কাঁচাবাজারে গিয়ে প্রতিনিয়ত হিমশিম খাচ্ছেন ক্রেতাসাধারণ। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষজন। এ শ্রেণির মানুষ যখন বাজারে গিয়ে মাছ-মাংস কিনতে না পেরে সবজির দিকে ঝুঁকছেন, তখন তা যেন আরও সাধ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে।
শুক্রবার (১১ নভেম্বর) শরীয়তপুরের বিভিন্ন কাঁচাবাজারগুলোতে ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন শাকসবজি, মাছ-মাংসসহ নিত্যপণ্যের দাম বেশ চড়া। এ দাম যেন চোখ রাঙিয়ে যাচ্ছে ক্রেতাদের। এতে ক্রেতাদের সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসায়ীরাও চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।
পাংল বাজারের সবজি বিক্রেতা রাসেল মাদবর কালবেলাকে বলেন, বেগুন ৬০-৮০ টাকা, শিম ৬০-৮৯ টাকা, পটোল ৪০-৫০ টাকা, গাজর ১২০-১৩০ টাকা, মুলা ৫০ টাকা, শসা ৫০ টাকা, ধনেপাতা কেজি প্রতি ২০০ টাকা, কেজি প্রতি কাঁচা মরিচ ২২০ টাকা, শজনে ডাঁটা ১২০ টাকা, লালশাক ৪০ টাকা, পালংশাক ৮০ টাকা ও লেবুর হালি ৩০ টাকা।
বাজার করতে আসা নজরুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, সবজির মূল্য আসলে আমাদের হাতে নেই, কিছু করারও নেই। তারা যে দামে বলবে, আমাদের সেই দামেই কিনে খেতে হবে। আবার অন্যান্য দিনের তুলনায় শুক্রবার দামও একটু বেশি থাকে। আমি একটি সরকারি চাকরি করি। যে বেতন পাই তাতে সংসার চালাতে আমার হিমশিম খেতে হয়। তার উপরে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের এভাবে লাগামহীন দাম বাড়তে থাকলে আমাদের বাঁচার উপায় থাকবে না। শুধু কি সবজির দামই বাড়ছে তা কিন্তু নয়, এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মাছ-মাংসের দামও বাড়ছে। গরুর মাংস কিনার মতো সাহস আমাদের নেই। যা-ও একটু ফার্মের মুরগি ও চাষের পাঙাশ মাছ কিনি, তাও এখন দাম বেড়েছে। আলু ভর্তা খাব তাও এখন ৫০ টাকা কেজি। এরপর ওষুধসহ নিত্যপণের দামতো ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। বাজার করে খেতে গিয়ে প্রতি মাসে দেনার নিচে পড়ছি। এক সময় বাপ-দাদার সম্পদ বিক্রি করে দেনা পরিশোধ করতে হবে।
মো. জিলানী নামের আরেক ক্রেতা বলেন, পাঙাশ মাছ কিনেছি ২৬০ টাকা কেজি করে। আলু, মুলা, পটোলসহ সকল সবজির দাম আগুন। একটি ছোট লাউ কিনছি ৯০ টাকা দিয়ে। এই হারে যদি দাম বৃদ্ধি হয় কিভাবে চলব আমরা নিম্নআয়ের মানুষ। আগামীতে এভাবে সবজির দাম বৃদ্ধি পেলে নুন ভাত ছাড়া আমাদের কপালে আর কিছুই জুটবে না।
সাকিব টেলিকমের মালিক রফিকুল ইসলাম কালবেলাকে জানান, পেঁয়াজের দাম আবার বাড়ছে। এখন ১২০ টাকা কেজিতে কিনে আনলাম, যা গত মাসে ৭০ টাকা নিয়েছিলাম। আর মাছ মাংসের কথা বলে কী হবে। ১ কেজি চিংড়ি মাছ কিনলাম ১ হাজার ১০০ টাকা করে। এভাবে প্রতিটি পণ্যের দাম বাড়তে থাকলে আমাদের আর উপায় থাকবে না।
বাজারে গরুর মাংস ৭৫০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি আকার ভেদে কেজি প্রতি ২০০-২৫০ টাকা, কক মুরগি ৩৫০ টাকা কেজি। আর ইলিশশূন্য বাজারে মাছের দাম বেশি। কাতলা মাছ ৮০০ টাকা কেজি, রুই মাছ ৬০০ টাকা কেজি। এ ছাড়া, নদীর চিংড়ি আকার ভেদে ৯০০ থেকে ১ হাজার ১০০০ টাকা কেজি।
মাছ কিনতে আসা জমির উদ্দিন আক্ষেপের সঙ্গে বলেন, এক মাস আগে মাছের দাম যেমন ছিল, তেমনই আছে। বরং বেড়েছে। কোনো দামই কমেনি। খেতে যেহেতু হবে, তাই কিছুই করার নেই। অনেক সময় মাছের দাম দেখে আলু ও ডিম কিনে চলে আসি। কি আর করব দুটা খেয়েতো বাঁচতে হবে।
মন্তব্য করুন