

পুরান ঢাকার দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকট, জলাবদ্ধতা, ভাঙা রাস্তা, দূষণ ও ট্রাফিক জ্যামের মতো জটিল সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন ঢাকা-৬ আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাজধানীর সুরিটোলা স্কুলের সামনে দ্বিতীয় দিনের মতো নির্বাচনী প্রচারণার শুরুতে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, উন্নয়ন ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই পুরান ঢাকাকে বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তর করা হবে।
তিনি বলেন, জনগণ অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত এবং তারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়ে তাদের জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করার জন্য তারা অপেক্ষা করছেন। আমরাও সবাইকে উদ্বুদ্ধ করেছি, যাতে সবাই ভোটকেন্দ্রে যায় এবং তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে।
তিনি বলেন, পুরান ঢাকার যে স্থানীয় সমস্যাগুলো রয়েছে, যেমন- গ্যাস সংকট এখন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। রাস্তাঘাট ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। বিভিন্ন জায়গায় খোলা ড্রেনেজ রয়েছে, যেখানে নর্দমার মতো পানি জমে থাকে। এছাড়া আমাদের এখানে জলাবদ্ধতা, দূষণ এবং ট্রাফিক জ্যামসহ নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত এই পুরান ঢাকার অঞ্চলটি। এসব সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি আমরা দিচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশে যে সংস্কারগুলো আমরা করতে চাই, তার মধ্যে স্থায়ীভাবে একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠা করাও আমাদের লক্ষ্য। বিগত দিনে সংঘটিত সব গণহত্যা, গুম ও খুনের সঠিক বিচার করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছি। আমরা সবার কাছে ‘হ্যাঁ’ ভোটের জন্য প্রচারণা চালাচ্ছি।
একদিন আগে একজন প্রার্থী বলেছেন- ঢাকার একটা সিটও কাউকে দেব না। সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ইশরাক বলেন, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক যে এ ধরনের মন্তব্য একজন প্রার্থী করেছেন। আমি বলব, এসব কথা বলার কারণে তারা এখন হাস্যরসের পাত্রে পরিণত হয়েছে। তারা এসব কথা বলছে কেবলমাত্র তাদের নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত রাখার জন্য। তারা যেভাবে বলে সেভাবে আমরা বলবো না, আমরা তাদের মতো নই।
ইশরাক হোসেন বলেন, আমরা আন্দোলন-সংগ্রাম করে এই জায়গায় এসেছি, ভেসে আসিনি। আমাদের দীর্ঘ ১৭ বছরের ত্যাগ রয়েছে। আমাদের বহু ভাইয়ের রক্ত রয়েছে। তারা কোথায় ছিল? তারা তো হঠাৎ করে বের হয়েছে ২৪-এর ৫ আগস্টের পরে। এই গুপ্ত বাহিনী হঠাৎ করে উদয় হয়েছে। এর আগে আমরা দেখেছি, তারা ভোরবেলা ছয়টার সময়, যখন রাস্তাঘাটে জনগণ থাকত না, তখন চুপ করে অন্ধকারে বের হয়ে মিছিল করে চলে যেত- এই ছিল তাদের আন্দোলন।
কর্মসংস্থান ও নারীদের উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, কর্মসংস্থান ও নারীদের উন্নয়নের বিষয়ে আমাদের ৩১ দফার মধ্যে বিস্তারিত বলা আছে। আমরা বলেছি আগামী এক বছরে কতগুলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চাই এবং কীভাবে করতে চাই। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ফ্যাসিলিটেট করে তারাও যাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে, সে উদ্যোগ আমাদের রয়েছে। নারীদের ক্ষমতায়নের ব্যাপারেও আমাদের ব্যাপক পরিকল্পনা রয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা, নারীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাপনা, গণপরিবহনসহ বিভিন্ন জায়গায় যাতে তারা স্বস্তিতে চলাফেরা করতে পারে- সে ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত।
এ সময় স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি বিভিন্ন এলাকায় লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ শুরু করেন।
মন্তব্য করুন