রাজধানীর মোহাম্মদপুর বছিলায় জোরপূর্বক অন্যের জমি দখলের চেষ্টা ও একটি বাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েক দুর্বৃত্তের বিরুদ্ধে।
সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে এই ভাঙচুর চালানো হয়। এই ঘটনার পর হাজারীবাগ থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। এতে ১৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত মোহন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
ডিএমপির ধানমন্ডি জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার আবু তালেব বলেন, ঘটনার দিন মাহবুবুর রহমান নামে একজনের জমি দখলের চেষ্টা করছিল দুর্বৃত্তরা। সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা ও সাইনবোর্ড ভাঙচুর করা হয়। পরে আলী হোসেন নামে এক হাউজিং ব্যবসায়ীর বাড়িতে হামলা হয়। এই ঘটনায় হাজারীবাগ থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। তাৎক্ষণিক পুলিশ মোহন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।
স্থানীয়রা বলছে, এই অপরাধী গ্রুপটি বসিলা, চাঁদ উদ্যানসহ আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে যুক্ত। বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তারা গ্রেপ্তার হলেও জামিনে বেরিয়ে আবারও অপরাধে জড়িয়ে পড়ে তারা।
হাজারীবাগ থানার ওসি নুর মোহাম্মদ বলেন, ঘটনার পরপরই আমাদের টিম পাঠানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সবাই পালিয়ে যায়। পরে মোহনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে আজ আদালতে তোলা হয়েছে।
অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, জমি দখল ও বাড়ি ভাংচুরের ঘটনায় যে দুটি মামলা হয়েছে।
ভুক্তভোগী মাহবুবুর রহমান জানান, তিনি ও তার বোন বসিলায় ১৩ শতাংশ জমি ক্রয় সূত্রে মালিক। যা দীর্ঘদিন তাদের দখলে রয়েছে। কিছুদিন ধরে মো. কবির হোসেন ও তার ভাই মো. মুকুলের নেতৃত্বে মো. সাদেক, মোতালেব হোসেন, আক্তার হোসেন, মো. রিতু, মো. শাকিব, মো. মোহন মো. শাহিন, সোলেমান, রাসেল চৌকিদার, মো. বাবু, মো. রাফি ও মো. সেলিম জমিটি জোর পূর্বক দখল করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে। বিভিন্ন সময় তাকে ও তার পরিবারকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছিল। এরই জের ধরে সোমবার জায়গা ছেড়ে চলে যাবার জন্য হুমকি দেয় এবং ২০-২৫ জন জমি দখলের চেষ্টা করে এবং সেখানে থাকা সিসি ক্যামেরা, সাইনবোর্ড ও গেইট ভাঙচুর করে। পরে ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।
এদিকে ভুক্তভোগী আরেক ব্যবসায়ী মো. আলী হোসেন বলেন, কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা আমার বাড়িতে হামলা করেছে। আমি স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতি করি। এরপরও কেন হামলা করল জানি না। বিষয়টি নিয়ে থানায় মামলা করেছি। একজন গ্রেপ্তার হয়েছে।
তিনি বলেন, যারা হামলা করেছে তারা সাবেক কাউন্সিলর রাজীবের অনুসারী। কারণ, আমি যখন মামলা করতে থানায় ছিলাম তখন রাজীব আমাকে ফোন করে বলেছে, মামলা না করতে। তিনি সব মীমাংসা করে দিবেন।
এসব বিষয়ে জানতে সাবেক কাউন্সিলর রাজীবকে তার একাধিক ব্যক্তিগত মোবাইলে ফোন করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।
মন্তব্য করুন