কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে সংঘটিত সহিংস ঘটনায় কক্সবাজার সদর মডেল থানায় পাঁচটি, চকরিয়া থানায় একটিসহ ছয়টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ৩২৩ জনের নাম উল্লেখ থাকলেও অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে সহস্রাধিক ব্যক্তিকে।
দায়েরকৃত মামলার মধ্যে রয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে তিনটি, আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে একটি, জেলা জাসদের পক্ষ থেকে একটি এবং ছাত্রলীগের এক নেতার পক্ষ থেকে একটি। পুলিশ সহিংস ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৫০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
সত্যতা নিশ্চিত করে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো. মাহফুজুল ইসলাম বলেন, কক্সবাজারে পুলিশের ওপর হামলা এবং রাজনৈতিক দলের কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনায় এ পর্যন্ত ছয়টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় সম্পৃক্ততার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এ পর্যন্ত ৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদেরও ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্ত করা হচ্ছে। আরও একটি মামলা হতে পারে।
তথ্য মতে, ঘটনার এক দিন পর কক্সবাজার পৌর শাখা জাসদের সভাপতি মো. হোসেন মাসু বাদী হয়ে ২৪ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করে অফিস ভাঙচুরের মামলা করেন। এ ছাড়া দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় কক্সবাজারে দুটি এবং চকরিয়ায় একটি মামলা করেছে পুলিশ। এসব মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে প্রায় ৯০০ জনকে। কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগে কক্সবাজার পৌর আওয়ামী লীগের আওতাধীন ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি আমির উদ্দিন বাদী হয়ে ১৯৪ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতপরিচয় ১৮০ থেকে ২০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এ ছাড়া দুর্বৃত্তের হামলায় আহত কক্সবাজার সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের আহ্বায়ক রাজিবুল ইসলাম মোস্তাক বাদী হয়ে ১০৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় অনেকে আছে দাবি করে আরও একটি মামলা করেন।
চকরিয়া থানার ওসি শেখ মো. আলী বলেন, আন্দোলনের নামে কিছু দুর্বৃত্ত চকরিয়ার প্রধান সড়ক অবরোধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় তারা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করে চকরিয়া থানায় একটি মামলা করেছে।
পুলিশ সুপার মাহফুজুল ইসলাম বলেন, আমরা বিভিন্ন সোর্সের মাধ্যমে এবং সিসিটিভি ও ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলায় অংশ নেওয়া অপরাধীদের চিহ্নিত করতে চেষ্টা করছি। ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে যেই জড়িত থাকুক কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আর রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে করা মামলায় যাদের নাম দেওয়া হয়েছে তাদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং হবে। আমরা নির্মোহ তদন্ত করে দেখব এজাহারে থাকা আসামিরা অপরাধের সঙ্গে জড়িত কি না। অপরাধীদের চিহ্নিত করা গেলে আইনের আওতায় আনা হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
মন্তব্য করুন