

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের বেইজিং সফরের সময় যুক্তরাজ্য ও চীন তাদের ব্যবসায়িক সম্পর্কের ‘সোনালি অধ্যায়’ পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। চলতি সপ্তাহের এ উদ্যোগের সঙ্গে পরিচিত তিনটি সূত্র জানিয়েছে, দুই দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীদের এ সংলাপে অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ব্রিটিশ ও চীনা সূত্রগুলো বলছে, পুনর্গঠিত ‘ইউকে-চিনা সিইও কাউন্সিল’-এ যোগ দিতে পারে অ্যাস্ট্রাজেনেকা, বিপি, এইচএসবিসি, ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলস গ্রুপ, জাগুয়ার ল্যান্ড রোভার, রোলস রয়েস, শ্রোডার্স এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের মতো বড় ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠানগুলো। এই কাউন্সিলটি মূলত ২০১৮ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে এবং চীনা প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে গঠিত হয়েছিল। ওই সময়টিকে উভয়পক্ষ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ‘সোনালি অধ্যায়’ হিসেবে অভিহিত করেছিল।
অন্যদিকে, বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে ব্যাংক অব চায়না, চায়না কনস্ট্রাকশন ব্যাংক, চায়না মোবাইল, ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড কমার্শিয়াল ব্যাংক অব চায়না, চায়না রেলওয়ে রোলিং স্টক করপোরেশন, চায়না ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল গ্রুপ এবং বিওয়াইডির মতো প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকতে পারেন বলে জানা গেছে।
দীর্ঘদিন ধরেই এ সফর নিয়ে আলোচনা চলছিল। তবে স্টারমারের এ সফর অনেকাংশেই লন্ডনে চীনের বৃহত্তম দূতাবাস নির্মাণের অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল ছিল। গত মঙ্গলবার এ অনুমোদনের সবুজ সংকেতের পরই আলোচনা পূর্ণ গতি পায়।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, চীনের দ্বিতীয় শীর্ষ কর্মকর্তা প্রিমিয়ার লি কিয়াং বেইজিংয়ের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত থাকতে পারেন। এ ছাড়া দূতাবাস সংক্রান্ত সিদ্ধান্তটি খুব সাম্প্রতিক হওয়ায় সফরের অন্যান্য বিষয় এখনো চূড়ান্ত করা হচ্ছে।
২০১৮ সালের পর এটিই হবে কোনো ব্রিটিশ নেতার প্রথম চীন সফর। গত বছর এক বক্তৃতায় লেবার দলীয় প্রধানমন্ত্রী স্টারমার অভিযোগ করেছিলেন যে, পূর্ববর্তী কনজারভেটিভ সরকারগুলো বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হতে দিয়ে দায়িত্বে অবহেলা করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, একই সময়ে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ দুবার এবং জার্মান নেতারা চারবার চীন সফর করেছেন।
২০২০ সালে যুক্তরাজ্যের ৫জি নেটওয়ার্ক থেকে হুয়াওয়েকে নিষিদ্ধ করার পর এবং ২০২২ সালে একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে চীনা প্রতিষ্ঠানের অংশীদারত্ব সরিয়ে নেওয়ার পর দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কে তিক্ততা তৈরি হয়েছিল।
২০১৮ সালে এই কাউন্সিলের প্রথম বৈঠকে চীন জানিয়েছিল, তাদের লক্ষ্য হলো দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করা।
মন্তব্য করুন