কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ জুন ২০২৪, ০৯:১০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

‘প্রস্তাবিত বাজেটে তামাক কর : নিম্নবিত্ত মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা উপেক্ষিত’

বাজেটোত্তর প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গ তামাক মূল্য ও কর’ শীর্ষক অনুষ্ঠান। ছবি : কালবেলা
বাজেটোত্তর প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গ তামাক মূল্য ও কর’ শীর্ষক অনুষ্ঠান। ছবি : কালবেলা

আগামী প্রজন্মকে তামাকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করতে এবং নতুন তামাকসেবী সৃষ্টি কমাতে হলে অবশ্যই মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় রেখে, তামাকজাতদ্রব্যের দাম বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে ঢাকা আহছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য সেক্টর।

সোমবার (১০ জুন) রাজধানীর শ্যামলীস্থ ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য সেক্টরের অর্কিড মিটিং রুমে ‘বাজেটোত্তর প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গ তামাক মূল্য ও কর’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এমন দাবি জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা আহছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য ও ওয়াশ সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ। তিনি জানান, বিগত কয়েক বছরে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম যে হারে বেড়েছে, সেই অনুপাতে বাড়েনি তামাকজাতদ্রব্যের দাম। এমনকি, বাংলাদেশে তামাকজাতদ্রব্যের কর বৃদ্ধির হার পাশ্ববর্তী দেশেরগুলোর চাইতে তুলনামূলক অনেক কম।

২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে নিম্নস্তরে ১০ শলাকা সিগারেটের খুচরা মূল্য ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি শলাকার দাম বাড়ানো হয়েছে মাত্র ৫০ পয়সা।

এদিকে, বাজেটে সিগারেট, জর্দা, গুলের দাম বাড়ানো হলেও দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে বিড়ির দাম। যেখানে দেশের নিম্নবিত্ত শ্রেণির মধ্যে বিড়ি সেবন হার বেশি। ফলে প্রস্তাবিত বাজেটে নিম্নবিত্ত মানুষের স্বাস্থ্য সুরিক্ষায় বিষয়টি উপেক্ষিত হয়েছে।

গত কয়েক বছর বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য ৪০ শতাংশ থেকে প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। অথচ প্রস্তাবিত বাজেটে তামাকজাতদ্রব্যের দাম বাড়ানো হয়েছে ৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ১১ শতাংশ পর্যন্ত। এদিকে, ২০২৩-২৪ সালের তুলনায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জনগণের মাথাপিছু আয় বেড়েছে প্রায় ১২ শতাংশ। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লেও, তামাকজাতদ্রব্য তরুণ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সাধ্যের মধ্যেই থেকে যাচ্ছে।

তামাকজাত দ্রব্যের নামমাত্র এই মূল্যবৃদ্ধি দরিদ্র ও তরুণ জনোগোষ্ঠীকে কোনোভাবেই সিগারেটে নিরুৎসাহিত করবে না। কেননা মাথাপিছু আয়বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় নিলে প্রকৃত অর্থে সিগারেটের দাম বিগত বছরের তুলনায় কমে গেছে। এতে করে সস্তা সিগারেটের ব্যবহার আশংকাজনক হারে বেড়ে যাবে এবং তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি আরো বহুগুনে বাড়বে।

বাংলাদেশে ৩৫ ভাগের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করেন এবং তামাক ব্যবহারজনিত রোগে প্রতিবছর ১ লাখ ৬১ হাজারের অধিক মানুষ মারা যান। চূড়ান্ত বাজেটে তামাকবিরোধীদের প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হলে দীর্ঘ মেয়াদে প্রায় ৫ লাখ তরুণসহ মোট ১১ লাখের অধিক মানুষের অকাল মৃত্যু রোধ করা সম্ভব হবে।

তাই তামাকজাতদ্রব্যের সকল স্তরের মূল্য ও কর তামাকবিরোধী সংগঠগুলোর প্রস্তাবিত হারে বৃদ্ধি না করা হলে সরকার বাড়তি ১০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের সুযোগ হারাবে এবং তামাক ব্যবহারজনিত রোগের স্বাস্থ্য ব্যয় বাড়বে। এমনকি বাড়বে সাধারণ জনগনের ‘আউট অফ পকেট এক্সপেনডিচার’।

এ সময় ঢাকা আহছানিয়া মিশন, স্বাস্থ্য সেক্টরের উপপরিচালক মোখলেছুর রহমান, তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারী শরিফুল ইসলামসহ অনেকেই।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমেরিকা প্রবাসী মামার জন্য ছাগল কেনেন ইফাত

ইসরায়েলি গণমাধ্যমের বিশ্লেষণ / হামাসের সঙ্গে যুদ্ধে কি ইসরায়েল হেরে যাচ্ছে?

আওয়ামী লীগ দলে বাড়ছে তরুণনির্ভরতা

অস্ট্রেলিয়ায় নেমেসিসের তিন কনসার্ট

নানা আয়োজনে বাগেরহাটে কবি রুদ্রের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

তীব্র গরমে সৌদিতে এক হাজারের বেশি হজযাত্রীর মৃত্যু

এবার পাকিস্তান অধিনায়কের বিরুদ্ধে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগ

তারা সুতারিয়ার স্বপ্ন

উজানের পানিতে গাইবান্ধায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত

নেত্রকোনায় পানিতে ডুবে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু

১০

সড়ক দুর্ঘটনায় লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ইরান আহত 

১১

‘জামায়াতের সর্বস্তরের জনশক্তি বন্যার্তদের পাশে রয়েছে’ 

১২

ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়ার নিবন্ধ / ‘প্রতিবেশী কূটনীতিতে বাংলাদেশ’

১৩

যার ওপর বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে

১৪

বাংলাদেশের অর্থনীতি যেন ‘কৈ মাছের প্রাণ’

১৫

চট্টগ্রামে পাহাড়ি ঝরনা থেকে পড়ে পর্যটক আহত

১৬

‘প্রধানমন্ত্রী এবার কী নিয়ে আসেন, জনগণ তা দেখার প্রতীক্ষায়’

১৭

বন্যা থেকে সিলেটবাসীকে রক্ষা করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ : পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

১৮

এবার মানব বীর্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত

১৯

সাংবাদিক মুজাহিদ মসির বিরুদ্ধে হয়রানি মামলা, তদন্তে মন্ত্রিপরিষদের নির্দেশনা

২০
X