চলতি মাসের ৯ তারিখ থেকে পরিচালক অফিস করেননি। উপপরিচালক বদলি হয়েছে গত সপ্তাহে। তত্ত্বাবধায়ক প্রথম থেকেই অফিসে অনিয়মিত। ফলে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তৈরি হয়েছে প্রশাসনিক অচলাবস্থা। এতে ব্যাহত হচ্ছে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা।
এদিকে সময়মতো কার্যক্রম শুরু না করায় এক মাস ধরে হাসপাতালে নেই তিন শতাধিক আউটসোর্সিং কর্মী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চার লটে ৩০৭ জন আউটসোর্সিং কর্মচারী নিয়োজিত ছিল। এর মধ্যে একশ লট স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদনে ঠিকাদারের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছিল।
বাকি ১০৭, ৯৫ এবং ৪ জন আলাদা লটে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে ২০১৭ সাল থেকে চলা এই সকল লটের কার্যক্রম শেষ হয় গত মাসের ৩১ জুলাই। তবে নিয়ম অনুযায়ী, হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে অন্তত তিন মাস আগে থেকে হাসপাতালের এপিপির প্রস্তুত প্রক্রিয়া ছাড়াও প্রশাসনিক অনুমোদনের কার্যক্রম শুরু করার নিয়ম রয়েছে।
তবে রহস্যজনকভাবে এই কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় বর্তমানে হাসপাতালে কোনো আউটসোর্সিং কর্মচারী নেই। ফলে তিন শতাধিক কর্মচারী না থাকায় হাসপাতালের চারদিকে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে হাসপাতালের বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করে দেখা যায়, প্রত্যেকটি ব্লকের মধ্যবর্তী জায়গা ডাস্টবিনে পরিণত হয়েছে। দুর্গন্ধে রোগীদের নাভিশ্বাস উঠেছে। এ ছাড়া বহির্বিভাগে অপারেশন থিয়েটারসহ বিভিন্ন স্থানে আউটসোর্সিং কর্মচারীদের ঠিকমতো না আসার কারণে স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রমে বিপর্যস্ত অবস্থা।
হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আসলাম শেখ নামে এক রোগী কালবেলাকে বলেন, সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি টাকা পয়সা নেই তার জন্য। কিন্তু এখানে আসার পর আল্ট্রাসনোগ্রাম, এক্সরে ও প্যাথলজি পরীক্ষা এবং ক্যাথেটার পরানোতে আমার হাজার টাকা শুধু আউটসোর্সিং কর্মচারীদের দিতে হয়েছে। তারা কোনো কাজ করছে না। তারা বলে, আমরা বেতন পাই না। তাই বাধ্য হয়ে এতো টাকা দিয়ে তাদের কাছ থেকে সেবা নিতে হয়েছে।
সার্জারি, গাইনি, নিউরোমেডিসিন বিভাগে একাধিক রোগীর সঙ্গে কথা বলে একই অভিযোগ পাাওয়া গেছে।
হাসপাতালের আউটসোর্সিং ঠিকাদার হেমায়েত হোসেন ফারুক বলেন, হাসপাতালে বর্তমানে কোনো আউটসোর্সিং কর্মচারী নেই। যারা আগে কাজ করেছেন তারাই এখন কাজ করছেন। যেহেতু হাসপাতালের সঙ্গে কোনো ধরনের চুক্তি এখনো হয়নি, তাই কোনো কর্মচারীকে কাজের জন্য বাধ্য করা যাচ্ছে না।
পরিচালক দীর্ঘদিন অনুপস্থিত উপপরিচালকের বদলি
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ৯ ডিসেম্বর হাসপাতালের বিভিন্ন বিষয়ের পর পরিচালক ও উপপরিচালকের বৈঠকের পর ১০ তারিখে ৭ দিনের ছুটি নিয়ে বাড়ি চলে যান পরিচালক ডা. গৌতম কুমার পাল। কিন্তু ছুটি শেষ হলেও তিনি আর হাসপাতালে আসেননি।
হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, বর্তমান পরিচালক ডা. গৌতম কুমার পাল খুলনায় চাকরি করতে চান না। তাই নিজের বদলি করাতে ঢাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এদিকে উপপরিচালক তদবির করে ১৭ জুলাই ঝিনাইদহ মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস) এ অধ্যক্ষ হিসেবে বদলির পর তাড়াহুড়া করে পরের দিনই বিদায় নেন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে। ফলে প্রশাসনিক শূন্যতা তৈরি হয় দক্ষিণবঙ্গের সর্ববৃহৎ এই হাসপাতালটিতে।
বুধবার (২৪ জুলাই) চূড়ান্তভাবে ছাড়পত্র নেওয়ার সময় তিনি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ককে উপপরিচালকের দায়িত্বভার দিলেও উপস্থিত ছিলেন না তত্ত্বাবধায়ক ডা. আক্তারুজ্জামান।
এ বিষয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মুঠোফোনে জানান, তিনি বর্তমানে অসুস্থ অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ সময় চাকরিতে যোগদানের ব্যপারে কোনো উত্তর দেননি তিনি।
উপপরিচালক ডা. হুসাইন শাফায়াত কালবেলাকে বলেন, বেশ কিছুদিন এখানে চাকরি করলাম। সরকারি চাকরিতে বদলি নিয়মিত ব্যাপার। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল তো ফাঁকা থাকবে না। সরকার যাকে যোগ্য মনে করবে, তাকে সেখানে দায়িত্ব দেবে। তিনি দায়িত্ব পালন করবেন।
মন্তব্য করুন