নৌকায় ভোট না দিলে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীর হাত কেটে নেওয়ার হুমকি দিলেন মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আলী ইস্কান্দার আহমেদ। মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার তালেবপুর ইউনিয়নের ইতরা গ্রামে মানিকগঞ্জ-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান জাহিদ আহমেদ টুলুর কর্মীরা ভোটের প্রচারে গেলে এমন হুমকি দেন তিনি। এর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ঘটনার সময় উপস্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী রাহুল খান ইমু বলেন, তারা বেশ কয়েকজন কর্মী ইরতা এলাকায় হ্যান্ডবিল (প্রচারপত্র) বিতরণের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে ট্রাক প্রতীকে ভোট চাইছিলেন। এ সময় সেখানে একটি প্রাইভেটকার নিয়ে উপস্থিত হন থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আলী ইস্কান্দার। তিনি আমাদের হাত কেটে নেওয়াসহ নানা হুমকি-ধমকি দেন। এ সময় একজন এই দৃশ্য ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেড়ে দেন। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, আলী ইস্কান্দার উচ্চস্বরে বলছেন, ‘আমার ভাই ডা. আলী জিলকদ (প্রয়াত) নমিনেশন নিয়া আসছিল। জিলকদ ভাইকে ভোট দেয় নাই। এবার আমার দেখার আছে। আমি তো ভেতরে (বুথ) থাকব। নৌকায় ভোট না দিলে হাত কাইটা ফালামু, আমি ইস্কান্দার। জিলকদের ভাই আমি।... রেডি থাইকো। সাহস থাকে পাল্লা লইবা আমার লগে! কে আছে আমার বিপক্ষে (অ্যাগেনেইস্ট) যাবে। ... দেখার আছে আমার। খোদার কসম দেখার আছে। এই বার চৌদ্দ শিকে ঢুকাইয়া ছাইরা দিমু।’
ভিডিওতে তাকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘সরকার আমার, পাওয়ার আমার, প্রশাসন আমার, এমপি আমার। যাইও ভোট দিবার, যাইও ট্রাক মার্কায়। ট্রাকের চাকার তলে ফালাই দিমু, হাড্ডি মাংস এক কইরা ফালামু। প্রত্যেকটাকে গুলি করব।’
এ বিষয়ে আলী ইস্কান্দার সাংবাদিকদের বলেন, ‘স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীরা টাকা ও চকলেট বিতরণ করছে শুনে আমি সেখানে যাই। আমার ভাই ডা. জিলকদ এক সময় নৌকার প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছিলেন। কিন্তু তারা ভোট দেয়নি। এ কারণে মনে অনেক কষ্ট। উত্তেজিত হয়ে তাদের অনেক কথা বলেছি। আমি রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারি নাই।’
এ ঘটনায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষ থেকে সিংগাইর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলে জানিয়েছন স্বতন্ত্র প্রার্থীর অনুসারী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সায়েদুল ইসলাম। তারা উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন বলেও জানান তিনি।
অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে সিংগাইর উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা পলাশ কুমার বসু বলেন, ঘটনাটি জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটিকে জানানো হয়েছে। সেখান থেকে নির্দেশনা পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।