

ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে ডোনাল্ড ট্রাম্প একেবারেই ভিন্নমাত্রার উন্মত্ততা যোগ করেছেন। কোনোরকম উসকানি ছাড়াই চালানো এ সর্বশেষ মার্কিন আগ্রাসন আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় আরও বেশি অযৌক্তিক ও বেপরোয়া বলে মনে হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন বছরের সূচনাই করেছেন তার চিরাচরিত বিশৃঙ্খল ও উগ্র ভঙ্গিতে। বছরের শুরুতেই তিনি ভেনেজুয়েলার ওপর ব্যাপক আকারে বিমান হামলা চালানোর নির্দেশ দেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ হামলার সময় ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করা হয়েছে এবং তাকে গোপন কোনো স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যার অবস্থান এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এ হামলা পুরোপুরি অপ্রত্যাশিত নয়। কারণ, ট্রাম্পের অতীত কর্মকাণ্ডের দিকে তাকালে স্পষ্ট হয় যে, তিনি আইন, আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন বা কূটনৈতিক শিষ্টাচারের তোয়াক্কা না করেই নিজের ইচ্ছামতো সিদ্ধান্ত নিতে অভ্যস্ত। তিনি প্রায়ই এমন কাজ করেছেন, যা আন্তর্জাতিক আইন ও নৈতিকতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, ট্রাম্প নিজেই একসময় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র বিদেশে যুদ্ধ বন্ধ করবে এবং অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সামরিক হস্তক্ষেপ কমাবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, সেই প্রতিশ্রুতির কোনো মূল্যই তিনি দেননি। বরং, উল্টোভাবে তিনি আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি আগ্রাসী পথে হাঁটছেন।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে এ পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের পুরোনো শাসন পরিবর্তনের নীতিরই ধারাবাহিকতা। তবে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আচরণ, চিন্তাভাবনা ও রাজনৈতিক শৈলী এ আগ্রাসনকে আরও বেশি বিশৃঙ্খল, অস্থির ও বিপজ্জনক করে তুলেছে, যা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কয়েক মাস ধরেই ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে আরও বড় ধরনের মার্কিন সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা নিয়ে লাগাতার কথা বলে যাচ্ছিলেন। কিছুদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার উপকূলের কাছে নির্বিচারে নৌকা ও জাহাজে বোমা হামলা চালিয়ে আসছিল। এসব হামলা তারা তথাকথিত ‘মাদক পাচার দমন’-এর অজুহাতে করে আসছিল।
এ অভিযানের ফলে বহু বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ব্যাপকভাবে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগ ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে তেমন কোনো গুরুত্ব বহন করে না। আইনগত বৈধতা, মানবাধিকার কিংবা আন্তর্জাতিক নৈতিকতার মতো বিষয়গুলো তাদের কাছে যেন একেবারেই তুচ্ছ ও অর্থহীন ধারণা।
এতেই শেষ নয়, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার একাধিক তেলবাহী ট্যাংকার জোরপূর্বক দখল করেছে। পাশাপাশি ট্রাম্প একেবারেই অবাস্তব ও হাস্যকর অভিযোগ তুলেছেন যে, ভেনেজুয়েলা নাকি যুক্তরাষ্ট্রের তেল, ভূমি এবং সম্পদ চুরি করছে। বাস্তবতার সঙ্গে এসব অভিযোগের কোনো মিল না থাকলেও সেগুলোকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে আগ্রাসন আরও জোরদার করা হয়েছে। সর্বশেষ মার্কিন আগ্রাসন আসলে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে চলতে থাকা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ধারাবাহিক অংশ। এসব নিষেধাজ্ঞা ভেনেজুয়েলার অর্থনীতিকে কার্যত পঙ্গু করে দিয়েছে। ২০২০ সালে জাতিসংঘের সাবেক বিশেষ প্রতিবেদক আলফ্রেড ডি জায়াস হিসাব করে দেখান যে, এই জোরপূর্বক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার সরাসরি প্রভাবে এরই মধ্যে প্রায় এক লাখ ভেনেজুয়েলান প্রাণ হারিয়েছেন। অর্থাৎ, সরাসরি সামরিক হামলার পাশাপাশি অর্থনৈতিক অবরোধও ভেনেজুয়েলার জনগণের জন্য ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ডেকে এনেছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এ নীতিগুলো শুধু সামরিক আগ্রাসন নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে একটি দেশের অর্থনীতি, সার্বভৌমত্ব এবং সাধারণ মানুষের জীবন ধ্বংস করার প্রচেষ্টা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ অঙ্গরাজ্যের সিনেটর মাইক লি জানান, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাকে অবহিত করেছেন যে, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রুবিওর বক্তব্য অনুযায়ী, মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গিয়ে ফৌজদারি মামলায় বিচার করা হবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ভেনেজুয়েলার ওপর চালানো বিমান হামলাগুলো ছিল প্রয়োজনীয়। কারণ, সেগুলোর উদ্দেশ্য ছিল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতে পাঠানো মার্কিন সামরিক সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
