রাফসান জানি
প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০২৪, ০৩:০২ এএম
আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০২৪, ০৭:৩৪ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

ব্যস্ত রাস্তায় থেমে গেল নারীর জীবন

মাথায় পড়া ব্লক নিয়ে রহস্য
ব্যস্ত রাস্তায় থেমে গেল নারীর জীবন

বাংলাদেশ ব্যাংকের সদরঘাট শাখার সহকারী ব্যবস্থাপক দীপু সানা। অন্য আর ১০টি দিনের মতো বুধবার অফিস শেষে বড় মগবাজারের বাসায় ফিরছিলেন তিনি। শান্তিনগর পর্যন্ত আসেন অফিসের বাসে। এরপর হেঁটে যাচ্ছিলেন। তবে গন্তব্যে ফেরা হয়নি তার। মৌচাক হয়ে মগবাজার যাওয়ার পথে ওপর থেকে তার মাথায় পড়ে একটি বালু-সিমেন্টের ব্লক। নিথর হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। পথচারীরা দীপুকে উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। থেমে যায় দীপু সানার জীবনপ্রদীপ।

গত বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর নিউ সার্কুলার সড়কের ফখরুদ্দিন পার্টি সেন্টারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। তবে কোথা থেকে এই ব্লকটি পড়েছে, তা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। দীপুর মৃত্যুর ঘটনায় অজ্ঞাত পরিচয়দের আসামি করে রমনা থানায় হত্যা মামলা করেছেন তার স্বামী তরুণ কুমার বিশ্বাস। থানা পুলিশ বলছে, ব্লকটি কোথা থেকে পড়েছে, সেই প্রশ্নের সুরাহা হয়নি। যে ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে, সেখানে এ ধরনের কোনো ব্লকের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি, ভবনটির কোনো অংশ নির্মাণাধীনও নয়।

ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ কালবেলার হাতে এসেছে। ফুটেজে দেখা গেছে, ফুটপাত ধরে হেঁটে যাচ্ছেন দীপু। কাঁধে ব্যাকপ্যাক, ডান হাতে ধরা আরেকটি ব্যাগ। সুলতান টাওয়ার নামে চারতলা ভবনের সামনে আসার পর ঠিক মাথা বরাবর একটি ব্লক এসে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে ফুটপাতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। মুহূর্তেই নিথর হয়ে যায় তার দেহ। বন্ধ হয়ে যায় নড়াচড়া। পথচারীরা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে ঘটনাস্থলের বিপরীতে সিরাজুল ইসলাম মেডিকেলে নিয়ে যান।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিন দেখা গেছে, সুলতান টাওয়ারটি চারতলা বিশিষ্ট একটি ভবন। এতে রয়েছে ফখরুদ্দিন রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড পার্টি সেন্টার। ভবনটির কোনো অংশে নির্মাণকাজ চলছে না। ভবনের নিচে পার্কিং, দ্বিতীয় তলায় ফখরুদ্দিন রেস্টুরেন্ট, তৃতীয় তলায় পার্টি সেন্টার ও চতুর্থ তলায় ভবন মালিকের স্টোররুম। ভবনটির ছাদে কেউ থাকেন না। খোলা ছাদের এক পাশে কিছু পাথর, পরিত্যক্ত কিছু আসবাব রয়েছে। ওই ছাদের চাবি শুধু মালিক ও ফখরুদ্দিন রেস্টুরেন্টের ম্যানেজারের কাছে থাকে। ছাদ তালাবদ্ধ থাকে। ঘটনার সময়ও ছাদ তালাবদ্ধ ছিল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সুলতান টাওয়ারের পাশের ভবনটি সিদ্বেশ্বরী কলেজের। আর ঠিক সামনে মৌচাক ফ্লাইওভার।

সুলতান টাওয়ারের ছাদ ও কার্নিশগুলোতে সিমেন্ট-বালুর তৈরি ব্লকের কোনো অস্তিত্ব দেখা যায়নি। পুরো ছাদ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। ভবনের ম্যানেজার রিয়াজ হোসাইন কালবেলাকে বলেন, ওপর থেকে যে ব্লক পড়েছে, সেরকম কোনো ব্লক আমাদের এখানে নেই। সাধারণ কোনো ব্লক নয়। অন্তত পাঁচ কেজির মতো ওজন হবে। ছাদে তখন কেউ ছিল না। ছাদের গেট তালা লাগানো থাকে। চাবি থাকে আমার কাছে।

ছাদ পরিষ্কার থাকার বিষয়ে তিনি জানান, শহরে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার পর থেকে প্রতি সপ্তাহে পরিষ্কার রাখা হয়। তবে আজকে সকালে পরিষ্কার করা হয়নি। তালাবদ্ধ থাকার কারণে এমনিতেই পরিষ্কার থাকে।

