রাজধানীর মিরপুরে ইন্টার্ন ব্যাংকিং অ্যান্ড কমার্স প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী ওমর ফারুক। তিনি গ্রাহকদের গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ও টেলিফোন বিল জমা নিতেন। বিশ্বাস অর্জনের জন্য সিল ব্যবহার করে ক্যাশ রিসিভ করতেন। তবে সেই টাকা কখনোই সংশ্লিষ্ট ইউনিটে জমা দিতেন না। এতে গ্রাহকরা বিল পরিশোধ করলেও কাগজে-কলমে তা বকেয়াই থেকে যেত। পরে লাইন কাটার কথা বলে তিতাস ও ডেসকোর কর্মচারীরা মাসোহারা নিয়ে চুপ থাকতেন। এভাবে পরস্পর যোগসাজশে গ্রাহকদের বিলের টাকা আত্মসাৎ করতেন তারা। তিন বছর আগে মিরপুর মডেল থানায় হওয়া এক মামলার চার্জশিটে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়।
২০২১ সালের ২ ফেব্রুয়ারি গ্রাহক মো. নাছির উদ্দিন বাদী হয়ে ওই মামলা করেন। তদন্ত শেষে সম্প্রতি তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ডিএমপির গোয়েন্দা মিরপুর বিভাগের পরিদর্শক মো. আব্দুল মতিন আদালতে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তিতাস গ্যাসের সাবেক সহকারী হিসাবরক্ষক এবং ডেসকোর কর্মচারীসহ ৯ জনকে আসামি করা হয়। আসামিরা হলেন মো. ওমর ফারুক, মোহাম্মদ ইমরান হাসান, মোহাম্মদ ওমর ফারুক ইমতিয়াজ, আব্দুল আজিজ আরিফ, জাহিদুল হক খান, ডেসকোর কর্মচারী মো. মামুন, ডেসকোর কর্মচারী মো. নুর আলম হোসেন, মো. তিতাস গ্যাসের কর্মচারী রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং তিতাস গ্যাসের সাবেক সহকারী হিসাবরক্ষক মো. মাসুদ মিয়া।
মামলার তদন্ত সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর আসামি মো. ওমর ফারুক থেকে ইন্টার্ন ব্যাংকিং অ্যান্ড কমার্স প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মিরপুরের পশ্চিম মনিপুর এলাকায় গ্রাহকদের বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির বিল সংগ্রহ করতেন। ফারুক ছাড়াও আরিফ, ইমরান, ইমতিয়াজ ও জাহিদ বেশিরভাগ টাকা নিতেন। বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও টেলিফোন বিল বাবদ প্রায় ১ হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে ২০২১ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ৬ কোটি টাকা সংগ্রহ করেন তারা। এর মধ্যে বিল বাবদ পরিশোধ করেন মাত্র ৩ কোটি ৭০ লাখ। ওমর ফারুক শ্যামলীতে আরও একটি বাসা ভাড়া নিয়ে এনজিও অটুটের কার্যক্রমও পরিচালনা করতেন। মামলা হওয়ার পরপরই কর্মচারীসহ পালিয়ে যান ফারুক। দুটি অফিসের ডেকোরেশন, সংসার খরচ, কর্মচারীদের বেতন বাবদ গ্রাহকদের জমা দেওয়া বিলের টাকা খরচ করেন। বিভিন্ন সময়ে গ্রাহকদের টাকার ভাগ হিসেবে কর্মচারী ইমরান ১০ লাখ, আরিফ ৭০, ইমতিয়াজ ১০ এবং জাহিদ ৫ লাখ টাকা নেন। অন্যদিকে ডেসকোর ফিল্ড কর্মচারী রাকিব ও মাসুদ মাসের বিভিন্ন সময়ে লাইন কাটার কথা বলে ৩০ হাজার টাকা করে নিয়ে যেতেন। তখন আর লাইন কাটত না। এভাবে গ্যাস ও বিদ্যুতের কর্মচারীরাও প্রতারণায় সহায়তা করেছেন।
চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়, আসামি ফারুক তার অফিসের ম্যানেজার ইমরান, কর্মচারী জাহিদ ও ওমর ইমতিয়াজ মিলে মনিপুর এলাকার গ্রাহকদের জমা দেওয়া ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন। গ্রাহকদের টাকা নেওয়ার সময় প্রতিষ্ঠানের মাইক্যাশ এবং ইন্টার্ন ব্যাংকিং অ্যান্ড কমার্সের সিল ব্যবহার করতেন। ফারুক তার মোবাইল ফোনে টাকা রিচার্জের জন্য ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করেন। আর এজেন্ট ব্যাংক পরিচালনার জন্য তিনি সিটি ব্যাংক থেকে অনুমোদন নেন। তিনি ওই ব্যাংকের মাধ্যমে কোনো টাকা জমা দেননি। আবার মার্কেন্টাইল ব্যাংক তাকে এজেন্ট ব্যাংক পরিচালনার অনুমোদন দেয়নি।
এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. আব্দুল মতিন কালবেলাকে বলেন, আসামিরা গ্রাহকের বিলের টাকা জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেছে।
অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনায় জড়িত থাকার সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়ায় ৯ জনকে অভিযুক্ত করে সম্পূরক চার্জশিট দিয়েছি।