বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ : ৩০ জুলাই ২০২৩, ০৯:৩৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

শাহাদাতে কারবালা মাহফিলের শেষদিনে হাজারো মানুষের ঢল

আন্তর্জাতিক শাহাদাতে কারবালা মাহফিল। ছবি : কালবেলা
আন্তর্জাতিক শাহাদাতে কারবালা মাহফিল। ছবি : কালবেলা

বিশ্বব্যাপী চলা সংঘাত, হানাহানি থেকে বেরিয়ে হোসাইনি আদর্শের মানবিক ইসলাম প্রতিষ্ঠার আহ্বানের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়েছে আন্তর্জাতিক শাহাদাতে কারবালা মাহফিল। অবক্ষয়ে নিমজ্জিত তারুণ্যের শক্তিকে ইসলামের ধাঁচে গড়ে তোলা, কারবালার মর্মস্পর্শী ঘটনা ও নবী পরিবারের আত্মত্যাগের কাহিনি সর্বস্তরের পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি উঠেছে মাহফিল থেকে।

শনিবার (২৯ জুলাই) সমাপনী দিনে হাজারো আহলে বায়তপ্রেমী মানুষের ঢল নামে। মাহফিলে দেশবাসীর শান্তি সমৃদ্ধি, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য-সংহতি ও বৈশ্বিক শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। শুরুতেই প্রচার সম্পাদক দিলশাদ আহমেদের নির্মাণকৃত বিগত মাহফিলগুলোর ওপর চমৎকার একটি ভিডিওচিত্র প্রদর্শিত হয়। চট্টগ্রামের জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ প্লাজায় ১০ দিনব্যাপী ৩৮তম শাহাদাতে কারবালা মাহফিলের আয়োজন করে মাহফিল পরিচালনা পর্ষদ।

সমাপনী দিনের মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন শাহাদাতে কারবালা মাহফিল পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান, প্রধান পৃষ্ঠপোষক এবং পিএইচপি ফ্যামিলির চেয়ারম্যান সমাজসেবায় একুশে পদকপ্রাপ্ত সুফি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। বিদেশি আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইরাকের বাগদাদের বড় পীর সৈয়দ আবদুল কাদের জিলানী (রা) এর সরাসরি বংশধর আল্লামা সৈয়দ আফিফ আবদুল কাদের মনসুর আল জিলানী (মাজিআ)।

কারবালা ময়দানে ইসলাম দুইভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, একদিকে হযরত ইমাম হোসাইন (রা) ও আহলে বায়তে রাসূলের (দ.) হাতে মানবিক ইসলামের পতাকা, অন্যদিকে ইসলামের আলখেল্লাধারী ইয়াজিদের সহিংস উগ্রবাদী ইসলাম। আমরা হোসাইনি মানবিক ইসলামের পতাকাই ধারণ করি। ইসলামের এই মূলধারার ওপর আমরা প্রতিষ্ঠিত। কারবালার যুদ্ধে মানবতা, শান্তি, সম্প্রীতির মানবিক ইসলামের বিজয় সূচিত হয়েছে; যার নেতৃত্বে ছিলেন নবী বংশের উজ্জ্বল নক্ষত্র হযরত ইমাম হোসাইন (রা)।

তিনি আরও বলেন, আহলে বায়তে রাসুলের (দ.) মর্যাদা সমুন্নত করেছেন স্বয়ং আল্লাহ পাক। তাদের ভালোবাসা ফরজ। কোরআন মজিদ এবং সুন্নাহ তথা আহলে বায়তে রাসুলকে (দ.) আঁকড়ে ধরলে নাজাত মিলবে। তাদের মহব্বত বা আনুগত্য না করলে পথভ্রষ্ট হতে হবে। আমরা কোরআন মজিদ শুধু পড়ি না। চিন্তা গবেষণাও করি। আর কোরআন মজিদের পয়গামই হচ্ছে আহলে বায়তে রাসুলের (দ.) মহব্বত।

মাতা-পিতার খেদমত, সমাজে সালামের প্রসার ঘটানো এবং স্ত্রী-সন্তানদের ভালোবাসার আহ্বান জানিয়ে সভাপতির বক্তব্যে সুফি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, তবেই আপনাদের ওপর আল্লাহ পাক মেহেরবানি করবেন। ইমাম হযরত আহমদ ইবনে হাম্বলের (রা.) দৃষ্টান্ত টেনে বলেন, যিনি মানুষকে ভালোবাসেন তিনিই প্রকৃত আল্লাহওয়ালা। আপনারা সব সময় আল্লাহর জিকির করবেন। এতে সব পেরেশানি, দুঃখ-দুর্দশা দূর হবে, রিজিক বৃদ্ধি পাবে। এভাবে আল্লাহ পাকের কুদরত থেকে আপনারা মেহেরবানি পাবেন। জিকির, সবর, নেক্কার স্ত্রী, কৃতজ্ঞতাপূর্ণ অন্তর তথা শোকরগুজারি এই চারটি বিষয়কে ইসলাম বেশ গুরুত্ব দিয়েছে। ১০ দিনব্যাপী শাহাদাতে কারবালা মাহফিলে সহযোগিতাকারী সবার প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

