ব্রাহ্মণপাড়া (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর ২০২৩, ০৮:১০ এএম
আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২৩, ০৮:২৩ এএম
অনলাইন সংস্করণ

বিলুপ্তির পথে বাবুই

তালগাছে সারি সারি ঝুলছে বাবুই পাখির বাসা। ছবি : কালবেলা
তালগাছে সারি সারি ঝুলছে বাবুই পাখির বাসা। ছবি : কালবেলা

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় বিলুপ্তির পথে কবি রজনীকান্ত সেনের কালজয়ী ছড়ার শিল্পীপাখি বাবুই। এখন আর যত্রতত্র দেখা মেলে না তাদের। উঁচু গাছ বা তাল গাছের স্বল্পতা ও প্রকৃতিক বিপর্যয়ের কারণেই এমনটি হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। এতে পরিবেশের ভারসাম্যও নষ্ট হচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।

জানা গেছে, গ্রীষ্মকাল বাবুই পাখিদের প্রজনন ঋতু। এই সময় এরা বাসা বাঁধে। সাধারণত মে থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত বাবুই পাখির প্রজনন মৌসুম। স্ত্রী পাখির প্রেরণায় পুরুষ বাবুই পাখি মনের আনন্দে বিরামহীনভাবে বাসা তৈরির কাজ শেষ করে। একটি পুরুষ বাবুই পাখি একটি মৌসুমে প্রায় পাঁচ থেকে ছয়টি বাসা তৈরি করতে পারে। তবে প্রেমিক বাবুই পাখি যতই ভালোবাসা প্রকাশ করুক না কেন প্রেমিকা বাবুই পাখি ডিম দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রেমিক বাবুই আবার সঙ্গী খোঁজার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এভাবেই চলে বাবুইদের জীবনের গল্প।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কালের আবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে তাল পাতায় গড়া নিপুণ কারুকার্যে খচিত বাবুই পাখির বাসা। বাবুই পাখির প্রধান আবাসস্থল বাংলার ঐতিহ্য তালগাছ এখন আর তেমন দেখা যায় না, তাই তেমন একটা চোখে পড়ে না শিল্পীপাখি বাবুইরও। অথচ আজ থেকে প্রায় ১০ থেকে ১৫ বছর আগেও ওই এলাকার গ্রামগুলোর বাড়ির পাশের, মাঠ-ঘাটের তাল গাছে দেখা যেত এদের বাসা। দেখা যেত এদের শিল্পকর্মের নিপুণ দৃশ্য। বাবুই পাখির কিচিরমিচির শব্দও এখন স্মৃতির মতো।

স্থানীয় বাসিন্দা মুঞ্জুর আলী (৮১) বলেন, বাবুই এই অঞ্চলের প্রায় প্রতি বাড়ির পাশের তাল গাছে, পুকুর পাড়ের তাল গাছে দেখা যেত। তাদের গড়া বাসা দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, তেমনি অনেক মজবুত। প্রবল ঝড়েও তাদের বাসা ভেঙে পড়ে না। এক সময় বিভিন্ন প্রজাতির বাবুই পাখি দেখা এই অঞ্চলে দেখা যেত। এরমধ্যে অনেক বাবুই এখন বিলুপ্তির পথে। টিকে আছে কিছু দেশি বাবুই। এদের বিলুপ্তির প্রধান কারণ উঁচু জাতীয় গাছ, তালগাছ কমে যাওয়া।

পাখিপ্রেমী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু হাসনাত মো. মহিউদ্দিন মুবিন বলেন, প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পাখিদের আবাসস্থল নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। সে জন্য প্রতিটি নাগরিকের উচিত গাছ লাগানো। বাবুই পাখিরা উঁচু গাছে বাসা বাঁধে। তাই তালগাছ, নারিকেল গাছ ও খেজুরগাছ লাগানো প্রয়োজন। এতে বিলুপ্তির পথে হাঁটা শিল্পীপাখি বাবুই আবারও আগের মতোই চোখে পড়বে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পাখিদের আবাসস্থল নিশ্চিত করার বিকল্প নেই।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কষ্ট করে জেতা আমাদের ডিএনএর অংশ: স্কালোনি

অস্ট্রেলিয়ায় ক্যানসার কাউন্সিলের তহবিল সংগ্রহে ‘গুড মর্নিং বাংলাদেশ লাকেম্বা’ অনুষ্ঠিত

এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য জরুরি নির্দেশনা

পানিতে ডুবে প্রাণ গেল বীর মুক্তিযোদ্ধার

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে যুবদলের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও ত্রাণ বিতরণ

মেয়েকে স্কুলে দিতে গিয়ে বাসচাপায় প্রাণ গেল বাবার

বিশ্বকাপ ব্যর্থতায় চাকরি গেল সেনেগাল কোচের

জাককানইবিতে আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসবে সম্মানিত হচ্ছেন আবুল হায়াত

টেকসই ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় সংসদ সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে: স্পিকার

ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল বঙ্গোপসাগর 

১০

কালো আর্মব্যান্ড পরে খেলল আর্জেন্টিনা, কিন্তু কেন?

১১

বন্যার্তদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে বেতন দেবেন গাজীপুরের সাংসদ ও সরকারি কর্মচারীরা

১২

ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে ‘অষ্টম নেহরীন খান স্মৃতি বক্তৃতা’ অনুষ্ঠিত

১৩

ফেরিকাণ্ডে সমালোচনা, যে ব্যাখ্যা দিলেন হান্নান মাসউদ

১৪

যুক্তরাষ্ট্রের ইরানবিদ্বেষী সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম মারা গেছেন

১৫

ধানমন্ডি ও গুলশান লেক নিয়ে সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত

১৬

পানিতে তলিয়ে আছে ৮০ গ্রাম, দুর্ভোগে হাতিয়া দ্বীপের বাসিন্দারা

১৭

সাত কলেজের পরীক্ষার ফলাফলে অনিয়ম ও অসংগতির অভিযোগ

১৮

ত্রাণসহ বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান হেফাজতের

১৯

সেমিফাইনালে গেলেই ফাইনাল খেলে আর্জেন্টিনা

২০
X