এবারের ঈদুল আজহায় অনলাইনের মাধ্যমে পশু বিক্রি আশানুরূপ হয়নি। অনলাইন মাধ্যমগুলোতে এবার ৮০০ কোটি টাকার পশু বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও হয়েছে প্রত্যাশার অর্ধেকের কিছু বেশি।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের অ্যাস্পায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) প্রকল্পের ই-কমার্স উদ্যোগ একশপের তথ্যমতে, ঈদের আগের দিন—অর্থাৎ, ২৮ জুন বিকেল ৫টা পর্যন্ত অনলাইন মাধ্যমগুলোতে সরাসরি ৪২২ কোটি ২৩ লাখ ৫৯ হাজার ২৫৭ টাকার পশু বিক্রি হয়েছে। এ সময় গরু, ছাগল, ভেড়া ও মহিষ মিলিয়ে বিক্রি হয়েছে ৫৬ হাজার ৮২১টি পশু।
২০২১ ও ২০২২ সালে অনলাইনে যথাক্রমে ২ হাজার ৭০০ কোটি এবং ১ হাজার কোটি টাকার পশু কেনাবেচা হয়। একশপের উদ্যোগ ‘ডিজিটাল হাট’। এর সঙ্গে যুক্ত অনলাইন মাধ্যমগুলোতে সরাসরি বিক্রির হিসাব বিবেচনায় রেখে এই তথ্য প্রস্তুত করা হয়। অর্থাৎ, অনলাইন মাধ্যমগুলোতে ডিজিটালভাবে মূল্য পরিশোধের মাধ্যমে কেনাবেচা হওয়া পশুর তথ্যচিত্র এটি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিজিটাল হাটের সঙ্গে যুক্ত নয় বা ডিজিটাল হাটে পশু প্রদর্শিত হলেও আর্থিক লেনদেন হয়েছে ক্যাশে, এমন বিবেচনায় টাকার অঙ্ক আরও বাড়বে।
ডিজিটাল হাটের তথ্য বিশ্লেষণে জানা যায়, ডিজিটাল হাট চালুর দিন অর্থাৎ, ২০ থেকে ২৮ জুন বিকেল ৫টা পর্যন্ত অনলাইনে গরু ও মহিষ বিক্রি হয়েছে ৪৭ হাজার ৭৫৭টি। ছাগল ও ভেড়া বিক্রি হয়েছে ৯ হাজার ৬৪টি। এ হিসাবে পশু বিক্রি হয়েছে ৫৬ হাজার ৮২১টি। এদের মধ্যে বিক্রি হওয়া গরু ও মহিষের মূল্য ৪০৬ কোটি ৯২ লাখ ১২ হাজার ৫০১ টাকা। গরু ও মহিষের গড় মূল্য ছিল ১ লাখ ১১ হাজার ৮১৬ টাকা। আর ছাগল ও ভেড়ার মূল্য ১৫ কোটি ৩১ লাখ ৪৬ হাজার ৭৫৬ টাকা। ছাগল ও ভেড়ার গড় মূল্য ছিল ১৯ হাজার ৮১৫ টাকা।
অনলাইনে কোরবানির পশু বিক্রির ধারা নিম্নমুখী হলেও এটি ‘ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেম’ উন্নত করা এবং ‘ক্যাশলেস সোসাইটি’ গড়ে তোলার জন্য এটি ইতিবাচক মনে করেন খাত সংশ্লিষ্টরা। এটুআইর হেড অব ই-কমার্স রেজওয়ানুল হক কালবেলাকে বলেন, আগের বছরগুলোতে করোনার কারণে অনলাইনে পশু কেনাবেচা বেশি হয়েছে। এবার সে তুলনায় কম। তবে হাটগুলোয় ডিজিটাল পেমেন্টের প্রচুর সুযোগ ছিল।
ফলে যারা নিরাপত্তার বিবেচনায় অনলাইনে পশু কেনেন, তারা এবার হাটে গিয়ে পছন্দসই পশু কিনে ডিজিটাল পেমেন্ট করতে পেরেছেন। এ বিষয়টি ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেম এবং ক্যাশলেস সোসাইটির জন্য ইতিবাচক। আমার ধারণা, এবার অনলাইন পেমেন্ট এবং হাটে ডিজিটাল পেমেন্ট মিলিয়ে অন্তত ১ হাজার কোটি টাকা ক্যাশলেস উপায়ে লেনদেন হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ক্রেতাদের ধরন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, অনেকেই অনলাইনে পশু বুকিং দিলেও পেমেন্ট অনলাইনে হয়নি। সেটি কেনাবেচার লেনদেন অফলাইনে হয়েছে বলে আমাদের ধারণা। আমরা সেই ডাটাগুলো বিশ্লেষণে কাজ করছি। আমাদের অনুমান সেগুলো এই হিসাবে যুক্ত হলে ৪২২ কোটি টাকার সঙ্গে আরও অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ যুক্ত হবে।
মন্তব্য করুন