আহলে বায়তে রাসুল (দ.) আমাদের নাজাত ও মুক্তির ঠিকানা বিষয়ে আলোচনা করেন জমিয়তুল ফালাহ মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুফতি মুহাম্মদ জালাল উদ্দিন আলকাদেরী। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন আল্লামা জালাল উদ্দিন আলকাদেরীর (রহ.) জ্যেষ্ঠ সন্তান ব্যারিস্টার আবু সাঈদ মুহাম্মদ কাশেম।

শুভেচ্ছা বক্তব্যে তিনি বলেন, আমার আব্বাজান কেবলা (রহ) আমাদের ঈমান আক্বিদার দীক্ষা দিয়ে গেছেন। এই মাহফিল তার বড় অর্জন। এজন্য তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

অতিথি ছিলেন গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশের চেয়ারম্যান পেয়ার মোহাম্মদ, আনজুমানের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহম্মদ মেহসিন, জমিয়তুল ফালাহ মসজিদের ঈমাম হাফেজ জালাল উদ্দিন, পিএইচপি ফ্যমিলির পরিচালক আমীর হোসেন সোহেল। কোরআন মজিদ থেকে তেলাওয়াত করেন আন্তর্জাতিক কারি আহমদ বিন ইউসূফ আল আজহারী। মসজিদের নিচতলায় হাজারো মহিলা মাহফিলের আলোচকদের বক্তব্য শোনেন।

মাহফিল পরিচালনা পর্ষদের শীর্ষস্থানীয়সহ সর্বস্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন দরবারের সাজ্জাদানশীন, আওলাদগণ, বিভিন্ন মসজিদের ঈমামবৃন্দ, কিভিন্ন মাদ্রাসার আলেমগণ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া মহফিলের প্রধান সমন্বয়ক পিএইচপি ফ্যামিলির পরিচালক মোহাম্মদ আলী হোসেন সোহাগ, খোরশেদুর রহমান, মুহাম্মদ আনোয়ারুল হক, সিরাজুল মুস্তফা, মুহাম্মদ সাইফুদ্দিন, জাফর আহমদ সওদাগর, প্রফেসর কামাল উদ্দিন আহমদ, আব্দুল হাই মাসুম, দিলশাদ আহমদ, হাফেজ আহমদুল হক, মোহাম্মদ আবুল মনসুর সিকদার, মাহাবুবুল আলম, হাফেজ ছালামত উল্লাহ, এস এম শফি, গাজী ইদ্রিচ চেয়ারম্যান, মাইন উদিন মিঠু, মোহাম্মদ ফরিদ মিয়া, শাহাব উদ্দিন, জহির উদ্দিন, খোরশেদ আালী চৌধুরী, নাজিব আশরাফ, মুহাম্মদ আব্দুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কোচিংয়ে যাওয়ার কথা বলে চট্টগ্রামে নিখোঁজ শিক্ষার্থী, গুলিবিদ্ধ ঢাকায়

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে শিল্প কারখানা-শিপইয়ার্ড চালু, শ্রমিক সংকট

বন্যার পর কারফিউ, সিলেটে নাকাল নিম্নআয়ের মানুষ

অগ্রিম টিকিটের টাকা ফেরত নিয়ে ‘চিন্তিত’ রেলযাত্রীরা

সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করলে সহপাঠীদের বয়কটের ডাক

বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে যুক্তরাষ্ট্র

কুষ্টিয়ায় ৪ মামলায় গ্রেপ্তার ৫১

সিলেটে জনমনে ফিরছে স্বস্তির নিঃশ্বাস, যান চলাচল স্বাভাবিক

ক্রেডিট কার্ডের বিল ও কিস্তি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা

নাশকতা মামলায় ছাত্রদল ও জামায়াত নেতা গ্রেপ্তার

১০

পুলিশ হত্যায় জড়িতরা ছাড় পাবে না : ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার

১১

তাণ্ডবকারী জামায়াত-বিএনপিকে খুঁজে খুঁজে বের করব : শামীম ওসমান

১২

আধিপত্য বিস্তারে শৈলকুপায় যুবককে কুপিয়ে হত্যা

১৩

কক্সবাজারে নাশকতা প্রতিরোধ কমিটি গঠন

১৪

চট্টগ্রামে একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার ৬৬৬

১৫

বিএনপি-জামায়াত অহিংসতার নামে সহিংস আন্দোলন চালিয়েছে : জয়

১৬

কারফিউ প্রত্যাহারের দাবি গণঅধিকার পরিষদের

১৭

রাজশাহী থেকে সীমিত পরিসরে চলছে ঢাকাগামী বাস

১৮

সিরাজগঞ্জে ৬ মামলায় আসামি ১ হাজার

১৯

ধ্বংসযজ্ঞ দেখে কূটনীতিকরা স্তম্ভিত : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

২০
X