বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩
ব্রাহ্মণপাড়া (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর ২০২৩, ০৮:১০ এএম
আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২৩, ০৮:২৩ এএম
অনলাইন সংস্করণ

বিলুপ্তির পথে বাবুই

তালগাছে সারি সারি ঝুলছে বাবুই পাখির বাসা। ছবি : কালবেলা
তালগাছে সারি সারি ঝুলছে বাবুই পাখির বাসা। ছবি : কালবেলা

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় বিলুপ্তির পথে কবি রজনীকান্ত সেনের কালজয়ী ছড়ার শিল্পীপাখি বাবুই। এখন আর যত্রতত্র দেখা মেলে না তাদের। উঁচু গাছ বা তাল গাছের স্বল্পতা ও প্রকৃতিক বিপর্যয়ের কারণেই এমনটি হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। এতে পরিবেশের ভারসাম্যও নষ্ট হচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।

জানা গেছে, গ্রীষ্মকাল বাবুই পাখিদের প্রজনন ঋতু। এই সময় এরা বাসা বাঁধে। সাধারণত মে থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত বাবুই পাখির প্রজনন মৌসুম। স্ত্রী পাখির প্রেরণায় পুরুষ বাবুই পাখি মনের আনন্দে বিরামহীনভাবে বাসা তৈরির কাজ শেষ করে। একটি পুরুষ বাবুই পাখি একটি মৌসুমে প্রায় পাঁচ থেকে ছয়টি বাসা তৈরি করতে পারে। তবে প্রেমিক বাবুই পাখি যতই ভালোবাসা প্রকাশ করুক না কেন প্রেমিকা বাবুই পাখি ডিম দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রেমিক বাবুই আবার সঙ্গী খোঁজার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এভাবেই চলে বাবুইদের জীবনের গল্প।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কালের আবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে তাল পাতায় গড়া নিপুণ কারুকার্যে খচিত বাবুই পাখির বাসা। বাবুই পাখির প্রধান আবাসস্থল বাংলার ঐতিহ্য তালগাছ এখন আর তেমন দেখা যায় না, তাই তেমন একটা চোখে পড়ে না শিল্পীপাখি বাবুইরও। অথচ আজ থেকে প্রায় ১০ থেকে ১৫ বছর আগেও ওই এলাকার গ্রামগুলোর বাড়ির পাশের, মাঠ-ঘাটের তাল গাছে দেখা যেত এদের বাসা। দেখা যেত এদের শিল্পকর্মের নিপুণ দৃশ্য। বাবুই পাখির কিচিরমিচির শব্দও এখন স্মৃতির মতো।

স্থানীয় বাসিন্দা মুঞ্জুর আলী (৮১) বলেন, বাবুই এই অঞ্চলের প্রায় প্রতি বাড়ির পাশের তাল গাছে, পুকুর পাড়ের তাল গাছে দেখা যেত। তাদের গড়া বাসা দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, তেমনি অনেক মজবুত। প্রবল ঝড়েও তাদের বাসা ভেঙে পড়ে না। এক সময় বিভিন্ন প্রজাতির বাবুই পাখি দেখা এই অঞ্চলে দেখা যেত। এরমধ্যে অনেক বাবুই এখন বিলুপ্তির পথে। টিকে আছে কিছু দেশি বাবুই। এদের বিলুপ্তির প্রধান কারণ উঁচু জাতীয় গাছ, তালগাছ কমে যাওয়া।

পাখিপ্রেমী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু হাসনাত মো. মহিউদ্দিন মুবিন বলেন, প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পাখিদের আবাসস্থল নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। সে জন্য প্রতিটি নাগরিকের উচিত গাছ লাগানো। বাবুই পাখিরা উঁচু গাছে বাসা বাঁধে। তাই তালগাছ, নারিকেল গাছ ও খেজুরগাছ লাগানো প্রয়োজন। এতে বিলুপ্তির পথে হাঁটা শিল্পীপাখি বাবুই আবারও আগের মতোই চোখে পড়বে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পাখিদের আবাসস্থল নিশ্চিত করার বিকল্প নেই।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইরাক থেকে ইরানে নেওয়া হচ্ছে খামেনির কফিন, আজ দাফন

সমালোচনার মুখে নিজেকে ‘লুকিয়ে’ ফেললেন আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের রেফারি

ট্রলারডুবির তিন দিন পরও নিখোঁজ ৬ জেলে

স্বর্ণের দামে ফের বড় পতন, ভরিতে কমলো কত?

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা

মোহাম্মদপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসীসহ গ্রেপ্তার ৭

যে ৫ অভ্যাস বদলে দিতে পারে পুরো দিন

স্টারমারকে তাজা গুলিসহ রিভলভার উপহার দিলেন এরদোয়ান

প্রাথমিক বৃত্তির ফল প্রকাশ আজ, দেখবেন যেভাবে

জাকসুর উদ্যোগে জাবিতে এক হাজার ফলদ-ঔষধি গাছ বিতরণ

১০

ভূমিকম্পে নিহতের সর্বশেষ সংখ্যা জানাল ভেনিজুয়েলা সরকার

১১

বদলির নির্দেশের দুই মাস পরও একই কর্মস্থলে পিআইও

১২

সংবিধানে ফিরছে গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা

১৩

রাজধানীর যেসব এলাকায় বসছে আরও ২০০ এআই ক্যামেরা

১৪

একযোগে কুয়েত ও বাহরাইনে হামলা চালাল ইরান

১৫

চমক নিয়ে জুলাইয়ে আসছে একগুচ্ছ নতুন স্মার্টফোন

১৬

আ.লীগ আমলে তিন বাহিনীর বঞ্চিতদের কাছে ফের আবেদন চাইল সরকার

১৭

যুদ্ধাপরাধের তোয়াক্কা না করে ইরানের রেলসেতুতে মার্কিন হামলা

১৮

টানা ৫ দিন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা

১৯

নতুন পে-স্কেলে গ্রেডভিত্তিক ইনক্রিমেন্টে পরিবর্তন আসছে

২০
X