতাল, সাহানা ক্লিনিক, বসুন্ধরা আদ-দ্বীন হাসপাতাল, ঝিলমিল হাসপাতাল, হাসনাবাদ স্পেশালাইজড হাসপাতাল অ্যান্ড ল্যাব, জিনজিরা হাসপাতাল, মিটফোর্ড এলাকায় আল আরাফাত হাসপাতাল, মেডিসান হেলথ কেয়ার, মুন লাইট ক্লিনিক, বাঁধন হাসপাতাল, রায়েরবাগে আল মদিনা নার্সিং হোম অ্যান্ড ল্যাব সেন্টার, শনিরআখড়া এইচএম হাসপাতাল, সদরঘাট নগরস্বাস্থ্য কেন্দ্র, কেরানীগঞ্জ হাসনাবাদ স্পেশালাইজড হাসপাতাল অ্যান্ড ল্যাব, সুফিয়া ডিজিটাল হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক, শনিরআখড়ায় প্রাইম এইড হাসপাতাল, সেফ এইড জেনারেল হাসপাতাল, যাত্রাবাড়ী ইসলামিয়া জেনারেল হাসপাতাল, সায়েদাবাদ আল কারিম জেনারেল হাসপাতাল, মদিনা মেডিকেল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক, মেডিবাংলা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক, কদমতলী ইউনিক হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক, যাত্রাবাড়ী এশিয়া হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক, জুরাইন সোবহান নার্সিং হোম, নিউ পপি জেনারেল হসপিটাল, স্বদেশ ক্লিনিক ও হাসপাতাল এবং যাত্রাবাড়ী দেশ বাংলা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক।
এদিকে উত্তরায় উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সাপ্পোরা ডেন্টাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল, আইটি মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল, কার্ডিও কেয়ার স্পেশালাইজড অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল, পান্থপথে শমরিতা হাসপাতাল, বি এস ও এইচ হাসপাতাল, গ্রিন রোডের ক্রিসেন্ট গেস্ট্রোলিভার ও জেনারেল হাসপাতাল, ধানমন্ডির প্যানোরমা হাসপাতাল, ধানমন্ডি জেনারেল ও কিডনি হাসপাতাল, কলাবাগানের মেডি এইড জেনারেল হাসপাতাল, খিলগাঁওয়ের রেনেভা হাসপাতাল, নিউ হেলথ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ডেমরার লাইফ কেয়ার মেডিকেল সেন্টার, জনতা জেনারেল হাসপাতাল, আর রাফি হাসপাতাল, মেডিহোপ জেনারেল হাসপাতাল, বায়ো ল্যাব ডায়াগনস্টিক, ওয়েব কেয়ার, মেডিহেলথ সেন্ট্রাল হাসপাতাল, যাত্রাবাড়ীর হোসনে আরা হাসপাতাল, ফেমাস হাসপাতাল, সারুলিয়ার অনুসন্ধানী ডায়াগনস্টিক, রামপুরার আল শেফা মেডিকেল সেন্টার, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতাল, ডেল্টা হেলথ কেয়ার, এন, এইচ, এম রামপুরা ডায়াবেটিক হাসপাতাল, বাসাবোর আল এহসান মেডিকেল সার্ভিসেস, যাত্রাবাড়ী সিটি হার্ট হসপিটাল, ইবনে সিনা ডি ল্যাব, কিউর জেনারেল হাসপাতাল, ল্যাব এইড, দয়াগঞ্জ জাহাঙ্গীরনগর হসপিটাল, সুপ্রিম জেনারেল হসপিটাল, পোস্তগোলা ঢাকা সিটি হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক, সিকদার নার্সিং হোম, শরীয়তপুর হাসপাতাল, সাউথইস্ট মডেল হাসপাতাল, লাইফ লাইন মেডিকেল ইনস্টিটিউট, ধোলাইরপাড় কিউর জেনারেল হাসপাতাল, মাতুয়াইল ফ্যামিলি কেয়ার জেনারেল হাসপাতাল, শিশু মাতৃ স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, মেডিনোভা হসপিটাল অ্যান্ড ডিজি ল্যাব, মাতৃ স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট এবং কনক জেনারেল হসপিটাল।
এ ছাড়া তেজগাঁও থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইনএনটি, সিপিএইচডি জেনারেল হাসপাতাল, ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতাল ট্রাস্ট, হাইটেক মডার্ন সাইকিয়াট্রিক হাসপাতাল, নিউ ইস্কাটন তাকওয়া স্পেশালাইজড হাসপাতাল, এসপিআরসি অ্যান্ড নিউরোলজি হাসপাতাল, মগবাজার রাশমনো জেনারেল হাসপাতাল, মহাখালী মেট্রোপলিটান মেডিকেল সেন্টার, জাতীয় বক্ষ্যব্যাধি হাসপাতাল, জাতীয় ক্যান্সার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, ফার্মগেট আলী ফাতেমা মেডিকেল সার্ভিসেস ও ব্রেইন অ্যান্ড লাইফ কেয়ার হাসপাতাল রয়েছে উচ্চ অগ্নিঝুঁকির তালিকায়।
হাসপাতাল ও ক্লিনিক পরিদর্শনের তালিকা দেখতে ক্লিক করুন
অগ্নিনিরাপত্তা রয়েছে যেসব হাসপাতালে: ফায়ার সার্ভিসের পরিদর্শন করা ৩৪৫টি হাসপাতালের মধ্যে মাত্র আটটি হাসপাতালে অগ্নিনিরাপত্তা রয়েছে। এগুলো হলো গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতাল, ভাটারায় এভারকেয়ার হাসপাতাল, মিরপুরের ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট, মিরপুর-১৪ নম্বরে অবস্থিত পক্ষাঘাতগ্রস্ত পুনর্বাসন কেন্দ্র, দারুস সালামে অবস্থিত বি আই এইচ এস জেনারেল হাসপাতাল, একই এলাকায় ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন, পল্লবীতে ডেল্টা হেলথ কেয়ার হাসপাতাল এবং পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়ায় আজগর আলী হাসপাতাল।