

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে চুরি হওয়া মোবাইল ফোনের আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করে সেগুলো সাইবার অপরাধীদের কাছে বিক্রি করছিল একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এই চক্রের মূলহোতাকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা (ডিবি) বিভাগ।
গত শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলিস্তান এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে আইএমইআই পরিবর্তনের বিশেষ সফটওয়্যার, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবির সাইবার ক্রাইম বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার।
সম্প্রতি প্রতিদিন মোবাইল ফোনের আইএমইআই নম্বর পরিবর্তনের তথ্য নজরে আসে, যা সন্দেহজনক বলে মনে হয়। শনিবার সন্ধ্যায় গুলিস্তান এলাকায় অভিযান চালিয়ে গুলিস্তান পাতাল মার্কেটের একটি দোকান থেকে সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি বলেন, সম্প্রতি প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মোবাইল ফোনের আইএমইআই নম্বর পরিবর্তনের তথ্য আমাদের নজরে আসে, যা সন্দেহজনক বলে মনে হয়। বিষয়টি যাচাই করতে গিয়ে গতকাল সন্ধ্যায় গুলিস্তান এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় পাতাল মার্কেটের একটি দোকান থেকে সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিসি নাসের জানান, অভিযানে আইএমইআই কেটে ফেলা পাঁচটি চোরাই মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি আইএমইআই পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে দোকানে জমা রাখা আরও কয়েকটি মোবাইল জব্দ করা হয়।
তিনি আরও জানান, তদন্তে এমন দুটি বিশেষ সফটওয়্যারের সন্ধান পাওয়া গেছে, যেগুলোর মাধ্যমে ডাটা কেবলের সাহায্যে মোবাইল ফোনের আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করা সম্ভব। এই প্রযুক্তির অপব্যবহার মোবাইল-সংক্রান্ত অপরাধে নতুন ও উদ্বেগজনক মাত্রা যোগ করেছে।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তি আইএমইআই পরিবর্তনের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি ওই দোকানের একজন কর্মচারী এবং দোকানেই বসে নিয়মিত এই অবৈধ কাজ করতেন।
ডিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রাথমিক তদন্তে গুলিস্তান এলাকায় আরও ৮-১০টি দোকানে একই ধরনের কার্যক্রম চালানোর তথ্য মিলেছে, যেখানে শিগগির ব্যাপক অভিযানের পরিকল্পনা রয়েছে।
ডিবি সাইবার ক্রাইম ইউনিট জানিয়েছে, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং মোবাইল ব্যবহারকারীদের স্বার্থ রক্ষায় এই চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে মোবাইল ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিকদের এ ধরনের অপরাধ সম্পর্কে সচেতন থাকার এবং পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন