নড়াইলে পৃথক ঘটনায় রাধাপল্লব বিশ্বাস ও সুফল বিশ্বাস নামে সংখ্যালঘু পরিবারের দুজনকে হত্যার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পূজা উদযাপন পর্ষদ ও হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের নেতারা। গতকাল শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন সংগঠন দুটির নেতারা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পর্ষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. চন্দ্রনাথ পোদ্দার, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাপস পাল, মনিন্দ কুমার নাথ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বাপ্পা দিপ্ত বসু, ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মলয় কান্তী নন্দী ও পূজা উদযাপন পর্ষদের নড়াইল জেলা সভাপতি অশোক কুমার কুণ্ডু।
অধ্যাপক চন্দ্রনাথ পোদ্দার বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে নড়াইলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন ব্যাপকহারে বেড়ে গেছে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় নির্যাতনের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। অবিলম্বে নির্যাতনকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাপস পাল অভিযোগ করেন, দুজন সংখ্যালঘু পরিবারের সদস্য নিহত হলেও একজন সংসদ সদস্য সমবেদনা জানাতে যাননি। এতে করে হিন্দুদের মনে ভয় ও আতঙ্ক কাজ করছে। এমনকি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে যাননি, এটি দুঃখজনক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের জন্য দিনরাত পরিশ্রম করছেন। অথচ জনপ্রতিনিধিরা সেসব এলাকায় যান না। এটি আমাদের কেন্দ্রীয় নেতাদের নাড়া দিয়েছে।
জানা গেছে, দেবভোগ গ্রামের সালাম শেখ ও রাধাপল্লব বিশ্বাসের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। গত বুধবার বিরোধপূর্ণ ওই জমিতে সালাম শেখ তার লোকজন পাট কাটতে গেলে রাধাপল্লব বিশ্বাসের লোকজন বাধা দেন। এ নিয়ে সংঘর্ষে কমপক্ষে ১৫ জন আহত হন। আহতদের নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে রাধাপল্লব বিশ্বাস মারা যান।
নড়াইল সদর থানার ওসি ওবাইদুর রহমান বলেন, রাধাপল্লবের মৃত্যুর ঘটনায় থানায় ১৮ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত।
মন্তব্য করুন