

দেশজুড়ে জেঁকে বসছে শীত। বইছে হিমেল হাওয়া। নতুন বছরের শুরুতে আবহাওয়ার পূর্বাভাসও হাড়কাঁপানো শীতের বার্তা দিচ্ছে। চলতি জানুয়ারি মাসেই দেশের ওপর মোট পাঁচটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে, যার একটি এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে। তীব্র শৈত্যপ্রবাহের সময় দেশের কোনো কোনো এলাকায় তাপমাত্রা নেমে আসতে পারে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের জানুয়ারি মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ মাসে দুই থেকে তিনটি মৃদু থেকে মাঝারি এবং এক থেকে দুটি মাঝারি থেকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। তীব্র শৈত্যপ্রবাহের সময় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামার আশঙ্কা রয়েছে। উত্তরাঞ্চল ও নদী অববাহিকার এলাকাগুলোয় শীতের তীব্রতা বেশি হতে পারে। তবে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, জানুয়ারি মাসে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকলেও বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় বা নিম্নচাপ সৃষ্টির আশঙ্কা নেই। জানুয়ারিতে দিন ও রাতের গড় তাপমাত্রা মোটামুটি স্বাভাবিক থাকার কথা থাকলেও, শৈত্যপ্রবাহের দিনগুলোয় জনজীবনে স্থবিরতা নেমে আসতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে। এর আগে গত ২৬ ডিসেম্বরের পর ৩১ ডিসেম্বর থেকে শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়। এরপর টানা তিন দিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে। গতকাল রোববার সকালে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, শ্রীমঙ্গলে। এদিন ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
অনুমান করা কঠিন নয় যে, কনকনে শীতে বিশেষ একটি শ্রেণিগোষ্ঠীর মানুষ ছাড়া প্রায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষকেই যেতে হচ্ছে নানা ভোগান্তির মধ্য দিয়ে। বিশেষত দিনমজুর বা খেটেখাওয়া মানুষের ভোগান্তির যেন শেষ নেই। এ পরিস্থিতির মধ্যে সবচেয়ে স্পর্শকাতর শিশু ও বয়স্করা। এরই মধ্যে শীতজনিত রোগের প্রকোপ বেড়েছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর বলছে, তীব্র শীতে দেশের সব হাসপাতালে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগী বাড়ছে। বিশেষত, শিশু ও বয়স্কদের রোগে আক্রান্তের চিত্র অত্যন্ত ভয়াবহ। দেখা যাচ্ছে, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ হাজার ৪০০ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। এর মধ্যে ৭০ শতাংশই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। বাকি ৩০ শতাংশ রোগী শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণজনিত সমস্যা সর্দি-কাশি, ইনফ্লুয়েঞ্জা, গলাব্যথা, টনসিলাইটিস, সাইনোসাইটিস, ল্যারিঞ্জাইটিসে ভুগছে।
স্বভাবতই শীতজনিত রোগের ক্ষেত্রে শিশুদের ঝুঁকি বেশি। এখন পর্যন্ত প্রাপ্তবয়স্কদের চেয়ে শিশুরাই এসব রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। হঠাৎ তাপমাত্রার পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারায় তাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ছে। জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও অ্যালার্জিজনিত জটিলতা শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যাচ্ছে।
আমরা মনে করি, আবহাওয়ার পূর্বাভাস যথাযথ গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করা এবং সুস্থ থাকার জন্য সে অনুযায়ী আমাদের সবাইকে সতর্ক ও সচেতন থাকা জরুরি। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য এ সময় বাড়তি যত্নের প্রয়োজন। তা না হলে ব্রংকাইটিস, নিউমোনিয়া, শ্বাসজনিত, বাতজনিত রোগসহ নানা রোগে আক্রান্ত হওয়া থেকে তাদের রক্ষা করা সম্ভব নয়। আর এসব রোগে আক্রান্ত হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা এবং পরামর্শ অনুযায়ী চলার বিকল্প নেই। বলা বাহুল্য, এ সময় সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকতে হবে অভিভাবকদের। পাশাপাশি তীব্র এ শীতে যারা অসহায় খেটেখাওয়া মানুষ, তাদের পাশে দাঁড়ানোর মতো মানবিক কাজে এগিয়ে আসতে হবে সবাইকে।
মন্তব্য করুন