কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০২৪, ০১:৫৯ এএম
আপডেট : ১১ মার্চ ২০২৪, ০৭:৪৯ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
সেই দিনটি

ভাষাসংগ্রামী আবুল কাসেম

মৃত্যুবার্ষিকী
ভাষাসংগ্রামী আবুল কাসেম

প্রিন্সিপাল আবুল কাসেম ছিলেন শিক্ষাবিদ, ভাষা আন্দোলনের পথিকৃৎ এবং লেখক। তিনি ১৯২০ সালের ২৮ জুন চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া থানার ছেদন্দি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। আবুল কাসেম বরমা হাই স্কুল থেকে প্রবেশিকা এবং চট্টগ্রাম কলেজ থেকে আইএসসি পাস করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে বিএসসি (অনার্স) এবং এমএসসি ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৪৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞানের লেকচারার পদে যোগ দেন। ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন।

আবুল কাসেমের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশ। ছিলেন এর সাধারণ সম্পাদক। সংগঠনটির মাধ্যমে সর্বপ্রথম তিনি বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দানের দাবি উত্থাপন করেন। এই লক্ষ্যে ১৯৪৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা: বাংলা না উর্দু’ শিরোনামে একটি পুস্তিকা প্রকাশিত হয়। এই মূল পুস্তিকায় আবুল কাসেম প্রণীত একটি সংক্ষিপ্ত প্রস্তাবনাও ছিল এবং তাতে ছিল বাংলাকে শিক্ষার মাধ্যম এবং পূর্ব বাংলার অফিস-আদালতের ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার দাবি। তারই উদ্যোগে তমদ্দুন মজলিশ ১৯৪৭ সালের ১ অক্টোবর সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠনে নেতৃত্ব দেয়। নূরুল হক ভূঁইয়াকে সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক এবং আবুল কাশেমকে কোষাধ্যক্ষ করা হয়। রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদই ১৯৪৭ সালের শেষের দিকে এবং ১৯৪৮ সালের প্রথম দিকে ভাষা আন্দোলন সংগঠিত করে। ভাষা আন্দোলনের সূচনা পর্বে আবুল কাসেম ছিলেন আন্দোলনের মধ্যমণি। বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবির সপক্ষে ব্যাপক সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে তিনি অসামান্য অবদান রাখেন। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবির পক্ষে যুবসমাজ এবং বিশেষত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও ছাত্রদের সমর্থন লাভে তার সাফল্য ছিল অভাবনীয়। ১৯৪৭ সালের ৬ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ আয়োজিত প্রথম প্রতিবাদ সভায় তিনি সভাপতিত্ব করেন। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ দেশব্যাপী ধর্মঘট সংঘটনে তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল। এই ধর্মঘটের ফলে তদানীন্তন প্রাদেশিক সরকার বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার প্রতিশ্রুতিতে ১৯৪৮ সালের ১৫ মার্চ অ্যাকশন কমিটির সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষরে বাধ্য হয়। তিনি ছিলেন বাংলা সাপ্তাহিক সৈনিক পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা। তার সম্পাদনায় পত্রিকাটি ১৯৪৮ সালের ১৪ নভেম্বর ঢাকা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়। তমদ্দুন মজলিশের মুখপত্র হিসেবে এই পত্রিকাটি ভাষা আন্দোলনের আদর্শ ও লক্ষ্য প্রচারে সক্রিয় ছিল। ১৯৬১ সাল পর্যন্ত পত্রিকাটি চালু থাকে।

ভাষা আন্দোলনের পথিকৃৎ আবুল কাসেম কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষায় বাংলা মাধ্যম প্রবর্তনের অপরিহার্যতা উপলব্ধি করেন

এবং এ উদ্দেশ্যে তিনি ঢাকায় ১৯৬২ সালে বাঙলা কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। এ কলেজ প্রতিষ্ঠার ফলে বাংলা মাধ্যমে উচ্চশিক্ষা লাভের দ্বার উন্মুক্ত হয়। তিনি দীর্ঘ ১৯ বছর (১৯৬২-৮১) বাঙলা কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন। এর অধিকাংশ সময় তিনি কলেজ থেকে কোনো পারিশ্রমিক গ্রহণ করেননি। প্রিন্সিপাল আবুল কাসেম ১৯৯১ সালের ১১ মার্চ ঢাকায় মারা যান।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উচ্চ রক্তচাপ কোনো রোগ নয়, এটি একটি সতর্ক সংকেত

আলোচিত রুবেল হত্যা মামলা / ১৯ বছর পর রায়, ৪ আসামির মৃত্যুদণ্ড

আমিরাতে পালিয়েছেন এসটিসি নেতা আল-জুবাইদি

খালেদা জিয়া কর্মের জন্য অমর হয়ে থাকবেন : দুলু

পাসপোর্ট এনডোর্সমেন্ট ফি নিয়ে নতুন নির্দেশনা

জীবন বদলে দিতে পারে এমন ৫ অভ্যাস

সাতসকালে বোমা বিস্ফোরণ, প্রাণ গেল একজনের

কেমন থাকবে আজ ঢাকার আবহাওয়া

রাজশাহীর ৬ আসনে হলফনামা / ‘ধার ও দানের’ টাকায় নির্বাচন করবেন ৮ প্রার্থী

মানসিক সক্ষমতা ধরে রাখার ৪ কার্যকর অভ্যাস

১০

রাজধানীতে আজ কোথায় কী

১১

আবারও বিশ্বসেরা আফগানিস্তানের জাফরান

১২

আজ থেকে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধের ঘোষণা

১৩

বগুড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় বীর মুক্তিযোদ্ধা নিহত

১৪

শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে তেঁতুলিয়া

১৫

বৃহস্পতিবার রাজধানীর যেসব এলাকার মার্কেট বন্ধ

১৬

আকিজ গ্রুপে বড় নিয়োগ

১৭

বাংলাদেশ ব্যাংকে চাকরির সুযোগ

১৮

৮ জানুয়ারি : আজকের নামাজের সময়সূচি

১৯

মুরাদনগরে ঝাড়ু মিছিল

২০
X