সরকার পটপরিবর্তনের পর একাধিক মামলা কাঁধে নিয়ে গ্রেপ্তার আতঙ্কে আত্মগোপনে চট্টগ্রামের হেভিওয়েট আওয়ামী লীগ নেতারা। ইতোমধ্যে চারজন হেভিওয়েট নেতা গ্রেপ্তার হয়ে কারাবন্দি। বাকিরাও বিভিন্ন মামলার আসামি। তাই গ্রেপ্তার এড়াতে আছেন আত্মগোপনে। তবে তাদের অনুসারীরা ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে আসছেন। কিন্তু তারাও রয়েছেন নানা আতঙ্কে।
জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নগরীর ষোলশহর, মুরাদপুর, নিউমার্কেট এলাকায় অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি চালায় আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা। পাশাপাশি সমর্থকরা লাঠিসোটা নিয়ে হামলা ও ইটপাটকেল ছোড়ে। ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগের পরপর নগরীর আটটি থানা হামলা, ভাঙচুর, লুট, অগ্নিসংযোগে ধ্বংসযজ্ঞে রূপ নেয়। এখন পর্যন্ত ছাত্র আন্দোলনে হামলায় নিহত, থানা ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, নাশকতার অভিযোগে অনেক মামলা হয়েছে থানাগুলোতে। এর মধ্যে চান্দগাঁও থানা, পাঁচলাইশ থানা ও কোতোয়ালি থানায় মামলার সংখ্যা বেশি। মামলাগুলোতে আসামি করা হয়েছে চট্টগ্রামের হেভিওয়টে আওয়ামী লীগ নেতাদের। রয়েছেন চসিক মেয়র, ওয়ার্ড কাউন্সিলর, আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা। এর মধ্যে অনেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) এম এ লতিফ, এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী, আবদুর রহমান বদি, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) ওয়ার্ড কাউন্সিলর নাজমুল হক ডিউকসহ অনেকে কারাবন্দি। এ ছাড়া বাকি হেভিওয়েট নেতারা আত্মগোপনে। তবে মামলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের একাধিক অনুসারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালবেলাকে বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা, হত্যা, নাশকতা ইত্যাদির ঘটনায় নগরীর বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলায় নওফেলকে আসামি করা হয়েছে। এ কারণে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন। কোথায় আছেন, তা তারা জানেন না। কোনো যোগাযোগও নেই।
নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আলতাফ হোসেন বাচ্চুর একাধিক অনুসারী কালবেলাকে বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে। বাচ্চুর সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ নেই। কোথায় আছেন তাও জানেন না। তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তবে অনুসারীদের কোনো সমস্যা নেই। তারা প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ৫ আগস্টের পর সহিংসতার ঘটনায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ১৬ থানার মধ্যে সাতটি থানায় ৩০টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচলাইশ থানায় ৯টি, চান্দগাঁও থানায় ৮টি, কোতোয়ালি থানায় ৭টি, খুলশী থানায় ২টি, ডবলমুরিং থানায় ২টি, বাকলিয়া থানায় একটি ও হালিশহর থানায় একটি মামলা হয়েছে। বাকি থানাগুলোতে এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। তবে মামলা মাত্র ৩০টি হলে নামসহ প্রতিটি মামলায় অন্তত শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। কোনো কোনো মামলায় আসামির সংখ্যা পাঁচ শতাধিক। মামলার এজাহারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা, সহযোগিতা, হত্যা ও হত্যার চেষ্টা, উসকানিদাতা, পরিকল্পনাকারী ইত্যাদির অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রায় সব মামলাতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতাদের আসামি করা হয়েছে।
এ ছাড়া উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতারাও ৫ আগস্টের ঘটনায় আসামি হয়েছেন। পটিয়া থানার বিস্ফোরক মামলায় আসামি করা হয়েছে দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী, সাবেক হুইপ সামশুল হক চৌধুরী, হুইপপুত্র নাজমুল করিম চৌধুরী শারুনসহ ১৭১ জন। আসামিরা সবাই আত্মগোপনে আছেন।
নগর পুলিশের উপকমিশনার (গণসংযোগ) কাজী মো. তারেক আজিজ কালবেলাকে বলেন, ৫ আগস্টের পর যেসব থানায় নাশকতা, ভাঙচুর, হত্যা, লুট, অগ্নিসংযোগের মামলা হয়েছে এবং যাদের আসামি করা হয়েছে, তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে অনেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন। বাকিরাও হবেন।