দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) আসনে আওয়ামী লীগের ছেড়ে দেওয়া আসনে জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী নুরুল ইসলাম তালুকদার শুধু পরাজিতই হয়নি জামানতও খুঁইয়েছেন। পরপর দুবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্যের এ ভরাডুবির পেছনে নানা কারণ রয়েছে বলে মনে করছেন ভোটাররা।
তাদের মতে, দুবারে ১০ বছর ক্ষমতায় থাকাকালে তিনি এলাকায় জনগণের সঙ্গে না মিশে ভোটারদের খোঁজখবর না নিয়ে বেশিরভাগ সময় ঢাকায় অবস্থান করেছেন। মহাজোটের এমপি হয়েও তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও জোটের অন্যান্য শরিকদের কোনো খোঁজখবরও রাখেননি। কারও কোনো উপকার করেননি। নেতাকর্মীরা তার কাছে গেলে তিনি দুর্ব্যবহার করেছেন। ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে নিজের আখের গুজিয়েছেন। এসব কারণে স্থানীয় আওয়ামী লীগ তার ওপর থেকে মুখ সরিয়ে নিয়েছেন।
নুরুল ইসলাম তালুকদার ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থী হয়ে লাঙ্গল মার্কা প্রতীক নিয়ে বিএনপির প্রার্থী (ধানের শীষ) মাসুমা মোমিনকে পরাজিত করে এমপি নির্বাচিত হন।
এবারের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী (ট্রাক) আদমদীঘি উপজেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক খান মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ আল মেহেদী বাঁধনের কাছে পরাজিত হয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আদমদীঘি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অজয় কুমার সরকার (কাঁচি)।
বাঁধন পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৭৫০ ভোট ও অজয় পেয়েছেন ২৩ হাজার ৮১৫ ভোট এবং বর্তমান এমপি নুরুল ইসলাম তালুকদার পেয়েছেন ১০ হাজার ৫২৩ ভোট। ১২ শতাংশ ভোট পেতে ব্যর্থ হওয়ায় তিনি জামানত হারিয়েছেন।
এই আসনে প্রথমে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম খান রাজুকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। পরে সমঝোতায় ১৭ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন রাজু। কিন্তু জাতীয় পার্টির প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে ভোটের প্রচারণা বিষয়ে কোনো যোগাযোগও করেননি। বাধ্য হয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দলের স্বতন্ত্র দুই প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা করেন।
গত ৩ জানুয়ারি আদমদীঘি ও দুপচাঁচিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভা করেন। সেই সভায় আওয়ামী লীগের নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং এত পরে তাদের নিয়ে বসে নির্বাচনের ফল ভালো হবে কি না সন্দেহ প্রকাশ করেন। কিন্তু তারপরেও ওই সভায় আওয়ামী লীগ নেতারা পূর্বের অসহযোগিতার কথা ভুলে গিয়ে নির্বাচন করার ঘোষণা দিলেও মাঠে নেমে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র দুই প্রার্থীর পক্ষে কাজ করা তৃণমূলের নেতাকর্মীদের আর ফেরাতে পারেননি।
দুপচাঁচিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক মুঠোফোনে বলেন, জাতীয় পার্টির প্রার্থী নুরুল ইসলামের পরাজয়ের কারণ এই এলাকায় জাতীয় পার্টির দুর্বল সংগঠন এবং গণমানুষের সঙ্গে ১০ বছরে কোনো সম্পৃক্ততা না থাকা।
পরাজয় ও জামানত হারানো প্রসঙ্গে বগুড়া-৩ আসনের এমপি নুরুল ইসলাম তালুকদার মুঠোফোনে বলেন, তিনি দুবারে এ আসনে এমপি থেকে এলাকায় স্কুল-কলেজ, রাস্তাঘাটসহ সাধ্যমতো উন্নয়ন করেছেন। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ওপরে ওপরে আমার ভোট করলেও তলে তলে তারা তাদের দলীয় স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে ভোট করায় মূলত আমার পরাজয় হয়েছে।
মন্তব্য করুন