কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:২০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

মানবিক ডিসি জাহিদের সহায়তায় স্বস্তি দুর্দশাগ্রস্তদের

গণশুনানিতে মানবিক ডিসি, অসহায়দের মুখে স্বস্তির হাসি। ছবি : কালবেলা
গণশুনানিতে মানবিক ডিসি, অসহায়দের মুখে স্বস্তির হাসি। ছবি : কালবেলা

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের সাপ্তাহিক গণশুনানি কক্ষটি বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) যেন পরিণত হয়েছিল অসহায় মানুষের শেষ ভরসার জায়গায়। জীবনের নানা সংকট, অভাব আর অনিশ্চয়তার গল্প নিয়ে একে একে হাজির হন কয়েকজন ভুক্তভোগী। তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। অনেকের চোখে ছিল দুশ্চিন্তা, কারও কণ্ঠে ছিল দীর্ঘদিনের চেপে রাখা কষ্ট। সবারই একটাই প্রত্যাশা— কেউ যেন পাশে দাঁড়ান।

নগরের হালিশহর থানার বড়পোল এলাকার হাফেজ মোহাম্মদ আবুল হোসাইন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মসজিদে ইমামতি ও রমজানে খতম তারাবির নামাজ পড়িয়ে সংসার চালিয়ে আসছেন। পাশাপাশি একটি হাফেজিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করে দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করার স্বপ্ন লালন করছিলেন।

কিন্তু হঠাৎ মাদ্রাসার চাকরি চলে গেলে ভেঙে পড়ে সেই স্বপ্নের ভিত। সংসারে নেমে আসে চরম আর্থিক সংকট। একমাত্র ছেলের এসএসসি পরীক্ষার ফি ও টেস্ট পেপার কেনার সামর্থ্যও ছিল না তার।

অসহায় এই মানুষটি পরিচিতজনদের পরামর্শে গণশুনানিতে এসে নিজের কষ্টের কথা তুলে ধরেন। বিষয়টি শুনে জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা দেন। কার্যালয় থেকে বেরিয়ে আবুল হোসাইনের কণ্ঠে ছিল স্বস্তি, চোখে কৃতজ্ঞতার ছাপ। তিনি বলেন, ‘এত ব্যস্ততার মাঝেও স্যার আমার কথা শুনেছেন। সঙ্গে সঙ্গে সাহায্য করেছেন। মনে হয়েছে, আমরা একা নই।’

লোহাগাড়া থানার উত্তর কলাউজান গ্রামের মো. ইছহাক দুর্ঘটনায় বাম হাত সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে ফেলেন। কর্মক্ষমতা হারিয়ে তার আয়-রোজগারের পথ বন্ধ হয়ে যায়। এর মধ্যে বৃদ্ধা মা জটিল রোগে ভুগছেন। অর্থের অভাবে মায়ের চিকিৎসা শুরু করাও সম্ভব হচ্ছিল না।

শেষ ভরসা হিসেবে তিনি গণশুনানিতে আসেন। জেলা প্রশাসক তার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। ইছহাক বলেন, ‘ডিসি স্যার আমার কষ্টের কথা বুঝেছেন। এখন অন্তত মায়ের চিকিৎসা করাতে পারব।’

নগরের কোতোয়ালি থানার আশকার দিঘির পাড় এলাকার সীমা দে স্বামীহারা। তার ছেলে সিদ্ধার্থ দে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। ছেলের উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হলেও অর্থাভাবে তা সম্ভব হচ্ছিল না। দুই মেয়ে স্কুলে পড়াশোনা করছে। আর প্রতিবন্ধী সন্তানের সার্বক্ষণিক দেখাশোনার কারণে নিয়মিত কাজও করতে পারছেন না তিনি।

জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আর্থিক সহায়তা পান সীমা দে। তার কথায়, ‘এই সাহায্য আমার সন্তানের চিকিৎসায় নতুন আশা জাগিয়েছে।’

রাউজান উপজেলার পবন বড়ুয়া জটিল লিভার সমস্যায় আক্রান্ত। চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে না পেরে প্রায় দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন তিনি ও তার পরিবার। গণশুনানিতে এসে সহায়তা চাইলে জেলা প্রশাসক তার প্রতিও মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘সরকারি তহবিল সীমিত, কিন্তু মানুষের অসহায় গল্প শুনলে চুপ করে থাকা যায় না। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। চাহিদার তুলনায় সহায়তা কম হলেও সরকার যে তাদের পাশে আছে, সেই বার্তাটি পৌঁছে দিতে চাই।’

গণশুনানির এই দিনটি তাই শুধু প্রশাসনিক কার্যক্রম ছিল না; ছিল মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক মানবিক প্রতিশ্রুতির দিন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জোড়া পেনাল্টিতে নাটকীয় জয়ে বিশ্বকাপ প্রস্তুতি নেদারল্যান্ডসের

ভোরে ঝরল ৪ প্রাণ

অপরাধবিষয়ক টিভি অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ করল ইরাক

যে বিশ্বকাপ বদলে দিয়েছিল ‘অনেক কিছু’

‘ফেভারিট নয়, তবে বিশ্বকাপ জয়ের দাবিদার পর্তুগাল’

সৌদিতে প্রাণ গেল প্রবাসী ফল ব্যবসায়ীর

চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ দরকার : ডা. ডোনার

আর কোনো যুদ্ধ চান না ট্রাম্প, নেতানিয়াহুকে সতর্কবার্তা

প্রতিবন্ধী কিশোরী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

প্রকাশ্যে যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা

১০

চট্টগ্রামে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নৈরাজ্য ঠেকাতে চসিক মেয়রের উদ্যোগ

১১

বাড়ি ফেরার পথে রাজমিস্ত্রিকে কুপিয়ে হত্যা

১২

ওলিসের হ্যাটট্রিকে উড়ন্ত ফ্রান্স, জয়ে শেষ হলো বিশ্বকাপ প্রস্তুতি

১৩

ইতিহাসের এই দিনে

১৪

আজকের নামাজের সময়সূচি

১৫

ইরানে হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন হারাবে ইসরায়েল : ট্রাম্প

১৬

যশোরে আ.লীগ-যুবলীগের তিন নেতা গ্রেপ্তার

১৭

গোপালগঞ্জে আওয়ামীলীগ নেতার পদত্যাগ

১৮

নিখোঁজের ৪ দিন পর প্রবাসীর হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার

১৯

ক্যানসার শনাক্তে দেশে প্রথম রোবটিক প্রোস্টেট বায়োপসি হলো স্কয়ারে

২০
X