কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০২৫, ১২:০০ এএম
আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২৫, ০৮:১৩ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

রক্তাক্ত সানজিদা তন্বির ছবিতে জেগে উঠেছিল পুরো দেশ

রক্তাক্ত সানজিদা তন্বির ছবিতে জেগে উঠেছিল পুরো দেশ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে সেদিন ছিল এক অদ্ভুত উন্মাদনা। নারী-পুরুষ শিক্ষার্থীরা গলা ফাটিয়ে স্লোগান তুলছিলেন। ঠিক তখনই নেমে আসে নৃশংস তাণ্ডব। ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই বিকেল। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা লাঠি, ইটপাটকেল আর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে আন্দোলনকারীদের ওপর। সেই বিভীষিকার কেন্দ্রে ছিলেন এক তরুণী—সানজিদা আহমেদ তন্বি। ইটের আঘাতে চোখের নিচ দিয়ে গড়িয়ে পড়া রক্তে ভিজে গিয়েছিল তার মুখ। ভাঙা চশমার কাচের আড়াল থেকে অস্পষ্ট চোখে তিনি খুঁজছিলেন বাঁচার পথ। মাদারীপুরের কালকিনির মেয়ে তন্বির শৈশব ছিল একেবারেই সাধারণ। রোকেয়া হলের আবাসিক এই ছাত্রী কখনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। ১৪ জুলাই, শেখ হাসিনা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ‘রাজাকারের নাতিপুতি’ বলে কটূক্তি করার পরই বদলে যায় ক্যাম্পাসের আবহাওয়া। রাত গভীর হতেই রোকেয়া হলের তালাবদ্ধ গেট ভেঙে বেরিয়ে আসেন নারী শিক্ষার্থীরা। সাধারণ পোশাকেই রাজপথে নেমে আসা মেয়েদের হাতে হাঁড়ি-পাতিল, মুখে প্রতিবাদের স্লোগান—‘তুমি কে, আমি কে—রাজাকার, রাজাকার? কে বলেছে, কে বলেছে—স্বৈরাচার, স্বৈরাচার?’ পরদিন দুপুরের পর রাজু ভাস্কর্যের সামনে দাঁড়িয়ে স্লোগান তুলছিলেন তন্বি ও তার সহপাঠীরা। হঠাৎ চারদিক থেকে হামলে পড়ে ছাত্রলীগ। ধাওয়া, লাঠিপেটা, ইটের আঘাত—চোখের পলকে লাল হয়ে ওঠে চারপাশ। তন্বি স্মৃতিচারণ করে বলেন—‘আমি বের হওয়ার চেষ্টা করছিলাম। হঠাৎ কয়েকজন লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারতে শুরু করে। একটি ইট এসে লাগে চোখের নিচে। চশমার কাচ ভেঙে রক্ত ঝরতে থাকে ফিনকি দিয়ে।’ আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে ছয়টি সেলাই করতে হয়। কিন্তু সেখানেও ভর করে আতঙ্ক—খবর আসে, ছাত্রলীগ নাকি হাসপাতালে হামলা চালাতে আসছে। শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তার জন্য বান্ধবীর বাসায় আশ্রয় নিতে হয় তাকে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আইসিসি বৈঠকে উত্তপ্ত বুলবুল, তীব্র টানাপোড়েনের তথ্য ফাঁস

তারেক রহমানের ‘ইউথ পলিসি টকে’ আমন্ত্রণ পাননি চাকসু এজিএস

‘তুর্কি নায়িকার মতো লাগছে’—অপুর নতুন লুকে মুগ্ধ ভক্তরা

বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ

খুলনা মেডিকেলের প্রিজন সেলে কয়েদির মৃত্যু

পুকুরে মিলল রুপালি ইলিশ

প্রতিদিন মারামারির চেয়ে আলাদা হওয়াই ভালো: সীমা

হাতিয়ায় স্বেচ্ছাসেবক দলের ৫ নেতাকে বহিষ্কার

নির্বাচনের ভোট গ্রহণের দায়িত্বে আ.লীগের নেতারা

মস্তিষ্ককে তীক্ষ্ণ রাখতে সাহায্য করতে পারে যে ১১ অভ্যাস

১০

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জিতলে সংবিধানে যা বদলে যাবে, যা যুক্ত হবে

১১

হাসনাতের প্রতিদ্বন্দ্বী মঞ্জুরুলের আপিল শুনানি আজ

১২

জলবায়ু সংস্থাগুলো থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, কিন্তু কেন?

১৩

বাবাকে নিয়ে মির্জা ফখরুলকন্যার আবেগঘন পোস্ট

১৪

মধুসূদনের মেঘনাদবধ কাব্য থেকে শিক্ষা

১৫

১০ বছর ধরে ‘বোমার’ ওপর ধোয়া হচ্ছিল কাপড়

১৬

আ.লীগ নেতাকে ধরতে গিয়ে আহত ৩ পুলিশ

১৭

ডাকসু নিয়ে জামায়াত নেতার অশালীন বক্তব্যে ঢাবির নিন্দা ও প্রতিবাদ

১৮

প্রতিবার ঘরের মেঝে মোছার পরও কীভাবে ধরে রাখবেন সুগন্ধ

১৯

আজ যেমন থাকবে ঢাকার আবহাওয়া

২০
X