শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩
রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১২ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৭:৪৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

টিআর-কাবিখার চাল ব্যবসায়ীদের গুদামে, পাচ্ছেন না সুবিধাভোগীরা

রায়পুরে টিসি সড়কে গুদামে টিআর-কাবিখার চাল বিক্রি করছেন ব্যবসায়ী। ছবি : কালবেলা
রায়পুরে টিসি সড়কে গুদামে টিআর-কাবিখার চাল বিক্রি করছেন ব্যবসায়ী। ছবি : কালবেলা

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে টিআর ও কাবিখার চাল প্রকল্প সভাপতিদের (মেম্বার) কাছ থেকে ব্যবসায়ীরা ৩০ টাকায় কিনে ৪০ টাকায় বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (১০ ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলা পরিষদের পেছনে টিসি সড়কে হারুন নামের ব্যবসায়ীর গুদামে প্রকল্পের চালের বস্তা দেখতে পাওয়া যায়। খবর পেয়ে দুজন সংবাদকর্মী তথ্য সংগ্রহে গিয়ে টিআর-কাবিখার চাল কিনা জানতে চাইলে ওই ব্যবসায়ী উত্তেজিত হয়ে পড়েন। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ দিলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

চাল ব্যবসায়ী ডিলার হারুনুর রশীদ বলেন, ‘রায়পুরে গোডাউন থেকে ৯ টন চাল কিনেছি আমি। বাকি চাল ও গম টিআর-কাবিখার চাল। আমি ছাড়াও ব্যবসায়ী ওসমান, কাসেম হাজারি, মো. মফিজ, শাকিল চৌধুরী ও ফারুখ হোসেন প্রকল্পের সভাপতিদের (মেম্বার) কাছ থেকে চালগুলো ৩০ টাকায় কিনে ৪০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। আমি চালগুলো দুই টাকা লাভে বিক্রি করছি। এভাবে আমি দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবসা করছি। আমার সব কাগজপত্র ঠিক আছে। তাই খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা কাগজপত্র যাচাই করে আমাকে বিক্রির অনুমতি দিয়েছেন।’

ব্যবসায়ীরা জানান, ভিজিএফ বা ১৫ টাকা কেজি দরে সরকারিভাবে বিক্রি হওয়া চালের অনেক কার্ডধারী ব্যক্তিই এসব চাল নিজেরাই কেনেন। পরে ছোট ব্যবসায়ীরা সেসব চাল আবার বড় ব্যবসায়ী বা ডিলারদের কাছে বিক্রি করেন। এ ছাড়া টিআর ও কাবিখার চাল যারা বরাদ্দ পান তারা অনেক সময় ডিলারদের কাছে বিক্রি করে নগদ টাকা নিয়ে নেন।

রায়পুরের চরবংশী ও চরআবাবিল ইউপির কয়েকজন শ্রমিক জানান, মেম্বাররা কখনোই আমাদের চালের কথা বলেন না। আবার আমাদের ছাড়াই ভেকু মেশিনে মাটি কাটার কাজ করছেন। শুনেছি মেম্বার ও চেয়ারম্যানরা শহরের কয়েকজন ডিলারের কাছে কম দামে বিক্রি করছেন। সেগুলো কিনে ডিলাররা বেশি দামে মিল মালিক ও অন্যদের কাছে বিক্রি করছেন। আমরা জানতে চাইলে ক্ষতি হবে বলে হুমকি দেন।

রায়পুর উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অসিম চন্দ্র বর্ধন বলেন, ‘টিআর, জিআর ও কাবিখার চাল খোলা বাজারে বিক্রির বিষয়ে জানি না। গত মে মাসের আগে টিআর-কাবিখার চাল ও গম ডিও দেওয়া হয়েছে। আমাদের গুদাম থেকে কোনো চাল বেড়িয়ে গেলে আমাদের আর কোনো দায়-দায়িত্ব থাকে না। কোনো গুদামে সরকারি বস্তায় চাল পাওয়া গেলেও আমাদের দেখার কোনো বিষয় নেই। যে কেউ সরকারি চাল কিনে বিক্রি করে থাকেন। মেম্বার ও চেয়ারম্যানও তা করেন।’

রায়পুরে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আশিকুর রহমান এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। তবে খাদ্য কর্মকর্তা মাইনুল হোসেন বলেন, ডিলাররা আগে এসব চাল কিনতে পারতেন না। এখন সরকার অনুমতি দেওয়ায় তা প্রকল্পের সভাপতিদের (মেম্বার) কাছ থেকে কিনছেন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মেসিকে ছাড়িয়ে যেভাবে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে এগিয়ে এমবাপ্পে

চবিতে ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে হুমকি

ঘণ্টায় ২০০ কিমি বেগে তাণ্ডব চালাবে ‘সুপার টাইফুন’, অঞ্চলজুড়ে সতর্কতা

নাপিত ডেকে শিক্ষার্থীদের চুল কাটালেন সভাপতি, অভিভাবকদের সঙ্গে হাতাহাতি

টানা বর্ষণের পূর্বাভাস, ১৪ জেলায় ঝড়-বজ্রবৃষ্টির সতর্কতা

দারিদ্র্যের কাছে হার মানলেন বাবা-মা

সাঙ্গু নদে তলিয়ে গেল যুবদল কর্মী

১০ জুলাই / ইতিহাসের এই দিনে

কোম্পানিগঞ্জ থানার ওসি প্রত্যাহার

ভিডিও কাঁপিয়েছিল দেশ, বছর পার হলেও শুরু হয়নি বিচার

১০

মানিলন্ডারিং মামলায় কারাগারে ব্যাংক কর্মকর্তা, জানে না কর্তৃপক্ষ

১১

শুক্রবার ছুটির দিনে বন্ধ থাকবে যেসব মার্কেট

১২

অশ্রু, শোক আর ভালোবাসায় চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি 

১৩

সেতু গড়তে নদীর গলায় বাঁধের ফাঁস

১৪

১০ জুলাই / আজকের নামাজের সময়সূচি

১৫

বিদ্যুৎহীন রাঙামাটি শহর

১৬

রাতে খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে ২০ গ্রাম প্লাবিত, চরম দুর্ভোগে মানুষ

১৭

দক্ষিণ লেবাননের প্রথম ‘পাইলট জোন’ ছাড়তে যাচ্ছে ইসরায়েল

১৮

সেমিফাইনালে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ কে?

১৯

বিশ্বকাপে ব্রাজিল-জার্মানির পর যে রেকর্ড গড়ল ফ্রান্স

২০
X