গাজীপুরে বেতন বাড়ানোর দাবিতে মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) অষ্টম দিনের মতো ফের আন্দোলনে নেমেছেন শ্রমিকরা। আন্দোলনের কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
শ্রমিকদের দাবি, ন্যূনতম মজুরি ২৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে হবে। বিদ্যমান মজুরিতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানান, বেতন বাড়ানোর দাবিতে টানা অষ্টম দিনের মতো গাজীপুরে আন্দোলনে নামেন শ্রমিকরা। এদিন সকাল ৮টা থেকে ভোগড়া বাইপাসের আশপাশের এলাকার বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা আন্দোলন শুরু করে। এ ছাড়া তেলিপাড়া এলাকায় একই দাবিতে বিক্ষোভ করছেন শ্রমিকরা। সড়ক অবরোধের কারণে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়ক যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া নাওজোড় এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে আন্দোলন করছে শ্রমিকরা।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সকাল থেকে ভোগড়া বাইপাস এলাকায় আন্দোলনে নামেন শ্রমিকরা। একপর্যায়ে তারা চান্দনা চৌরাস্তায় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ ছাড়া তেলিপাড়া এলাকায় আন্দোলন করছেন শ্রমিকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। শ্রমিক অসন্তোষ ও বিক্ষোভের মুখে নাওজোড়, ইটাহাটা, তিনসড়ক, চান্দনা চৌরাস্তা, কোনাবাড়িসহ আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন কারখানা ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
পুলিশের উপকমিশনার আবু তোরাব মো. শামসুর রহমান বলেন, পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বেশ কয়েকটি কারখানা ছুটি ঘোষণা করেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।
এদিকে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক বাজার এলাকায় শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করে এবং মহাসড়কে ১০-১২টি যানবাহন ভাঙচুর করে আন্দোলনরত শ্রমিকরা। এ সময়ে শিল্প পুলিশ ও থানা পুলিশ তাদের নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শত শত শ্রমিক পুলিশকে ধাওয়া করে। পুলিশ আত্মরক্ষার্থে মৌচাক বাজার এলাকায় অবস্থিত কালিয়াকৈর থানাধীন পুলিশ ফাঁড়িতে অবস্থান নেয়। এ সময়ে শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালায়। ফাড়ির গেট, অফিসের গ্লাস এবং সাইনবোর্ড ভাঙচুর করে।
একইভাবে চন্দ্রা হাইওয়ে পুলিশ বক্সেও ভাঙচুর করে শ্রমিকরা। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চন্দ্রা এলাকার ওয়াল্টন শোরুম ও সেখানে একটি পিকাপে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নেভায়। পরে ওয়ালটনের শ্রমিকরা আন্দোলনরত শ্রমিকদের ধাওয়া দিলে মহাসড়ক ছেড়ে যায় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। শ্রমিকদের অসন্তোষের কারণে মঙ্গলবার থেকে অধিকাংশ কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর মহানগরীর রিপন নিটওয়্যার লিমিটেড, ডিবিএল গ্রুপের জিন্নাত কমপ্লেক্স, তুসুকা গ্রুপের ৫ থেকে ৭টি কারখানা, মিতালি ফ্যাশন, মাল্টি ফ্যাবস লিমিটেড, আলিম নিড টেক্স, এমএম নিড ওয়্যার, জিএমএস কমপোজিট নিট, পি.এন কম্পোজিট, মুকুল কম্পোজিটসহ অধিকাংশ কারখানা ছুটি ঘোষণা করেছে।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকবর আলী খান বলেন, শ্রমিকরা বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছে। পুলিশ ফাঁড়ি ভাঙচুর করেছে। মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়েছে। দোকানপাট ও একটি হাসপাতাল ভাঙচুর করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, র্যাব ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে।
মন্তব্য করুন