মৌলভীবাজারে ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে আছে গোটা জনপদ। কনকনে ঠান্ডা ও হিমেল হাওয়ার কারণে স্বাভাবিক জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশা দেখা যাচ্ছে।
মঙ্গলবার (২ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়ছে। শীতের কারণে ছিন্নমূল, বস্তিবাসী ও দিনমজুররা পড়েছেন সীমাহীন ভোগান্তিতে। শীতবস্ত্রের অভাবে বিপাকে পড়েছে অসহায় মানুষগুলো। গত কয়েকদিন ধরে মৌলভীবাজার জেলায় শ্রীমঙ্গলে তাপমাত্রা ওঠানামা করছে। বিকেল হলে শীতের তীব্রতা বেড়ে তা সকাল পর্যন্ত থাকছে।
ধীরে ধীরে এর তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। শীতজনিত রোগে প্রতিদিন উপজেলা হাসপাতালের আউটডোরে শিশু ও বয়স্কদের ভিড় বেড়েছে। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। এদিকে গরম কাপড়ের দোকানে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের ভিড় বাড়ছে।
স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যার পর শীতের মাত্রা বাড়তে থাকে। রাত যত বাড়ে শীতের তীব্রতা তত বাড়তে থাকে। তবে সকাল ১০টার দিকে তাপমাত্রা বেড়ে বিকেল পর্যন্ত তা স্বাভাবিক থাকে। তীব্র শীতের মধ্যেই জীবিকার তাগিদে নিম্ন আয়ের মানুষ ভোরে বাড়ি থেকে বের হচ্ছে। তাদের অনেকেই পাথর শ্রমিক, চা শ্রমিক, ভ্যানচালক ও দিনমজুর।
শীতের কারণে বাড়তে শুরু করেছে শীতজনিত রোগব্যাধি। জেলা ও উপজেলার হাসপাতালগুলোতে ঠান্ডাজনিত রোগী বাড়তে শুরু করেছে। শীত মোকাবিলায় জেলা-উপজেলা প্রশাসনের ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার পর্যবেক্ষক মো. আনিছুর রহমান জানান, সকাল ৯টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। তাপমাত্রার এ অবস্থা আরও কয়েক দিন থাকতে পারে।
শ্রীমঙ্গল ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরী জানান, শীতে শিশুদের নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার প্রকোপ কিছুটা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বৃদ্ধরা শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. চৌধুরী জালাল উদ্দিন মুর্শেদ জানান, জেলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে শীত ও শীতজনিত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বেশি।
মন্তব্য করুন