থানা পুলিশের পাশাপাশি সিআইডি, ডিবি, পিবিআই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সুলতান টাওয়ার ও আশপাশের সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে তারা। রমনা থানার ওসি উৎপল বড়ুয়া কালবেলাকে বলেন, যে ব্লকের আঘাতে দীপু সানা মারা গেছেন, সেই ব্লকটি জব্দ করেছি। ঘটনাস্থলের ফুটেজসহ অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। তিনটি বিষয় সামনে রেখে তদন্ত চলছে।

ওসির ভাষ্য, প্রথমত কোন বিল্ডিং থেকে ব্লকটি পড়েছে, দ্বিতীয়ত ফ্লাইওভার থেকে পড়েছে কি না, ‍তৃতীয়ত কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে ফেলেছে কি না? এ ছাড়া আরও কিছু পাওয়া গেলে সেগুলোও তদন্ত করা হবে।

বাকরুদ্ধ দীপুর স্বামী, সুষ্ঠু তদন্ত চান সহকর্মীরা: স্ত্রী দীপু সানার এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে বাকরুদ্ধ স্বামী তরুণ কুমার বিশ্বাস। তিনি পেশায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। তিন বছরের সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে ছিল তার সাজানো সংসার। সেই সংসারে এখন শূন্যতা আর হাহাকার। সেই শোকে যেন বাকরুদ্ধ হয়ে গেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার দুপুরে মর্গে গিয়ে দেখা যায়, শোকে যেন পাথর হয়ে বসে আছেন তিনি। কারও সঙ্গে কোনো কথা বলছেন না। কেউ কিছু জিজ্ঞেস করলে কথা বলছেন না। যেন শোকে কোনো কথা বের হচ্ছে না তার।

মর্গে কথা হয় দীপু সানার কয়েকজন সহকর্মীর সঙ্গে। তারাও শোকে মুহ্যমান। কেউ কারও সঙ্গে কথা বলছেন না। স্মৃতি মনে করে নীরবে চোখের জল ফেলছেন। তাদের একজন বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা শ্রাবণ। তিনি বলেন, আমরা চাই সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হোক। আইনি প্রক্রিয়া যাতে ঠিকমতো হয়, এটাও আমরা চাই। এই দুর্ঘটনায় অবশ্যই অবহেলা আছে। আমি রাস্তা দিয়ে হাঁটব, আমি নাগরিক, অবশ্যই আমার নিরাপত্তা চাই। আর এ ঘটনায় যারা দায়ী, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

রমনা থানার ওসি উৎপল বড়ুয়া বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জানান, মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আমাদের তদন্ত চলছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

প্রাণ গেল ২ জনের

কসাই আনিসকে ৬ টুকরো করলেন প্রেমিকা

ফের বিয়ে করলেন মধুমিতা

কোরিওগ্রাফারের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ, যা বললেন নাজমি

‘ভারতের সঙ্গে বিএনপির চুক্তির কথা ভিত্তিহীন, এটা জামায়াতের অপপ্রচার’

এটিএম বুথে কার্ড আটকে গেলে যা করবেন

হঠাৎ অসুস্থ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

‘হিজাব পরা আপুরাও মিথ্যা ছড়াচ্ছেন’—মেয়েদের ট্রল নিয়ে বিস্ফোরক বুবলী

লবণ বেশি খেলে কী ঘটে শরীরে জেনে নিন

যাদের জন্য পেঁপে খাওয়া বিপজ্জনক

১০

‘ওর মা নেই, ওকে মারবেন না প্লিজ’

১১

দুই দশক পর চট্টগ্রাম যাচ্ছেন তারেক রহমান

১২

তরুণদের মধ্যে বাড়ছে এইচআইভি সংক্রমণ, উদ্বেগ বিশেষজ্ঞদের

১৩

শেখ হাসিনার অবস্থান নিয়ে তির্যক মন্তব্য ভারতীয় সাবেক ক্রিকেটারের

১৪

বেকার ভাতা নয়, আমরা কাজ দেব : জামায়াত আমির

১৫

নতুন টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের সূচি প্রকাশ বিসিবির 

১৬

ভারতের সঙ্গে ‘সবচেয়ে বড় চুক্তি’ করছে ইইউ

১৭

পাকিস্তানি তরুণীর রূপে মুগ্ধ ভারতীয় অফিসার, ভিডিও ভাইরাল

১৮

প্রতিদিনের যেসব অভ্যাস ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে

১৯

কান্নার ভান করতে গিয়ে হেসে ফেললেন নববধূ

২০
X