তবে ট্রাম্প প্রশাসন মাদুরোকে যেভাবে যুক্তরাষ্ট্রের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে তুলে ধরছে, সেই বর্ণনায় গুরুতর ঘাটতি রয়েছে। নিরপেক্ষভাবে বিচার করলে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন, আগ্রাসন ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই মাদুরোর চেয়ে অনেক বেশি দোষী। মাদুরোর শাসনকে অযোগ্য ও বিশৃঙ্খল বলা যেতে পারে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তুলনা করলে এ অভিযোগ একপেশে ও ভণ্ডামিপূর্ণ বলে মনে হয়।
একই কথা প্রযোজ্য যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েলের ক্ষেত্রেও। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে গাজা উপত্যকায় ভয়াবহ গণহত্যা চালিয়েছেন, তার পরও তাকে একের পর এক যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট সম্মান জানিয়ে এসেছেন। গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের কারণে অসংখ্য নিরীহ মানুষ নিহত ও মানবিক বিপর্যয় তৈরি হলেও যুক্তরাষ্ট্র কখনোই নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়নি।
স্বাভাবিকভাবেই ওয়াশিংটনে কেউ কখনো প্রস্তাব দেবে না যে, নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করে যুক্তরাষ্ট্রে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হোক। বরং, যুক্তরাষ্ট্রের নীতি হলো ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও অস্ত্র সহায়তা দেওয়া, যাতে এ গণহত্যা আরও নির্বিঘ্নে চালানো যায়। অর্থাৎ, একদিকে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে আইন ও ন্যায়বিচারের রক্ষক হিসেবে তুলে ধরে, অন্যদিকে তার মিত্রদের ক্ষেত্রে সেই একই আইন ও নৈতিকতার কোনো প্রয়োগই করে না।
সব মিলিয়ে বলা যায়, তেলসমৃদ্ধ ভেনেজুয়েলা বহুদিন ধরেই মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের চোখে একটি বড় বাধা বা কাঁটার মতো হয়ে আছে। এ বিরোধিতার সূচনা হয়েছিল নিকোলাস মাদুরোর পূর্বসূরি হুগো শ্যাভেজের সময় থেকেই। শ্যাভেজ এমন কিছু ‘বিপজ্জনক’ ধারণার প্রচার করেছিলেন, যেগুলো মার্কিন পুঁজিবাদী ব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। যেমন, সবার জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, দরিদ্র জনগণের কল্যাণে রাষ্ট্রের সক্রিয় ভূমিকা এবং জাতীয় সম্পদের ওপর জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা। বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসন নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে যে, তিনি ‘নার্কো-সন্ত্রাসবাদের’ একজন মূল হোতা। এ অভিযোগ অবাস্তব ও অতিরঞ্জিত। বাস্তবে এসব অভিযোগ অজুহাত বানিয়েই ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে সামরিক ও রাজনৈতিক আগ্রাসন চালানো হচ্ছে। এটা অবশ্যই সত্য যে, ডোনাল্ড ট্রাম্পই একমাত্র মার্কিন প্রেসিডেন্ট নন, যিনি বিদেশে প্রকাশ্যভাবে অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন। তবে তিনি যেভাবে এসব কাজ করেন, তাতে এক ধরনের নাটকীয়তা ও মানসিক উন্মত্ততার ছাপ স্পষ্টভাবে দেখা যায়। তার প্রতিটি সিদ্ধান্ত যেন আগের সব সীমা ছাড়িয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে অতীতের একটি উদাহরণ মনে করা যেতে পারে। এটা হলো পানামার সাবেক নেতা ম্যানুয়েল নোরিয়েগার ঘটনা। নোরিয়েগা বহু বছর ধরে সিআইএর বেতনভুক্ত ব্যক্তি ছিলেন, যদিও মার্কিন সরকার পুরোপুরি জানত যে তিনি মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত। তবুও, যতদিন তিনি কমিউনিজমবিরোধী কৌশলের জন্য উপকারী ছিলেন, ততদিন তার এসব অপরাধ উপেক্ষা করা হয়েছিল। কিন্তু আশির দশকে নোরিয়েগা যখন আর যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কার্যকর মিত্র হিসেবে বিবেচিত হলেন না, তখনই যুক্তরাষ্ট্র তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। হঠাৎ করেই তাকে ‘অশুভ শক্তির প্রতীক’ হিসেবে তুলে ধরা হয় এবং তাকে অপসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। ১৯৮৯ সালের ডিসেম্বরে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ পানামার ওপর একেবারেই উন্মত্ত ও অযৌক্তিক সামরিক হামলা