বাবাকে একটু দেখতে চাই। আমার বাবাকে এনে দাও। তার কাছে যাব। গত ২৪ জুলাই সৌদি আরবের দাম্মামে অগ্নিকাণ্ডে নিহত প্রবাসী সাইফুল ইসলামের ৯ বছরের ছোট্ট মেয়ে নুসরাত জাহান সাইকা মায়ের কোলে বসে এভাবেই বিলাপ করছিল। সাইফুলের স্ত্রী, কন্যা আর স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে সেখানকার পরিবেশ। মা নাসিমা আক্তার মেয়েকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে নিজেই কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। শিশু নুসরাত শেষবারের মতো দেখতে চায় বাবার মুখটি। তার আহাজারিতে বাকরুদ্ধ স্বজনরা। নিহত সাইফুলের বাড়ি সাভারের বলিয়ারপুরের সাতানিপাড়ায়। ১৩ মাস আগে সৌদি আরবের একটি সোফা কারখানায় ট্রাকচালক হিসেবে চাকরি নেন পরিবারের বড় ছেলে সাইফুল। গত শুক্রবার ওই কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ঘুমন্ত অবস্থায় দগ্ধ হয়ে নিহত হন। দুর্ঘটনার দিন দুপুরে মোবাইল ফোনে শেষবার কথা বলেন স্ত্রীর সঙ্গে। এরপর ঘুমানোর কথা বলে ফোন রেখে দেন। সে ঘুম আর ভাঙেনি। একমাত্র মেয়েকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল তার। এদিকে সাইফুলের মা নবীজা বেগম কেঁদে বলেন, আল্লাহ আমার আগে কেন ছেলেটাকে নিলা? মরা ছেলের মুখটা অন্তত নসিবে রাইখো। দ্রুত সন্তানের লাশটি দেশে আনার ব্যবস্থা করতে সরকারসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে আকুতি জানান তিনি। নিহতের ছোট দুই ভাইয়ের একজন গাড়িচালক আর অন্যজন গ্যারেজ মেকানিক। অসচ্ছল পরিবারটির দাবি, সরকার ও বিদেশি কোম্পানিটি যেন তাদের ভাইয়ের পরিবারের জন্য সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়।
মন্তব্য করুন