ঘন কুয়াশায় মেঘনার হাইমচর নামক স্থানে দুই যাত্রীবাহী লঞ্চের সংঘর্ষে সোহেল নামে একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন।
নিহত সোহেল চরফ্যাশন উপজেলার আমিনাবাদ ইউনিয়নের হাজী ওসমান আলি ফরাজী বাড়ির সেলিম ফরাজীর ছেলে এবং ইউপি সদস্য নুরে আলম ফরাজীর ভাতিজা। তার বাড়ি ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায়। তার দেড় বছর বয়সী এক কন্যাসন্তান রয়েছে। সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা তার স্ত্রী।
সোমবার (১১ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে মেঘনা নদীর হাইমচর নামক স্থানে সুরভী-৮ ও টিপু-১৪ লঞ্চের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সুরভী-৮ লঞ্চের পরিচালক মো. মিজানুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সুরভী-৮ লঞ্চে থাকা যাত্রী শাফায়াত আহমেদ রাজিব জানান, ভোলার ইলিশা লঞ্চঘাট থেকে প্রায় ২৫০ যাত্রী নিয়ে সুরভী-৮ লঞ্চটি ঢাকার সদরঘাটের উদ্দেশে সোমবার রাত ৯টায় ছেড়ে যায়। মেঘনা নদীর হাইমচর নামক স্থানে আসার পর ঢাকা থেকে ভোলার চরফ্যাশনগামী টিপু-১৪ লঞ্চের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে সুরভী-৮ লঞ্চটির ডান অংশ ভেঙে যায়। এ সময় লঞ্চটি হাইমচর নামক জায়গায় একটি ডুবো চরে আটকে পরে। এ ঘটনায় কয়েকজন যাত্রী আহত হন। আহতদের মধ্যে সোহেল মারা যান। এ ঘটনায় যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
সুরভী-৮ লঞ্চের পরিচালক মো. মিজানুর রহমান জানান, ঘন কুয়াশায় এ ঘটনা ঘটেছে। এতে সুরভী-৮ লঞ্চের প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। লঞ্চটি ঢাকার উদ্দেশে যাচ্ছে। নিহত এবং আহতরা লঞ্চেই আছে। এ বিষয়ে জানতে টিপু-১৪ লঞ্চের ইনচার্জকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ধরেননি। এদিকে গভীররাতে কালবেলার প্রতিনিধির মুঠোফোনে এ সংবাদ পেয়ে সোহেলের পরিবার কান্নায় ভেঙে পড়েন।
নিহতের চাচা নুরে আলম মেম্বার বলেন, ঢাকাতে দুই লঞ্চের সমঝোতা এবং আইনি সমাধানের পরে সন্ধ্যার লঞ্চেই সোহেলের মরদেহ ফেরত আনার চেষ্টা চলছে।
মন্তব্য করুন