চালান। এ হামলায় পানামা সিটির দরিদ্র এলাকা এল চোরিলোতে কয়েক হাজার নিরীহ বেসামরিক মানুষ নিহত হন। পুরো এলাকাটি কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। শেষ পর্যন্ত ১৯৯০ সালে নোরিয়েগাকে মার্কিন সেনারা গ্রেপ্তার করে। তার আগে তিনি পানামার রাজধানীতে ভ্যাটিকানের দূতাবাসে আশ্রয় নিয়েছিলেন। কিন্তু দূতাবাসের বাইরে মার্কিন ট্যাংক মোতায়েন করে তার অবস্থান অসহনীয় করে তোলা হয়। ট্যাংকগুলোর বিশাল স্পিকারে একটানা উচ্চৈঃস্বরে গান বাজিয়ে তাকে মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। সেই সংগীতের তালিকায় ছিল জন বন জোভির Wanted Dead or Alive এবং লি গ্রিনউডের God Bless the USA-এর মতো গান।
এ ঘটনাগুলো দেখায় যে, যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনে যে কোনো সময় তাদেরই একসময়ের মিত্রকে শত্রুতে পরিণত করতে পারে এবং সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে তারা আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার কিংবা নিরীহ মানুষের জীবনের কোনো তোয়াক্কাই করে না। ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রেও একই ধরনের পুরোনো কৌশলের পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে।
পানামার সেই নেতা ম্যানুয়েল নোরিয়েগাকে বিচারের জন্য আমেরিকায় নেওয়া হয়েছিল। আশ্চর্যের বিষয় হলো, মার্কিন সরকার এতে কোনো ভণ্ডামি বা দ্বিচারিতা দেখেনি। যে ব্যক্তি একসময় তাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন এবং যেসব কর্মকাণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই সম্মতি দিয়েছিল বা চোখ বন্ধ করে রেখেছিল, সেই একই কর্মকাণ্ডের জন্য তাকেই পরে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে।
এ ধরনের উদাহরণ এখানেই শেষ নয়। ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের কথাও স্মরণ করা যেতে পারে। এ যুদ্ধটি শুরু হয়েছিল সম্পূর্ণ মিথ্যার ওপর ভিত্তি করে, যা তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ (বুশ সিনিয়রের ছেলে) এবং তার প্রশাসন তৈরি করেছিল। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল যে, ইরাকের কাছে গণবিধ্বংসী অস্ত্র রয়েছে, যা বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য হুমকি। পরে প্রমাণিত হয় যে, এসব অস্ত্র আদৌ ছিল না।
তবুও সেই অজুহাত সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্র ইরাকে পূর্ণমাত্রার সামরিক আগ্রাসন চালায়। মার্কিন বাহিনী দেশটি ধ্বংস করে দেয় এবং এই যুদ্ধে কয়েক লাখ ইরাকি নাগরিক প্রাণ হারান। অবকাঠামো ধ্বংস হয়, সমাজ ভেঙে পড়ে এবং দেশটি দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার মধ্যে পড়ে।
ইরাকের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়, বিচার করা হয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন ইরাকি সরকারের মাধ্যমে তাকে দ্রুত মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এ পুরো প্রক্রিয়াটিই আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্নবিদ্ধ ছিল।
বাস্তবতা হলো, যুক্তরাষ্ট্র যেখানেই সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করেছে, সেখানে খুব কম ক্ষেত্রেই ভালো কিছু ঘটেছে। বরং অধিকাংশ সময়েই সেই দেশগুলো আরও বেশি সহিংসতা, অস্থিরতা ও মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছে। ভেনেজুয়েলার ওপর চালানো সর্বশেষ এ হামলাও যে এর ব্যতিক্রম হবে, তার কোনো লক্ষণ নেই।
যদিও সিনেটর মাইক লি দাবি করেছেন যে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মনে করেন মাদুরো এখন যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে থাকায় ভেনেজুয়েলায় আর কোনো অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে না, বাস্তবতা সম্ভবত ততটা সরল নয়। ইতিহাস বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন সাধারণত একটি ঘটনায় শেষ হয় না। নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, যতদিন যুক্তরাষ্ট্র নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য কোনো জবাবদিহির মুখোমুখি না হয় এবং দায়মুক্তির এ সংস্কৃতি চলতে থাকে, ততদিন এ রক্তক্ষয়ী নাটক থামার সম্ভাবনা খুবই কম। ভেনেজুয়েলার ঘটনাও সম্ভবত আরও দীর্ঘ ও ভয়াবহ পরিণতির দিকে এগোচ্ছে।
লেখক: সাংবাদিক, লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। তিনি আলজাজিরার নিয়মিত কলামিস্ট হিসেবে আন্তর্জাতিক রাজনীতি, সাম্রাজ্যবাদ, যুদ্ধ, মানবাধিকার এবং অভিবাসন ইস্যু নিয়ে লেখালেখি করে থাকেন। আলজাজিরায় প্রকাশিত এ নিবন্ধটি ভাষান্তর করেছেন আবিদ আজাদ
মন্তব্য করুন