গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০১ আগস্ট ২০২৪, ০১:০৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

প্রভাবশালীদের থাবায় ফসলি জমি, আতঙ্কে এলাকাবাসী

ফসলি জমি কেটে বানানো হচ্ছে পুকুর। ছবি : কালবেলা
ফসলি জমি কেটে বানানো হচ্ছে পুকুর। ছবি : কালবেলা

দেখতে নদী বা বিল মনে হবে। কিন্ত না, এটা নদী বা বিল নয়। এখানে দিনের আলোতে বছরের পর বছর তিন ফসলি জমি কেটে মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। জমি হারানো এবং ধসে যাওয়ার ভয়ে রয়েছেন এলাকাবাসী। জমি ধসে যাওয়া বা দখল হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পাচ্ছেন না এলাকাবাসী।

রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলা উজানচর ইউনিয়নের রিয়াজউদ্দিন মাতব্বর পাড়ায় সরেজমিন ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাছ চাষের অজুহাতে রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উজানচর রিয়াজদ্দিন মাতব্বর পাড়া এলাকায় শতশত একর আবাদি জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি খনন করে বিক্রি করছে উপজেলার প্রভাবশালী গ্রুপ। অদৃশ্য কারণে স্থানীয় প্রশাসন নীরব থাকায় প্রতিনিয়ত দিনের আলোতে বছরের পর বছর অবাধে মাটি খনন করে তিন ফসলি জমি ধ্বংস করছে।

এদিকে প্রভাবশালীদের মাটি খনন চলমান ও স্থানীয় প্রশাসনের অদৃশ্য কারণে নীরব থাকায় প্রতিদিন কৃষক হারাচ্ছেন তিন ফসলি জমি। অবৈধভাবে মাটি খননের কারণে একটি সময় পুরো এলাকা ধসে যেতে পারে এমন আশঙ্কায় এলাকাবাসী।

জানা যায়, শুধু উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের রিয়াজউদ্দিন পাড়ায় নয় উপজেলায় দৌলতদিয়া প্রায় ১০ পয়েন্ট থেকে প্রতিনিয়ত ড্রেজার দিয়ে মাটি খনন করে বিক্রি করা হচ্ছে। এদিকে মাটিভর্তি ড্রাম ট্রাকগুলো গ্রাম সড়ক ও বাঁধ দিয়ে অবাধে চলাচল করায় রাস্তা যেমন নষ্ট হচ্ছে। আবার রাস্তা দিয়ে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচল করতে অসুবিধা হচ্ছে।

জমি হারোনো আব্দুল গনি বলেন, গোয়ালন্দ পৌরসভার সাবেক মেয়র শেখ নিজাম যেভাবে তিন ফসলি জমি কেটে মাটি বিক্রি করছেন এটা অন্যায়। আমার কয়েক বিঘা জমি তার দখলে চলে গেছে।

স্থানীয় মো. মান্নান বলেন, মাটি খনন করার কারণে এলাকায় ক্ষতি হচ্ছে। এক বিঘায় মাটি কাটায় ধসে যাচ্ছে ৫ বিঘা। আমার পাশের জমিতে মাটি কাটা হচ্ছে। ৭০/৮০ ফিট গভীর করে মাটি কাটলে পাশ থেকে মাটি’র লেয়ার সরে যায়। সুতরাং গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের পুরো এলাকার লেয়ারের মাটি খনন করার জায়গায় চলে যাচ্ছে।

গোয়ালন্দ পৌরসভার সাবেক মেয়র শেখ নিজাম বলেন, আমি পুকুর খনন ও গোয়ালন্দ গোধূলি পার্ক করার জন্য মাটি ও বালি বিক্রয় করছি।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র বলেন, কৃষি জমি নষ্ট করে মাটি কোনো ইটভাটায় দেওয়া যাবে না। কারণ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ রয়েছে যে কৃষি ও আবাদি জমি কোনোভাবে নষ্ট করা যাবে না। আমরা এটা খতিয়ে দেখব। আমাদের এখানে কৃষি কর্মকর্তা-মৎস্য কর্মকর্তা রয়েছেন এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) রয়েছেন। আমরা প্রয়োজনে যৌথ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেব।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আব্দুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী বহুবার ও প্রতিনিয়ত বলছেন যে, তিন ফসলি জমিতে কোনো ধরনের মাটি উত্তোলন ও অপব্যবহার করা যাবে না। মাছ চাষের নামে ফসলি ও আবাদি জমি খনন গ্রহণযোগ্য নয়। প্রয়োজনে আমি স্থানীয় ডিসি ও এসপিকে বলব।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দুর্নীতিবাজকে ভোট  দিয়ে সুশাসনের স্বপ্ন দেখাই আত্মপ্রবঞ্চনা

খেলা দেখতে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনায় ৭ ফুটবল সমর্থক নিহত

শীত আসছে কি না, জানাল আবহাওয়া অফিস

বিএনপি-জামায়াতের তুমুল সংঘর্ষ

ধর্মেন্দ্র পাচ্ছেন মরণোত্তর পদ্মবিভূষণ

হজের কার্যক্রম নিয়ে নতুন তথ্য জানালেন ধর্ম উপদেষ্টা

বিএনপির নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর

বিএনপির দুপক্ষের তুমুল সংঘর্ষ

একই দলের প্রার্থী হয়ে লড়ছেন মামা-ভাগনে

নির্বাচিত হয়ে সরকারে গেলে সবার আগে শান্তি ফেরাব : মির্জা ফখরুল

১০

বিশ্বকাপ নিশ্চিত করল বাংলাদেশ

১১

নির্বাচনে বিএনপিকে দুটি চ্যালেঞ্জ নিতে হচ্ছে : রবিউল আলম

১২

স্বামী জামায়াত আমিরের জন্য ভোট চাইলেন ডা. আমেনা বেগম

১৩

মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রীর বিমান দুর্ঘটনা নিয়ে নতুন তথ্য

১৪

নাগরিক সমস্যার সমাধানে প্রতিশ্রুতি ইশরাকের

১৫

প্রাণ গেল ২ এসএসসি পরীক্ষার্থীর

১৬

আরও ১১ নেতাকে দুঃসংবাদ দিল বিএনপি

১৭

সুখবর পেলেন মোস্তাফিজুর রহমান

১৮

স্থায়ী পুনর্বাসন ও সম্প্রীতির সমাজ গড়ার প্রতিশ্রুতি আমিনুল হকের

১৯

রবিনের ধানের শীষেই আস্থা সাধারণ ভোটারদের 

২০
X