শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩
ব্রাহ্মণপাড়া (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর ২০২৩, ০৮:১০ এএম
আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২৩, ০৮:২৩ এএম
অনলাইন সংস্করণ

বিলুপ্তির পথে বাবুই

তালগাছে সারি সারি ঝুলছে বাবুই পাখির বাসা। ছবি : কালবেলা
তালগাছে সারি সারি ঝুলছে বাবুই পাখির বাসা। ছবি : কালবেলা

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় বিলুপ্তির পথে কবি রজনীকান্ত সেনের কালজয়ী ছড়ার শিল্পীপাখি বাবুই। এখন আর যত্রতত্র দেখা মেলে না তাদের। উঁচু গাছ বা তাল গাছের স্বল্পতা ও প্রকৃতিক বিপর্যয়ের কারণেই এমনটি হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। এতে পরিবেশের ভারসাম্যও নষ্ট হচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।

জানা গেছে, গ্রীষ্মকাল বাবুই পাখিদের প্রজনন ঋতু। এই সময় এরা বাসা বাঁধে। সাধারণত মে থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত বাবুই পাখির প্রজনন মৌসুম। স্ত্রী পাখির প্রেরণায় পুরুষ বাবুই পাখি মনের আনন্দে বিরামহীনভাবে বাসা তৈরির কাজ শেষ করে। একটি পুরুষ বাবুই পাখি একটি মৌসুমে প্রায় পাঁচ থেকে ছয়টি বাসা তৈরি করতে পারে। তবে প্রেমিক বাবুই পাখি যতই ভালোবাসা প্রকাশ করুক না কেন প্রেমিকা বাবুই পাখি ডিম দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রেমিক বাবুই আবার সঙ্গী খোঁজার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এভাবেই চলে বাবুইদের জীবনের গল্প।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কালের আবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে তাল পাতায় গড়া নিপুণ কারুকার্যে খচিত বাবুই পাখির বাসা। বাবুই পাখির প্রধান আবাসস্থল বাংলার ঐতিহ্য তালগাছ এখন আর তেমন দেখা যায় না, তাই তেমন একটা চোখে পড়ে না শিল্পীপাখি বাবুইরও। অথচ আজ থেকে প্রায় ১০ থেকে ১৫ বছর আগেও ওই এলাকার গ্রামগুলোর বাড়ির পাশের, মাঠ-ঘাটের তাল গাছে দেখা যেত এদের বাসা। দেখা যেত এদের শিল্পকর্মের নিপুণ দৃশ্য। বাবুই পাখির কিচিরমিচির শব্দও এখন স্মৃতির মতো।

স্থানীয় বাসিন্দা মুঞ্জুর আলী (৮১) বলেন, বাবুই এই অঞ্চলের প্রায় প্রতি বাড়ির পাশের তাল গাছে, পুকুর পাড়ের তাল গাছে দেখা যেত। তাদের গড়া বাসা দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, তেমনি অনেক মজবুত। প্রবল ঝড়েও তাদের বাসা ভেঙে পড়ে না। এক সময় বিভিন্ন প্রজাতির বাবুই পাখি দেখা এই অঞ্চলে দেখা যেত। এরমধ্যে অনেক বাবুই এখন বিলুপ্তির পথে। টিকে আছে কিছু দেশি বাবুই। এদের বিলুপ্তির প্রধান কারণ উঁচু জাতীয় গাছ, তালগাছ কমে যাওয়া।

পাখিপ্রেমী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু হাসনাত মো. মহিউদ্দিন মুবিন বলেন, প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পাখিদের আবাসস্থল নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। সে জন্য প্রতিটি নাগরিকের উচিত গাছ লাগানো। বাবুই পাখিরা উঁচু গাছে বাসা বাঁধে। তাই তালগাছ, নারিকেল গাছ ও খেজুরগাছ লাগানো প্রয়োজন। এতে বিলুপ্তির পথে হাঁটা শিল্পীপাখি বাবুই আবারও আগের মতোই চোখে পড়বে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পাখিদের আবাসস্থল নিশ্চিত করার বিকল্প নেই।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

টানা বর্ষণে মনপুরার ১০ গ্রাম প্লাবিত, পানিবন্দি ১৫ হাজার মানুষ

পটুয়াখালীতে ভারী বর্ষণে ভেসে গেছে কয়েক কোটি টাকার মাছ

সেমিফাইনালে কোন শক্তিধরের মুখোমুখি ফ্রান্স?

মেসিকে ছাড়িয়ে যেভাবে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে এগিয়ে এমবাপ্পে

চবিতে ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে হুমকি

ঘণ্টায় ২০০ কিমি বেগে তাণ্ডব চালাবে ‘সুপার টাইফুন’, অঞ্চলজুড়ে সতর্কতা

নাপিত ডেকে শিক্ষার্থীদের চুল কাটালেন সভাপতি, অভিভাবকদের সঙ্গে হাতাহাতি

টানা বর্ষণের পূর্বাভাস, ১৪ জেলায় ঝড়-বজ্রবৃষ্টির সতর্কতা

দারিদ্র্যের কাছে হার মানলেন বাবা-মা

সাঙ্গু নদে তলিয়ে গেল যুবদল কর্মী

১০

১০ জুলাই / ইতিহাসের এই দিনে

১১

কোম্পানিগঞ্জ থানার ওসি প্রত্যাহার

১২

ভিডিও কাঁপিয়েছিল দেশ, বছর পার হলেও শুরু হয়নি বিচার

১৩

মানিলন্ডারিং মামলায় কারাগারে ব্যাংক কর্মকর্তা, জানে না কর্তৃপক্ষ

১৪

শুক্রবার ছুটির দিনে বন্ধ থাকবে যেসব মার্কেট

১৫

অশ্রু, শোক আর ভালোবাসায় চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি 

১৬

সেতু গড়তে নদীর গলায় বাঁধের ফাঁস

১৭

১০ জুলাই / আজকের নামাজের সময়সূচি

১৮

বিদ্যুৎহীন রাঙামাটি শহর

১৯

রাতে খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে ২০ গ্রাম প্লাবিত, চরম দুর্ভোগে মানুষ

২০
X