রংপুরে সহিংসতায় সিটি করপোরেশনের ৬৪টি সিসি ক্যামেরা, ৩০ কিলোমিটার ফাইবার অপটিক্যাল ক্যাবল, এলইডি লাইট, নগর ভবনের প্রধান ফটক ভাঙচুর এবং কাউন্সিলর অফিস ভাঙচুর অগ্নিসংযোগসহ নগর ভবনের তিন কোটি ২০ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন রংপুর সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা।
রোববার (২৮ জুলাই) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
এসব ঘটনার নিন্দা এবং প্রকৃত দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়ে মেয়র বলেন, চলমান আন্দোলনে দুর্বৃত্তরা নগর ভবনের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়ে ডিজিটাল ট্রাফিক সিগনাল, ২৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর অফিসসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। অজ্ঞাতদের নামে মামলা করা হয়েছে।
ছাত্র আন্দোলন আর সহিংসতা এক নয় বলেও দাবি করেন মেয়র। তিনি বলেন, ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার কোনো সুযোগ নেই। আমার কথা হলো এই তথ্য প্রযুক্তির যুগে সরাসরি কেউ যুক্ত থাকে তাকে আইনের আওতায় আনবে প্রশাসন।
সিটি মেয়র মোস্তফা বলেন, আমি একটি দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত। দলের কেউ যদি ধবংসাত্মক কোনো কাজের সঙ্গে জড়িত হয় তাকেও আইনের আওতায় আনবে প্রশাসন। সে দায় ব্যক্তির দলের নয়।
জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান বলেন, জাতীয় পার্টি ধবংসাত্মক ও জ্বালাও পোড়াও রাজনীতি বিশ্বাস করে না। আন্দোলনকারীদের আপনি পানি দিয়েছেন সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে মেয়র বলেন, প্রধানমন্ত্রী কিন্তু এটাকে আলাদা করে দেখছেন। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী আর ভাঙচুর, ধবংসাত্মক রাজনীতি, সহিংসতা সেটা আলাদা। ছাত্রদের পানি খাওয়ানো হলে তাহলে তো রংপুরে এক লাখ লোককে গ্রেপ্তার করতে হবে। এটা কোনো অপরাধ নয়।
আমি মেয়র, নগর পিতা। আমার অনেক দায়িত্ব রয়েছে। মহানগরে কেউ যদি আহত হয়, অসুস্থ্য হয় তাকে উদ্ধার করা, অভিভাবক না থাকলে তার চিকিৎসা দেয়ার দায়িত্ব আমার। আমি দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে মনে করি না যে এটা কোনো অপরাধ।
সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই কাউন্সিলর গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, সেটা তাদের ব্যক্তিগত বিষয়। কাউন্সিলরদের ব্যক্তিগত বিষয় মেয়র দেখেন না।
সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামীপন্থি কাউন্সিলররা উপস্থিত ছিলেন না। তবে, নগর ভবনের প্রধান নির্বাহী উম্মে ফাতেমা, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং অন্যান্য কাউন্সিলররা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন