ডিমলা (নীলফামারী)
প্রকাশ : ১৭ নভেম্বর ২০২৩, ০৪:১২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

পাঁচ শিক্ষার্থী নিয়ে চলছে বিদ্যালয়

ছোটখাতা সরকারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছবি : কালবেলা
ছোটখাতা সরকারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছবি : কালবেলা

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার খালিশা চাপানি ইউনিয়নের ছোটখাতা সরকারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। যেখানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র পাঁচজন। অথচ তাদের পাঠদানের জন্য শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন চারজন।

বুধবার (১৫ নভেম্বর) দুপুর ১টার পর এমন চিত্রই দেখা গেছে বিদ্যালয়টিতে।

ওই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের শুধু উপস্থিতিই নয়, প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষকদের বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অনিয়ম এবং স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ। এসব বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ দিয়েও কোন প্রতিকার মিলছে না বলে জানান ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবক।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পঞ্চম শ্রেণিতে তিনজন, তৃতীয় শ্রেণিতে দুইজন এবং চতুর্থ শ্রেণিতে কোন শিক্ষার্থীই নেই। মাত্র পাঁচজন শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত আছে। আর শিক্ষক আছেন চারজন। উপস্থিত শিক্ষার্থীদের পাঠদান না করে অফিস কক্ষে বসে গল্প করছিলেন সহকারী শিক্ষক ফারমেনা ও মিলি। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নুরবানু হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে চলে গেছেন বাইরে।

মুঠোফোনে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, অফিসের কাজে বাইরে আছি। মুভমেন্ট খাতায় উল্লেখ করেননি কেন? বলতেই ফোন কেটে দেন। অপর সহকারী শিক্ষক আরজুমান বর্তমানে মাতৃত্বকালীন ছুটিতে। অফিস কক্ষ ধূলা-ময়লা আবর্জনা ও মাকড়সার জালে ভরপুর। এছাড়া প্রধান শিক্ষকের কক্ষের কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি। অথচ, সরকারি, বেসরকারি ও শায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে ছবি দুইটি টানানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

অফিস কক্ষে 'বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর' ছবি না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষকরা বলেন, ছবি চুরি হয়ে যায়, তাই অন্যত্র রেখে দিয়েছি। বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রী উপস্থিতি কতজন জানতে চাইলে তারা বলেন, এগুলো দেখার দায়িত্ব শিক্ষা অফিসারের, আপনাদের নয়। ২০২২-২৩ অর্থ বছরের শিশুশ্রেণির ১০ হাজার এবং স্লিপ বাবদ ৫০ হাজার টাকা কী কাজে ব্যবহার করেছেন জানতে চাইলে বলেন, 'খেয়ে ফেলেছি সব।' যা পারেন লেখেন।

স্থানীয়রা জানিয়েছে, ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বিদ্যালয়টি। এরপর ২০১৪ সালের জানুয়ারি মাসে সরকারিকরণ হয় ওই প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুসারে স্কুলটিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১০৪ জন। বর্তমানে সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মাত্র পাঁচজনে।

স্থানীয়দের অভিযোগ প্রধান শিক্ষক নুরবানুর খামখেয়ালিপনা, খিটখিটে মেজাজ আর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রূঢ় আচরণের কারণে প্রতিবছরই কমে যাচ্ছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা। অথচ আশপাশের সরকারি-বেসরকারি বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা সন্তোষজনক।

স্থানীয় বাসিন্দা মজিদা বেগম, কোহিনুর আক্তার, বিলকিস বানু, সুমতি বালা, কৈলাস চন্দ্র রায় বলেন, প্রধান শিক্ষক নুরবানু তার নিজের খেয়াল-খুশি মতো বিদ্যালয় পরিচালনা করেন। শিক্ষার্থীরা লেখা-পড়ায় অমনোযোগী হলেও বিষয়টি নিয়ে তার কোনো মাথা ব্যথা নেই। এমনকি পঞ্চম শ্রেণির একজন শিক্ষার্থী নিজের নামটাও ভালোভাবে লিখতে জানেন না। তাই এই স্কুলে বাচ্চাদের কেউ ভর্তি করতে চাচ্ছে না।

প্রধান শিক্ষক নুরবানু বলেন, আমাদের স্কুলে মোট শিক্ষার্থী ১০৪ জন। স্কুলের জায়গায় নতুন ভবন নির্মাণ হচ্ছে। এখানে অস্থায়ীভাবে ১৫ শতাংশ জায়গা কিনে শিক্ষা কার্যক্রম চলমান দেখেছি। নতুন ভবন নির্মাণ হলে শিক্ষার্থীর সংকট থাকবে না। ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুলমুখী করার জন্য হোমভিজিট চলমান রয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) এ কে এম সাজ্জাদুজ্জামান বলেন, সংশ্লিষ্ট সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পেলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নীলফামারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এ এম শাহজাহান সিদ্দিক বলেন, বিষয়গুলো খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিএনপি ছাড়া দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কেউ নেই : মির্জা ফখরুল

বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত : প্রধান উপদেষ্টা

রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলায় মিয়ানমারের বক্তব্যে ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ  

আরতি-পুষ্পাঞ্জলিতে বিদ্যাদেবীর আরাধনা, ‘মব’ রুখে দেওয়ার বার্তা

শরিয়া আইন নিয়ে ইসলামপন্থি দলগুলোর অবস্থান কী

ফিক্সিংয়ের অভিযোগে পদ ছাড়লেন বিসিবি পরিচালক শামীম

বিয়েতে রাজি না হওয়ায় অপহরণ, ১৫ দিনেও হদিস মেলেনি স্কুলছাত্রীর

দেশে প্রথম পূর্ণাঙ্গ স্পেশালাইজড ডেন্টাল হাসপাতাল চালু 

বিএনপি নেতা হাসান মোল্লাকে গুলি, উদ্বেগ প্রকাশ করে মির্জা ফখরুলের বার্তা

তানজিদ ঝড়ে রাজশাহীর সংগ্রহ ১৭৪

১০

এবার পুলিশ কমিশনার ভূমি পেডনেকর

১১

ঢাবি জগন্নাথ হলের সরস্বতী পূজায় মবতন্ত্রবিরোধী বার্তা

১২

ট্রাম্পের চাপে মুসলিম বিশ্ব ইসরায়েলকে সহায়তা করছে : ফজলুর রহমান

১৩

অবশেষে জানা গেল বিশ্বকাপ না খেলায় কত টাকার ক্ষতি হবে বাংলাদেশের

১৪

নির্বাচনী জনসভায় জামায়াত আমিরের তিন শর্ত

১৫

রাজধানীর ভাষানটেকে নির্বাচনী জনসভায় তারেক রহমান

১৬

বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি ও বুলিং প্রতিরোধে কাজ করবে ঢাবি-ব্র্যাক

১৭

মায়ের সঙ্গে পূজায় ইয়ালিনি

১৮

ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের গোপন আঁতাত ফাঁস

১৯

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে যা জানা গেল

২০
X