অচেনা দলের বিপক্ষে খেলার যে অস্বস্তি ছিল, তা দূর হতে সময় লাগল মাত্র ১২১ সেকেন্ড—আফিদা খন্দকারের হেড থেকে প্রথম গোল। পরের গল্পের চিত্রনাট্যের অনেকটা জুড়ে রইলেন জোড়া গোল করা তহুরা খাতুন। প্রীতি ম্যাচে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ৩-০ গোলে জিতল বাংলাদেশ।
৩-০ স্কোরলাইন ম্যাচের দৃশ্যপট বোঝাতে পারছে না। আগাগোড়া আধিপত্য বিস্তার করা বাংলাদেশ ব্যবধানটা বড় করতে পারত। বিপরীতে রক্ষণেই ব্যস্ত সময় কাটিয়েছে অতিথি দল। ২০১৭ সালে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে একমাত্র ম্যাচে ৩-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। এবার ফলাফল পুরোপুরি উল্টে গেল! ২০২২ সালে নেপালকে হারিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পর এটিই বাংলাদেশের প্রথম জয়। দুই জয়ের মাঝে ব্যবধান ৪৩৭ দিনের। এ সময় খেলা পাঁচ ম্যাচের তিনটি ড্র, বাকি দুটিতে হারতে হয়েছে।
যেখানে বাংলাদেশ ফুটবল, সেখানেই ‘বাংলাদেশ ফুটবল আলট্রাস’ নামের সমর্থকদের দল। লাল-সবুজ স্মোক বোম নিয়ে এদিনও কমলাপুর স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে হাজির হয়েছিলেন সংঘবদ্ধ সমর্থকরা। কিক-অফের ১২১ সেকেন্ডের মধ্যেই তাদের উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠার সুযোগ করে দেন সেন্ট্রারব্যাক আফিদা খন্দকার। শর্ট কর্নারে মারিয়া মান্ডার সঙ্গে ওয়ান-টু করা সাবিনা খাতুন গোলমুখে ক্রস ফেলেন, হেডে বলটা গোললাইনের ভেতরে ঠেলে দেন আফিদা (১-০)।
১৬ মিনিটে আবারও গোল। এবার সাবিনার পাস ধরে তিনজনকে কাটিয়ে সবকিছু থালায় সাজিয়ে দিয়েছিলেন মারিয়া মান্ডা—তহুরা খাতুনের শটে পূর্ণ হয়েছে গোলের অনুষ্ঠানিকতা (২-০)। দুই গোলের লিড ধরে রেখেই মাঝ বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। বিরতির পর ৬০ মিনিটে তৃতীয় গোল করেন সেই তহুরা খাতুনই। মাঝ বৃত্ত থেকে লম্বা করে পাস বাড়ান মাসুরা পারভীন, আগুয়ান গোলরক্ষক তান লির মাথার ওপর দিয়ে চিপ করেন তহুরা (৩-০)।
সহজ জয়ের পরও তৃপ্তির ঢেকুর তুলতে নারাজ বাংলাদেশ কোচ সাইফুল বারী টিটু, ‘আরও গোল হতে পারত। কেন হয়নি, এ নিয়ে ফুটবলারদের সঙ্গে আলোচনা করলেই পরের ম্যাচের প্রস্তুতি হয়ে যাবে।’ সাফ জয়ের পর নেপালের বিপক্ষে দুই ম্যাচের সিরিজ শেষ হয়েছিল সমতায়। চলতি বছর বাংলাদেশের প্রথম জয়ের পর দ্বিতীয়টাও হাতছাড়া করতে চান না বাংলাদেশ কোচ সাইফুল বারী টিটু।
‘দল ভালো ফুটবল খেলে ম্যাচ জিতেছে, এটি আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেওয়ার রসদ জোগাচ্ছে। আমাদের দৃষ্টি দ্বিতীয় ম্যাচের দিকে। সিরিজটা আমরা ২-০ করতে চাই’—বলছিলেন বাংলাদেশ কোচ।
ম্যাচের শেষদিকে মাতসুশিমা সুমাইয়া, আকলিমা খাতুন, স্বপ্না রানী, শাহেদা আক্তার রিপা ও শামসুন্নাহার জুনিয়রকে খেলানো হয়।