অধ্যাপক ডা. এম এস জহিরুল হক চৌধুরী
প্রকাশ : ১০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম
আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৮:২৮ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
স্বাস্থ্য পরামর্শ

হাত কাঁপা রোগের কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

হাত কাঁপা রোগের কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

বয়স্ক অনেকেরই হাত কাঁপে। সাধারণত হাতের কবজি, আঙুল, বুড়ো আঙুলের পেশিগুলো অনিচ্ছাকৃত নড়াচড়া করে। এটি একটি রোগ। তবে এটি প্রাণঘাতী রোগ নয়, মস্তিষ্কের কোষ নিষ্ক্রিয় হলে এ সমস্যা দেখা দেয়।

লক্ষণ: শুরুতে এক হাত কাঁপতে থাকে। পরে অন্য হাতে ছড়িয়ে পড়ে এবং একসঙ্গে দুই হাত কাঁপতে থাকে। হাত যত নড়ে, কাঁপন তত বাড়ে। মানসিক চাপ, ক্লান্তি, উত্তেজক পদার্থের ব্যবহার—এসব কাঁপুনি বাড়িয়ে তোলে। কাঁপুনির কারণে কাপড় পরা, গ্লাস বা কাপ ধরা, খাওয়া বা দাড়ি কামানো, এমনকি লিখতেও অসুবিধা হয়।

কারণ: হাত কাঁপা স্নায়ুতন্ত্র বা পারকিনসন রোগে হয়। জিনগত পরিবর্তনেও হয়। এ ছাড়া হাইপারথাইরয়েডিজম, মাল্টিপল স্কলেরোসিস, ডায়স্টেনিয়া, বেশি বয়স, পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি ও স্ট্রোকের কারণেও হয়। অনেক সময় ঘুম না হলে শরীরে কম্পন দেখা দেয়। অতিরিক্ত কফি পানে স্নায়ুর কার্যকারিতার ওপর প্রভাব পড়ে। এতেও শরীরে কম্পন সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত চা কিংবা অ্যালকোহল পানে একই সমস্যা হতে পারে। অনেক ধরনের ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও হাত কাঁপতে পারে। সিগারেটে থাকা নিকোটিন হৃৎস্পন্দন বাড়িয়ে দেয়। ফলে উৎকণ্ঠা বাড়ে। একই সঙ্গে হাতও কাঁপে। শরীরের নার্ভ পদ্ধতি ঠিক রাখতে ভিটামিন-বি১২ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শরীরে এ ভিটামিনের ঘাটতি হলে হাত কাঁপা সমস্যা হতে পারে।

চিকিৎসা: শরীর সুস্থ রাখতে দিনে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমানো একান্ত জরুরি। ঘুম ভালো না হলে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা ধীরে ধীরে কমতে থাকে। তখন কাজ করতে চাপ অনুভব হয়। এতে শরীরও কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। পাশাপাশি হাত কাঁপা সমস্যা দেখা দেয়। হাত কাঁপা সমস্যা পুরোপুরি ঠিক হয় না। তবে চিকিৎসার মাধ্যমে এর উপসর্গ কমিয়ে রাখা যায়।

ওষুধ: ওষুধ হিসেবে বিটাব্লকারস, অ্যান্টি সিজার ওষুধ, বোটোক্স ও দুশ্চিন্তা কমানোর ওষুধ দেওয়া যেতে পারে, যা কাঁপুনির তীব্রতা কমাতে সাহায্য করে।

অস্ত্রোপচার: অস্ত্রোপচার মস্তিষ্কের গভীর উত্তেজনা ও থ্যালামোটমি কাঁপুনি কমাতে সাহায্য করে।

ফিজিওথেরাপি: ভর ব্যবহার, কবজিতে স্ট্র্যাপ পরা ও চাপমুক্ত বলের ব্যায়াম কাঁপুনি কমাতে সাহায্য করে।

প্রতিকার: অনেকাংশেই রোগটি বংশগত হওয়ায় প্রতিকার নেই। তবে লক্ষণ প্রকাশ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া যায়। রোগীকে মদ্যপান, ধূমপান, অতিরিক্ত চা বা কফি পান ত্যাগ করতে হবে। নিয়মিত খাওয়া-দাওয়া ও ঘুমের অভ্যাস করতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসারে ওষুধ সেবন করলে ভালো থাকা সম্ভব।

অধ্যাপক ডা. এম এস জহিরুল হক চৌধুরী

ক্লিনিক্যাল নিউরোলজি বিভাগ

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতাল, ঢাকা

কালবেলা
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

স্পেন-আর্জেন্টিনা ফাইনাল পুনরায় খেলানোর দাবিতে ৬২ হাজার স্বাক্ষর সংগ্রহ

চট্টগ্রামে ২৭ জুলাই থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু

টেক্সটে যে ১০ বিষয়ে কথা বলা উচিত নয়

নারী আইনজীবীর মাথা ফাটানো বিচারককে মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করার উদ্যোগ

এক রাস্তায় ভুক্তভোগী ২০ হাজার মানুষ

আতিফ ঢাকায়, কাল শোনাবেন গান

কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু

‘ডা. হ্যানিম্যান’ নিয়ে আসছে মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়

সকালের যে ৪ অভ্যাস শরীরকে ভিটামিন ডি শোষণে সাহায্য করে

২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী

১০

খুবিতে নারী হলের ওয়াশরুমে গোপন মোবাইল / প্রশাসনিক ভবনে তালা, ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ

১১

২২ হাজার টাকা বেতনে সহকারী অফিসার পদে চাকরি, আছে বিভিন্ন সুবিধা

১২

সুজন এলাকায় ঢুকলেই ঘটে চুরির ঘটনা

১৩

সড়ক থেকে পাঙাশ মাছ তুলতে গিয়ে প্রাণ গেল ব্যবসায়ীর

১৪

একটি ফ্ল্যাটের দামে জার্মানিতে বিক্রি হচ্ছে ১৫টি বাড়ির ছোট্ট গ্রাম

১৫

যমুনা গ্রুপে চাকরি, বয়স ৪০ হলেও করা যাবে আবেদন

১৬

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চাঁদাবাজি, গ্রেপ্তার ৪

১৭

মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন আর রাষ্ট্রপতি থাকছেন না

১৮

এসএসসি পাসেই চাকরির সুযোগ, দ্রুত আবেদন করুন

১৯

নতুন ভিডিওতে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা গেল এমপি নজরুলকে

২০
X